ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

বীর্য কি মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজর থেকে বের হয়?

বীর্য কি মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজর থেকে বের হয়? কুরআনে কি বৈজ্ঞানিক ভুল? সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতের তাফসীরি ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ!

অর্থাৎ কুরআন বলছে, শুক্রাণু বা বীর্য মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজরের মাঝখান থেকে বের হয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলে, শুক্রাণু অণ্ডকোষে তৈরি হয় এবং বীর্যের বিভিন্ন উপাদান প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থি ও অঙ্গ থেকে আসে। তাই আপাতদৃষ্টিতে একে বৈজ্ঞানিক ভুল মনে হচ্ছে।

জবাব—১ঃ কোরআন মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজরের মধ্য থেকে বীর্য বের হওয়ার কথা বলেনি

কোরআন মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজরের মধ্য থেকে বীর্য বের হওয়ার কথা বলেনি; বরং বলেছে— الصُّلْبُ (আস-সুলবু) ও التَّرَائِبُ (আত-তারায়িব)-এর মধ্য থেকে এটি বের হয়। الصُّلْبُ (আস-সুলবু) অর্থ ‘মেরুদণ্ড’ বা ‘পৃষ্ঠদেশ’—এই অর্থ ঠিক আছে। কিন্তু التَّرَائِبُ (আত-তারায়িব)-এর অর্থ শুধু ‘বক্ষপাঁজর’ নয়, বরং দুই হাত ও দুই পা এবং শরীরের সামনের দিকের অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।

এখন আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে? অণ্ডকোষ শুক্রাণু তৈরি করে এবং সেমিনাল ভেসিকল (Seminal Vesicles) ও প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডসহ (Prostate Gland) অন্যান্য প্রজনন অঙ্গ বীর্যের তরল উপাদান গঠনে ভূমিকা রাখে। আর বীর্য গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই অঙ্গগুলো দেহের অভ্যন্তরে, মেরুদণ্ডের সামনের দিকে এবং দুই হাত ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী দেহসীমার মধ্যে অবস্থিত।

সুতরাং, কুরআনে তাহলে বৈজ্ঞানিক ভুলটা কোথায়? কুরআনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভুল নেই!

এবার দলিল দেখুন! কোথায় উল্লেখ আছে ‘التَّرَائِب’ (আত-তারায়িব) শব্দটির অর্থ কেবল ‘বক্ষপাঁজর’ নয়, বরং দুই হাত ও দুই পা এবং শরীরের সামনের দিকের অংশও এর অন্তর্ভুক্ত?

আরবি ভাষা, অভিধান ও ব্যাকরণের ক্ষেত্রে সর্বজনগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ আরবি অভিধান ‘লিসানুল আরব’-এ التَّرَائِبُ (আত-তারায়িব)-এর একাধিক প্রাচীন অর্থ সংরক্ষিত হয়েছে। সেখানে বক্ষপাঁজর অর্থের পাশাপাশি বলা হয়েছে:

وَقِيلَ: التَّرَائِبُ الْيَدَانِ وَالرِّجْلَانِ وَالْعَيْنَانِ

অর্থ: “আর বলা হয়েছে: তারায়িব হলো দুই হাত, দুই পা ও দুই চোখ।”

একই জায়গায় আরও বলা হয়েছে,

التَّرائبُ: مَا تقدَّم অর্থ: “আত-তারায়িব হলো সামনের দিকের অংশ।”

আরও বলা হয়েছে, সর্বসম্মতিক্রমে التَّرَائِبُ (আত-তারায়িব)-এর আরেকটি অর্থ হলো বুকের সেই স্থান, যেখানে কণ্ঠহার শোভা পায়।[1]রেফারেন্স: ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব, ১/২৩০, দারু সাদের, বৈরুত, লেবানন। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1687/230

ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে তাবারী-তেও এই অর্থগুলো উল্লেখ করেছেন এভাবে—

​هُوَ الْيَدَانِ وَالرِّجْلَانِ وَالْعَيْنَانِ
​অর্থ: তা (তারায়েব) হলো (মানুষের) দুই হাত, দুই পা এবং দুই চোখ।
[2]​রেফারেন্স:
তাফসীরে তাবারী (জামে‘উল বায়ান), ২৪/৩৫৫, দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস, মক্কা মুকাররমা, সৌদি আরব। অনলাইনে দেখতে: https://shamela.ws/book/43/14261

