‘পিতার লজ্জাস্থান কামড়ানোর নির্দেশ’ হাদিসের প্রকৃত অর্থ কী?

অনেক নাস্তিক এবং হাদিস অস্বীকারকারী ব্যক্তি মিশকাতুল মাসাবিহের একটি হাদিস উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চরিত্র সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে থাকে। তাদের দাবি হাদিসে নাকি রাসূলুল্লাহ ﷺ কাউকে তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়াতে বলেছেন! এরপর তারা এই বক্তব্যকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কথিত অশ্লীলতা ও কুৎসিত চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। নাউযুবিল্লাহ!
কিন্তু কোনো হাদিসের একটি বাক্যকে তার প্রেক্ষাপট, আরবি ভাষার ব্যবহার, উদ্দেশ্য এবং ব্যাখ্যা থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করলে তার প্রকৃত অর্থ বিকৃত হয়ে যায়।
অতএব, আবেগ দিয়ে নয়; বরং হাদিসটি প্রথমে কী বলেছে, কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে এবং মুহাদ্দিসগণ এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
জাতিয়তাবাদের হাদিসে লিঙ্গ শব্দটি এসেছে?
প্রথমে হাদিসটি দেখা যাক, হাদিসে এসেছে:
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَزَّى بِعَزَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَعِضُّوهُ بِهَنِ أبِيهِ وَلَا تُكَنُّوا
অর্থঃ উবাই ইবনু কা‘ব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নিজেকে জাহিলিয়্যাতের গৌরবে গৌরবান্বিত করে, তার দ্বারা তার পিতৃ-পুরুষের লজ্জাস্থানকে কর্তন করাও। আর এ কথাগুলো তাকে ইঙ্গিতে নয়; বরং পরিষ্কার ভাষায় বলে দাও। [1]মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং : ৪৯০২ (সহীহ) শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩৫৪১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৬৯, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৮৮৬৪, আহমাদ ২১২৩৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩৭১৮২।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
«تَعَزَّى بِعَزَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ»
অর্থাৎ—জাহেলিয়াতের পরিচয়, বংশগৌরব ও গোত্রগত অহংকারকে অবলম্বন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।
সুতরাং হাদিসটির বিষয় যৌনতা বা অশ্লীলতা নয়; বরং গোত্রবাদী অহংকার ও জাহেলিয়াতের পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি করা।
তাহলে «بِهَنِ أَبِيهِ» অর্থ কী? এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘জিনিস’। এর শাব্দিক অর্থ লিঙ্গ বা লজ্জাস্থান নয়। যদিও এই ‘জিনিস’ কথাটির দ্বারা আরবি ভাষায় লজ্জাস্থানের দিকেও অনেক ক্ষেত্রে ইঙ্গিত করা হয়; যে কারণে লিঙ্গ/লজ্জাস্থান ইত্যাদি শব্দ দ্বারা হাদিসের অনুবাদ করা হয়েছে (এই অনুবাদ সঠিক)। তবে শাব্দিকভাবে এর অর্থ লজ্জাস্থান/লিঙ্গ/পুরুষাঙ্গ নয়, বরং রুপক অর্থে এটি সঠিক হতে পারে।
এই শব্দটির অর্থ আলোচনা করতে গিয়ে ইবনুল আসির (র.) [মৃত্যুঃ ৬০৬ হিজরি] বলেছেন,
كناية عن الشيء لا تَذْكُره باسْمِه
অর্থঃ “যেসব জিনিসের নাম সরাসরি উচ্চারণ করা যায় না, সেগুলোর বদলে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।”[2]الدرر السنية – غريب الحديث
এখানেই আপত্তিকারীরা সাধারণত মূল সমস্যাটি তৈরি করে। ইমাম ইবনুল আসীরসহ আরবি ভাষার ব্যাখ্যাকারগণ এই বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করেছেন। অর্থাৎ কথাটির উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তিকে তার জাহেলি অহংকারের জন্য অত্যন্ত কঠোর ভাষায় অপমান করা, যাতে সে তার গোত্রগত অহংকার পরিত্যাগ করে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়াতে বলেছেন বিষয়টি এমন নয়। বরং এটি ছিল জাহেলিয়াতের গোত্রগৌরবের বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও তিরস্কারমূলক বক্তব্য।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশার আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী (রহ) এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,