জবাব—২ঃ পুরো দেহ বা ব্যক্তিসত্তাকে বোঝানো হয়েছে

সূরা আত-ত্বারিকের ৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত “الصُّلْبِ” (সুলব) ও “التَّرَائِبِ” (তারায়িব) শব্দ দুটি দ্বারা মানুষের বিশেষ কোনো অঙ্গকে নির্দেশ করা হয়নি; বরং এর মাধ্যমে পুরো দেহ বা পূর্ণ ব্যক্তিসত্তাকে বোঝানো হয়েছে।

আর যেহেতু মানুষের পূর্ণাঙ্গ শারীরিক দেহের মধ্যেই প্রজনন-ব্যবস্থার অঙ্গগুলো অবস্থিত এবং সেখানেই শুক্রাণু ও বীর্যের বিভিন্ন উপাদান উৎপন্ন হয়, তাই এতে কোনো বৈজ্ঞানিক ভুল নেই।

দলীল—  প্রায় দুই শত বছর আগে, উনবিংশ শতাব্দীর মুফাসসির ইমাম আলূসী (রহিঃ) তাঁর ‘রূহুল মা‘আনী’ তাফসীরে লিখেছেন—

لَوْ جُعِلَ مَا بَيْنَ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ كِنَايَةً عَنِ الْبَدَنِ كُلِّهِ لَمْ يَبْعُدْ.

অর্থ: যদি সুলব ও তারায়িব -এর মধ্যবর্তী স্থান’-কে সমগ্র দেহের প্রতি ইঙ্গিতকারী রূপক হিসেবে ধরা হয়, তবে তা মোটেই অযৌক্তিক হবে না।[3]রেফারেন্স: রূহুল মা‘আনী ফী তাফসীরিল কুরআনিল ‘আযীম ওয়াস-সাব‘ইল মাসানী, ১৫/৩০৯, দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/22835/6255

আরও একটি উদাহরণ:

এমন আরেকটি উদাহরণ সরাসরি কুরআন থেকেই পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা সূরা লাহাবে আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হওয়ার কথা বলেছেন। অথচ “দুই হাত” দ্বারা শুধু হাতের দুটি অঙ্গ বোঝানো হয়নি; বরং হাতের উল্লেখের মাধ্যমে স্বয়ং আবু লাহাবকেই, অর্থাৎ পুরো ব্যক্তিসত্তাকে বোঝানো হয়েছে। আর এই দৃষ্টান্তটি আরবি অলংকারশাস্ত্রে একেবারেই স্বীকৃত। যেমন প্রাচীন মুফাসসির ইমাম বাগাভী (রহিঃ) তাঁর ‘তাফসীরে বাগাভী’-তে বলেন—

أَخْبَرَ عَنْ يَدَيْهِ، وَالْمُرَادُ بِهِ نَفْسُهُ عَلَى عَادَةِ الْعَرَبِ فِي التَّعْبِيرِ بِبَعْضِ الشَّيْءِ عَنْ كُلِّهِ.

অর্থ: এখানে তাঁর দুই হাতের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এর দ্বারা তাঁর নিজের সত্তাকেই বোঝানো হয়েছে। এটি আরবদের একটি রীতি—যেখানে কোনো একটি অংশের মাধ্যমে সমগ্রকে বোঝানো হয়।[4]রেফারেন্স: তাফসীরে বাগাভী বা মা‘আলিমুত তানযীল, ৮/৫৭৮, দারু ত্বইবাহ লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী‘, রিয়াদ, সৌদি আরব। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/41/3540

জবাব—৩ঃ কোরআনে মানুষ বের হওয়ার কথাও বলা হয়ে থাকতে পারে

“বীর্য বের হয় সুলব ও তারায়িবের মধ্য থেকে”—এটি সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতের একটি সম্ভাব্য অনুবাদ; তবে এটি একমাত্র বা চূড়ান্ত অনুবাদ নয়। এই আয়াতের আরেকটি অনুবাদ হচ্ছে— “মানুষ বের হয় সুলব ও তারায়িবের মধ্য থেকে।”

অর্থাৎ, মানুষ পিতা-মাতার সুলব ও তারায়িবের মধ্যবর্তী দেহগত সত্তা থেকে উৎপন্ন হয়, কিংবা পিতা-মাতার দেহগত সত্তার মধ্য থেকেই নতুন মানুষের সৃষ্টি হয়।

এবার দেখুন, আরবি ব্যাকরণ ও প্রাচীন তাফসীরের আলোকে কীভাবে সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতের একটি গ্রহণযোগ্য অর্থ—“মানুষ বের হয় সুলব ও তারায়িবের মধ্য থেকে।”

Read More...  বোরাক এবং নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর বিবাহ!

সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আরবি শব্দ আছে— يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু), যার অর্থ বের হয়।

আরবি ব্যাকরণে يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-কে বলা হয় فِعْلٌ (ফি‘লুন)। বাংলায় একে বলা হয় ক্রিয়া, আর ইংরেজিতে বলা হয় Verb (ভার্ব)।

আর আরবি ভাষায় একটি فِعْلٌ (ফি‘লুন)-এর সঙ্গে সাধারণত একজন فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) থাকে। বাংলায় যেমন ক্রিয়ার একজন কর্তা থাকে, তেমনি ইংরেজিতে একটি Verb (ভার্ব)-এর সঙ্গে Subject (সাবজেক্ট) থাকে।

এখন এখানে প্রশ্ন হচ্ছে— يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু) فِعْلٌ (ফি‘লুন)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) কে হবে? এ সম্পর্কে তাফসীরগ্রন্থগুলোতে দুটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) হবে সূরা আত-তারিকের ৬ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত مَاءٍ (মা-ইন) শব্দটি, অর্থাৎ বীর্য বা তরল পদার্থ। এই মত অনুযায়ী সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতের অর্থ হবে— “বীর্য বের হয় সুলব ও তারায়িবের মধ্য থেকে।”

আবার কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন, يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ হবে সূরা আত-তারিকের ৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু), অর্থাৎ মানুষ। এই মত অনুযায়ী সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতের অর্থ হবে— “মানুষ বের হয় সুলব ও তারায়িবের মধ্য থেকে।”

অতএব, এ বিষয়ে দুটি মতই পাওয়া যায়। ফলে সূরা আত-তারিকের ৭ নম্বর আয়াতেকে শুধু “বীর্য বের হয়…”—এই একটি অনুবাদেই সীমাবদ্ধ করা ঠিক নয়; বরং “মানুষ বের হয়…”—এই তাফসীরি ব্যাখ্যারও প্রাচীন ভিত্তি রয়েছে।

এখন আমরা যদি يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু), অর্থাৎ ‘মানুষকে’ ধরি, তাহলে এতে কোনো বৈজ্ঞানিক ভুল নেই। কারণ মানুষ পিতা-মাতার সুলব ও তারায়িবের মধ্যবর্তী দেহগত সত্তা থেকে উৎপন্ন হয়—অর্থাৎ পিতা-মাতার দেহগত সত্তা থেকেই নতুন মানুষের সৃষ্টি হয়।

​অন্যদিকে, আমরা যদি يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) مَاءٍ (মা-ইন), অর্থাৎ ‘বীর্য বা তরল পদার্থকে’ ধরি, তাহলে এই অর্থেও কোনো বৈজ্ঞানিক ভুল নেই, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

এবার প্রমাণ দেখুন—কোন কোন মুফাসসির يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু), অর্থাৎ মানুষকে উল্লেখ করেছেন।

১. ইমাম মাহদাবী (রহিঃ)-এর বক্তব্য ইমাম কুরতুবী (রহিঃ) তাঁর ‘তাফসীরে কুরতুবী’-তে নকল করে উল্লেখ করেছেন। মাহদাবী (রহিঃ)-এর বক্তব্য:

وَمَنْ جَعَلَهُ مِنْ بَيْنِ صُلْبِ الرَّجُلِ وَتَرَائِبِ الْمَرْأَةِ، فَالضَّمِيرُ لِلْإِنْسَانِ.

অর্থ: আর যে ব্যক্তি এটিকে পুরুষের সুলব ও নারীর তারায়িব-এর মধ্যবর্তী স্থান থেকে বলেছেন, তার মতে ‘يَخْرُجُ’ (ইয়াখরুজু)-এর গোপন সর্বনামটি মানুষের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।অতএব, এখানে يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) হলো الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু), অর্থাৎ মানুষ।[5]রেফারেন্স: তাফসীরে কুরতুবী বা আল-জামে‘ লি-আহকামিল কুরআন, ২০/৭, দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ, কায়রো, মিসর। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/20855/7196

ইমাম মাহদাবী (রহিঃ) হিজরি পঞ্চম শতকের একজন প্রাচীন মুফাসসির। অর্থাৎ এই ব্যাখ্যাটি আধুনিক যুগের নয়; প্রায় এক হাজার বছর আগের তাফসীরি ঐতিহ্যের মধ্যেই يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) হিসেবে الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু) অর্থাৎ মানুষকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

২. ইমাম মক্কী ইবনু আবি তালিব (রহিঃ) তিনি তাঁর তাফসীর গ্রন্থ ‘আল-হিদায়াতু ইলা বুলূগিন নিহায়াহ’-তে আরও পরিষ্কারভাবে বলেছেন—

يَخْرُجُ الْإِنْسَانُ مِنْ بَيْنِ صُلْبِ الرَّجُلِ وَتَرَائِبِ الْمَرْأَةِ.