انتسب صدقًا أو كذبًا، وعزاه إلى أبيه: نسبه إليه، والمعنى من انتسب بنسبة الجاهلية، أي: افتخر بآبائه، وقال: أنا ابن فلان وآل فلان مفتخرًا، أو المراد من انتسب وانتمى إلى الجاهلية بإحياء سنتها السيئة في الشتم واللعن والمواجهة بالفحشاء والمنكر، والمعنى الأول أنسب وأقرب بقوله: (فأعضوه بهن أبيه)، والعض: أخذ الشيء بالأسنان، والإعضاض متعدية، و(الهن) بالتخفيف، وقد يشدد ويصغر على هُنَين: الشيء القبيح الذي يستهجن ذكره من العورات والقبائح، ويطلق على الفرج خاصة، وكلا المعنيين صحيح الإرادة؛ فالمعنى على الأول: اذكروا له قبائح آبائه وشنائع أعمالهم من عبادة الأصنام والزنا وشرب الخمر، وصرحوا بتلك القبائح من غير كناية وإخفاء، لعله يستحيي من الافتخار بهم، ويرتدع عن ذكر قبائح الناس والتعرض لأعراض الناس، وعلى الثاني: قولوا له: اعضض بفرج أبيك، ولا تكنوا في الفرج، بل صرحوا باسم آلة أبيه تشديدًا وتغليظًا.
‘انْتَسَبَ’ (আনতাসাবা) অর্থ—সত্য হোক বা মিথ্যা, কেউ নিজেকে কারও পুত্র বলে দাবি করা এবং তাকে তার পিতার সাথে সম্পর্কিত করা, অর্থাৎ তাকে তার পিতার দিকে সম্পৃক্ত করা।
এখানে ‘مَنِ انْتَسَبَ بِنِسْبَةِ الْجَاهِلِيَّةِ’ (যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের পরিচয়ে নিজের বংশ পরিচয় দেয়)—তার অর্থ হলো, সে নিজের পিতৃপুরুষদের নিয়ে গর্ব করে এবং বলে: ‘আমি অমুকের পুত্র ও অমুক বংশের’—এভাবে গৌরব প্রদর্শন করে। অথবা উদ্দেশ্য হতে পারে, যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের প্রতি নিজেকে সম্পৃক্ত করে এবং তার কুসংস্কারপূর্ণ রীতিনীতি পুনরুজ্জীবিত করে, যেমন গালিগালাজ, অভিসম্পাত এবং অশ্লীল ও খারাপ কথার দ্বারা।
তবে প্রথম অর্থটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিকটবর্তী, বিশেষত পরবর্তী বক্তব্য «فَأَعِضُّوهُ بِهُنِّ أَبِيهِ»-এর সাথে সামঞ্জস্যের কারণে।
‘العَضّ’ (আয্য) হলো—কোনো জিনিসকে দাঁত দিয়ে চেপে ধরা বা কামড়ানো। আর ‘الإِعْضَاضُ’ (ইযযায) হলো এর সকর্মক রূপ। আর ‘الْهُنُّ’ (হুন) হালকা উচ্চারণে ব্যবহৃত হয়; কখনও তাশদীদসহ এবং কখনও ‘هُنَيْن’ (হুনাইন) বলে ছোট করেও ব্যবহার করা হয়। এটি দ্বারা বোঝায়—ঐ সকল কুৎসিত বিষয় যা উল্লেখ করতেও লজ্জা করে, যেমন গোপন অঙ্গ বা অন্য কোনো নিকৃষ্ট বিষয়। এবং এটি বিশেষভাবে লজ্জাস্থান-এর জন্যও ব্যবহৃত হয়।
উভয় অর্থই এখানে উদ্দেশ্য হতে পারে:
প্রথম অর্থ অনুযায়ী, তাকে তার পূর্বপুরুষদের কুৎসিত কাজ ও জঘন্য কর্মকাণ্ড—যেমন মূর্তিপূজা, ব্যভিচার ও মদ্যপান—উল্লেখ করে তাদের সেইসব অপকর্ম স্মরণ করিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এসব কুৎসিত বিষয় ইঙ্গিত বা গোপন না করে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে, যাতে সে তাদের নিয়ে গর্ব করতে লজ্জাবোধ করে এবং অন্যদের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা ও মানুষের সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকে।
আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী, তাকে বলা হবে: ‘তোমার পিতার লজ্জাস্থান কামড়াও।’ এখানে লজ্জাস্থানের কথা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে না বলে সরাসরি স্পষ্ট শব্দে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে—যাতে কথাটি আরও কঠোর ও তিরস্কারমূলক হয়।”[3]لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح ٨/٢٠٠ — عبد الحق الدهلوي (ت ١٠٥٢) .
এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়েই ইমাম মালেক (রহ) বলেন,
»وعن أبي بن كعب أنه قال: سمعت رسول الله – ﷺ – يقول: مَن تعزَّى«؛ أي: انتسب»بعزاء الجاهلية«؛ أي: بنسبها؛ يعني: مَن افتخر بآبائه وقبائله الكفارِ على العادة الأولى.
»فأَعِضُّوه بِهَنِ أبيه«؛ أي: قولوا له: اعضض بأير أبيك.
»ولا تكنوا” عن الأير بالهنِ؛ تنكيلًا له عفا تباهى به، والعضُّ: أخذ الشيء بالأسنان.
قال [أبو] عبيد الهروي: الهنُ: القبيح من الفعل والقول؛ يعني: قولوا له: اذكر قبائح آبائك من عبادة الأصنام والزنا وشرب الخمر وغيرها، ويجوز أن يكون معناه: عُدُّوا أنتم يا مسلمون قبائح ابائه ولا تكنوا؛ أي: لا تذكروا قبائح آبائه بطريق الكناية بل بالمجاهرة والتصريح، فلعله يستحي من الافتخار بآبائه.
“উবাই ইবনু কা‘ব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি — ‘যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের গৌরববোধের মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করায়’—অর্থাৎ জাহেলিয়াতের বংশপরিচয়কে নিজের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করে। উদ্দেশ্য হলো—যে ব্যক্তি পূর্বের রীতির মতো তার কাফির পিতৃপুরুষ ও গোত্র নিয়ে গর্ব করে, ‘তাকে তার পিতার হুন কামড়াতে বলো।’ অর্থাৎ তাকে বলো: ‘তোমার পিতার পুরুষাঙ্গ কামড়াও।’
(الهُن) ‘হুন’ শব্দ দ্বারা পুরুষাঙ্গকে ইঙ্গিত করে কথা বলবে না; বরং তাকে অপমান ও শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলবে। কারণ সে যে বিষয় নিয়ে গর্ব করেছে, তারই কারণে তাকে এভাবে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হচ্ছে। আর ‘عضّ’ অর্থ হলো দাঁত দিয়ে কোনো বস্তু কামড়ানো।
আবু উবাইদ আল-হারাওয়ী বলেন: ‘আল-হুন’ (الهُن) দ্বারা কোনো কুৎসিত কাজ বা কুৎসিত কথাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ তাকে বলা হবে: ‘তোমার পিতৃপুরুষদের কুৎসিত কাজগুলো স্মরণ করো—যেমন মূর্তিপূজা, ব্যভিচার, মদপান ও অন্যান্য জঘন্য কর্ম।’
আর এর আরেকটি অর্থও হতে পারে: তোমরা, হে মুসলিমগণ, তার পিতৃপুরুষদের কুৎসিত কাজগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করো এবং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করো না। অর্থাৎ তার পিতৃপুরুষদের কদর্য কাজগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বা ইশারায় না বলে প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করো। সম্ভবত এতে সে তার পিতৃপুরুষদের নিয়ে গর্ব করতে লজ্জাবোধ করবে।”[4] شرح المصابيح لابن الملك ٥/٢٧١ — ابن الملك (ت ٨٥٤)
জগৎ বিখ্যাত আলেম মুজহার উদ্দিন যাইদানি এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,
قوله: «من تَعَزَّى بعزاء الجاهلية»: (تَعَزَّى) إلى أحد؛ أي: انتسبَ إليه، والاسمُ: العَزاء، بفتح العين وبالمد؛ يعني: من افتخَر بآبائه وقبائلهِ الكُفَّار.
«فأعِضُّوه»؛ أي: قولوا له: اعضضْ بهنِ أبيك، (العَضُّ): أخذُ شيءٍ بالأسنان، «والهَنُ»: القبيح من الفعل والقول؛ يعني: قولوا: اذكرْ قبائح آبائك من عبادةِ الصَّنَم والزِّنا وشربِ الخمر وغيرها من القبائح.
ويجوز أن يكون معناه: عُدُّوا أنتم المسلمون قبائحَ آبائه؛ يعني: فمن كان له الكُفْرُ والأفعالُ والأقوالُ القبيحة، فكيف يَليقُ به الافتخارُ بآبائه.
«ولا تَكْنُوا»؛ أي: ولا تَذْكُرُوا قبائحَه وقبائحَ آبائه، عن الكناية، بل صَرِّحوا بقبائحه، فلعلَّه يَسْتَحِي من الافتخار بآبائه.
“যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের গৌরবের মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করে”—‘تَعَزَّى’ অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি বা বংশের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ তার সঙ্গে নিজের বংশগত সম্পর্ক দাবি করা। আর ‘العَزاء’ শব্দটি ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা এবং দীর্ঘ ‘আ’ সহ উচ্চারিত হয়। এর অর্থ হলো—যে ব্যক্তি তার কাফির পিতৃপুরুষ ও গোত্র নিয়ে গর্ব করে।
“তাকে কামড়াতে বলো”—অর্থাৎ তাকে বলো: “তোমার পিতার ‘হুন’ কামড়াও।” ‘العضّ’ অর্থ দাঁত দিয়ে কোনো বস্তু কামড়ানো। আর ‘الهَن’ বলতে কোনো কুৎসিত কাজ বা কুৎসিত কথাকে বোঝায়। অর্থাৎ তাকে বলা হবে: “তোমার পিতৃপুরুষদের কুৎসিত কাজগুলো উল্লেখ করো—যেমন মূর্তিপূজা, ব্যভিচার, মদ্যপান এবং অন্যান্য নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড।”
এর আরেকটি অর্থও হতে পারে: তোমরা মুসলিমরা তার পিতৃপুরুষদের কুৎসিত কর্মকাণ্ডগুলো স্মরণ করিয়ে দাও। অর্থাৎ যার পিতৃপুরুষদের মধ্যে কুফরি, নিকৃষ্ট কাজ ও কুৎসিত কথাবার্তা বিদ্যমান ছিল, সে কীভাবে তাদের নিয়ে গর্ব করতে পারে?
“এবং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করো না”—অর্থাৎ তার এবং তার পিতৃপুরুষদের কুৎসিত বিষয়গুলো ইঙ্গিত করে বা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে উল্লেখ করো না; বরং তাদের কুৎসিত কাজগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করো। সম্ভবত এতে সে তার পিতৃপুরুষদের নিয়ে গর্ব করতে লজ্জাবোধ করবে।[5]. المفاتيح في شرح المصابيح ٥/١٩٩ — مظهر الدين الزيداني (ت ٧٢٧)
হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জগৎ বিখ্যাত আলেম আব্দুর রউফ আল মানাবী (রহ) বলেন,
إذا رأيتم الرج ليتعزى) أي ينتسب (بعزاء الجاهلية) أي بنسبها والانتماء إليها يقال: اعتزى إليه أي انتسب وانتمى وتعزى كذلك (فأعضوه) أي اشتموه (بهن أبيه) أي قولوا له: اعضض بهن أبيك أو بذكره وصرحوا بلفظ الذكر (١) (ولا تكنوا) عنه بالهن تنكيرا وزجرا وقيل معناه من انتسب وانتمى إلى الجاهلية بإحياء سنة أهلها واتباع سبيلهم في الشتم واللعن والتعبير ومواجهتكم بالمنكر فاذكروا له قبائح آبائه من عبادة الأصنام وشرب الخمر وغيرهما صريحا لا كناية ليرتدع به عن التعرض للأعراض. وقال ابن جرير: معنى الاعتراض هنا إنما هو دعوى القائل يا آل فلان: أي تعريضا بنجدتهم وتذكيرا بشجاعتهم. قال: وهذا مخصوص بغير الحرب فلا بأس بذكر القبائل فيه لأن المصطفى ﷺ أمر في وقعة هوازن العباس أن ينادي بأعلى صوته: أين أصحاب الشجرة يا بني الحارث؟ أين الخزرج يا كذا يا كذا؟ فهو منهي عنه إلا في هذا الموضع. وخص الأب لأن هتك عورته أقبح