অর্থ: মানুষ পুরুষের সুলব ও নারীর তারায়িব -এর মধ্য থেকে বের হয়।এরপর তিনি বলেন— وَمَعْنَى الْكَلَامِ: مِنْهُمَا. অর্থ: কথাটির অর্থ হলো: উভয়ের মধ্য থেকে।

এখানে তিনি يَخْرُجُ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) হিসেবে الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু) অর্থাৎ মানুষকে একেবারে সরাসরি উল্লেখ করেছেন।

আর একই জায়গায় তিনি ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিঃ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন—

وَقَالَ سُفْيَانُ: الصُّلْبُ صُلْبُ الرَّجُلِ، وَالتَّرَائِبُ تَرَائِبُ الْمَرْأَةِ فَوْقَ الثَّدْيَيْنِ، فَالضَّمِيرُ فِي يَخْرُجُ عَلَى هَذَا الْقَوْلِ لِلْإِنْسَانِ.

অর্থ: সুফিয়ান (রহিঃ) বলেছেন, সুলব (মেরুদণ্ড) হলো পুরুষের সুলব (মেরুদণ্ড) এবং তারায়িব (বক্ষপাঁজর) হলো নারীর তারায়িব (বক্ষপাঁজর), যা দুই স্তনের ওপরের অংশ। অতএব, এই মত অনুযায়ী ‘يَخْرُجُ’ (ইয়াখরুজু)-এর সর্বনামটি মানুষের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।[6]রেফারেন্স: আল-হিদায়োহ ইলা বুলূঘিন নিহায়োহ ফী ‘ইলমি মা‘আনিল কুরআনি ওয়া তাফসীরিহী, ১২/৮১৯৪-৮১৯৫, জামি‘আতুশ শারিক্বাহ, শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/22593/8083

লক্ষ্য করুন! এটিও কোনো আধুনিক যুগের তাফসীর নয়। প্রায় এক হাজার বছর আগে, হিজরি পঞ্চম শতকের বিশিষ্ট মুফাসসির ইমাম মক্কী ইবনু আবি তালিব (রহিঃ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ ‘আল-হিদায়াহ’-তে ‘يَخْرُجُ’ (ইয়াখরুজু)-এর فَاعِلٌ (ফা‘ইলুন) হিসেবে الْإِنْسَانُ (আল-ইনসানু) অর্থাৎ মানুষকে সরাসরি উল্লেখ করেছেন।

তিনি লিখেছেন: ‘يَخْرُجُ الْإِنْسَانُ مِنْ بَيْنِ صُلْبِ الرَّجُلِ وَتَرَائِبِ الْمَرْأَةِ’—অর্থাৎ, ‘মানুষ পুরুষের সুলব ও নারীর তারায়িব-এর মধ্য থেকে বের হয়।’ অর্থাৎ পিতা-মাতার দেহগত সত্তার মধ্য থেকেই নতুন মানুষের সৃষ্টি হয়।

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 রেফারেন্স: ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব, ১/২৩০, দারু সাদের, বৈরুত, লেবানন। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1687/230
2 ​রেফারেন্স:
তাফসীরে তাবারী (জামে‘উল বায়ান), ২৪/৩৫৫, দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস, মক্কা মুকাররমা, সৌদি আরব। অনলাইনে দেখতে: https://shamela.ws/book/43/14261
3 রেফারেন্স: রূহুল মা‘আনী ফী তাফসীরিল কুরআনিল ‘আযীম ওয়াস-সাব‘ইল মাসানী, ১৫/৩০৯, দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/22835/6255
4 রেফারেন্স: তাফসীরে বাগাভী বা মা‘আলিমুত তানযীল, ৮/৫৭৮, দারু ত্বইবাহ লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী‘, রিয়াদ, সৌদি আরব। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/41/3540
5 রেফারেন্স: তাফসীরে কুরতুবী বা আল-জামে‘ লি-আহকামিল কুরআন, ২০/৭, দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ, কায়রো, মিসর। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/20855/7196
6 রেফারেন্স: আল-হিদায়োহ ইলা বুলূঘিন নিহায়োহ ফী ‘ইলমি মা‘আনিল কুরআনি ওয়া তাফসীরিহী, ১২/৮১৯৪-৮১৯৫, জামি‘আতুশ শারিক্বাহ, শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত। অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/22593/8083
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button