(حم ت عن أبي) بن كعب ورواه عنه أيضا الطبراني: قال الهيتمي رجاله ثقات
“যখন তোমরা এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখবে, যে জাহেলিয়াতের গৌরবের মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করছে”— অর্থাৎ জাহেলিয়াতের বংশপরিচয় দাবি করছে এবং নিজেকে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। আরবি ভাষায় বলা হয়, ‘اعتزى إليه’—অর্থাৎ সে তার সঙ্গে নিজেকে বংশগতভাবে সম্পৃক্ত করেছে। ‘تعزّى’-এর অর্থও অনুরূপ।
‘فأعضوه’—অর্থাৎ তাকে অপমান করো/কঠোরভাবে তিরস্কার করো।
‘بهن أبيه’—অর্থাৎ তাকে বলো: ‘তোমার পিতার লজ্জাস্থান কামড়াও।’ অথবা তার পিতার পুরুষাঙ্গের কথা সরাসরি উল্লেখ করো এবং ‘হুন’ শব্দের মাধ্যমে ইঙ্গিত না করে স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করো।
‘ولا تكنوا’—অর্থাৎ ‘হুন’ শব্দ ব্যবহার করে পুরুষাঙ্গের কথা পরোক্ষভাবে বোঝাবে না; বরং তাকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা ও নিবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবে।
আরেকটি ব্যাখ্যা হলো: যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের রীতিনীতি পুনরুজ্জীবিত করে এবং তাদের পথ অনুসরণ করে নিজেকে জাহেলিয়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে—যেমন গালিগালাজ, অভিশাপ, অপমান এবং অশ্লীল ও অন্যায় আচরণের মাধ্যমে মানুষের মোকাবিলা করা—তাকে তার পিতৃপুরুষদের কুৎসিত কর্মকাণ্ড, যেমন মূর্তিপূজা, মদ্যপান ইত্যাদি স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেবে; ইঙ্গিতপূর্ণভাবে নয়। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে সে অন্য মানুষের সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করা থেকে বিরত হয়।
ইবনু জারীর বলেন: এখানে নিষেধের অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি যখন ‘হে অমুক বংশের লোকেরা!’ বলে তাদের সাহায্য ও শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে এবং তাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তখন তা নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যুদ্ধের সময় গোত্রের নাম উল্লেখ করতে কোনো অসুবিধা নেই।
এর প্রমাণ হলো, হাওয়াযিনের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ আব্বাস (রা)-কে উচ্চস্বরে আহ্বান করতে বলেছিলেন: “হে গাছের নিচে বাইআত গ্রহণকারীগণ কোথায়? হে বনু হারিস! হে আনসারগণ! তোমরা কোথায়?” ইত্যাদি। সুতরাং সাধারণ অবস্থায় এ ধরনের গোত্রবাদী আহ্বান নিষিদ্ধ; তবে যুদ্ধের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম।
এখানে পিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ পিতার লজ্জাস্থান প্রকাশ করা ও তার সম্মানহানি করা অধিকতর জঘন্য ও নিন্দনীয়।
(আহমাদ, তিরমিযি—উবাই ইবনু কা‘ব রা. থেকে।) তাবারানিও তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।[6].(ثقات)।فيض القدير ١/٣٥٧ — عبد الرؤوف المناوي (ت ١٠٣١)
একটি বক্তব্যে শব্দের কঠোরতা এবং তার নৈতিক উদ্দেশ্য এক বিষয় নয়
ওলামাগণের ব্যাখ্যা একত্র করলে হাদিসটির মূল বক্তব্য কয়েকটি বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়—
- জাহেলি বংশগৌরবের নিন্দা: শুধু নিজের বংশপরিচয় জানা নিষিদ্ধ নয়; বরং বংশ, গোত্র বা পূর্বপুরুষের পরিচয়কে কেন্দ্র করে অহংকার করা এবং জাহেলিয়াতকে ধারণ করে রাখাই নিন্দনীয়।
- পূর্বপুরুষের গৌরবের অন্ধ অনুসরণ: কেউ যদি কাফির বা জাহেলি পূর্বপুরুষদের কুফরি, মূর্তিপূজা, ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদি অপকর্ম থাকা সত্ত্বেও কেবল বংশের কারণে তাদের নিয়ে অহংকার করে, তাহলে তাকে সেই পূর্বপুরুষদের বাস্তব অবস্থা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে যাতে সে অন্ধ বংশগৌরব থেকে ফিরে আসে।
- ‘فأعضوه بهن أبيه’-এর উদ্দেশ্য অশ্লীলতা নয়, বরং কঠোর প্রতিরোধ, জাহেলিয়াতের প্রতি ঘৃণা, তিরষ্কার। আলেমগণ দেখিয়েছেন, ‘الهَن’ শব্দের দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে – পিতার লজ্জাস্থান অথবা পিতৃপুরুষের কুৎসিত কাজ। উভয় ব্যাখ্যার মূল উদ্দেশ্য হলো জাহেলি বংশগৌরবকে কঠোরভাবে দমন করা এবং অহংকারী ব্যক্তিকে তার ভ্রান্ত অবস্থান থেকে ফিরিয়ে আনা।
- হাদিসের শিক্ষাটি বর্তমান সমাজেও প্রাসঙ্গিক: বংশ, পরিবার, গোত্র, জাতি, অঞ্চল বা সামাজিক পরিচয় নিয়ে অহংকার করে অন্যকে হেয় করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, অপছন্দ করা, অপমান অপদস্ত করা মূলত জাহেলি জাতিয়তাবাদের মানসিকতারই প্রকাশ। একজন মুসলিমের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি বংশ নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমল।
আরবদের ভাষা ও তাদের সামাজিক সংস্কৃতিতে কোনো ব্যক্তিকে তার জাহেলি অহংকার থেকে নিবৃত্ত করার জন্য অত্যন্ত কঠোর তিরস্কারমূলক বাক্য ব্যবহার করা হতো। হাদিসটির ক্ষেত্রেও উদ্দেশ্য ছিল সেই জাহেলিয়াতের অহংকারকে ভেঙে দেওয়া। অতএব, যে ব্যক্তি হাদিসটি থেকে শুধু একটি শব্দ তুলে নিয়ে বলে— “রাসূল ﷺ মানুষকে তার বাবার লজ্জাস্থান কামড়াতে বলেছেন!”সে মূলত হাদিসের উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং ভাষাগত ব্যবহার তিনটি বিষয় সম্পর্কেই চরম অজ্ঞতা বহন করে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, হাদিসে ব্যবহৃত বাক্যটি সাধারণ মানুষের জন্য অবাধে অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অনুমতি নয়; বরং আরবদের স্বাভাবিক ভাষাতে সরাসরি অপ্রীতিকর শব্দ উচ্চারন না করেই কোন একটি অপরাধ বা জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে কঠোর তিরস্কার ও সতর্কতা জারির একটি মাধ্যম শুধু।
সুতরাং এই হাদিসকে সামনে রেখে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে “কুৎসিত বা মন্দ ভাষা অধিকারী” বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
রাসূল ﷺ নিজেই শিখিয়েছেন,
عَنْ قُرَّةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْحَيَاءَ وَالْعَفَافَ وَالْعِيَّ عِيُّ اللِّسَانِ لَاعِيَّ الْقَلْبِ وَالْعَمَلَ مِنَ الإِيمَانِ وَإِنَّهُنَّ يَزِدْنَ فِيِ الآخِرَةِ وَيُنْقِصْنَ مِنَ الدُّنْيَا وَلَمَا يَزِدْنَ فِي الآخِرَةِ أَكْثَرُ مِمَّا يُنْقِصْنَ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ الشُّحَّ وَالْبَذَاءَ مِنَ النِّفَاقِ وَإِنَّهُنَّ يَزِدْنَ فِي الدُّنْيَا وَيُنْقِصْنَ مِنَ الآخِرَةِ، وَلَمَا يُنْقِصْنَ فِي الآخِرَةِ أَكْثَرُ مِمَّا يَزِدْنَ فِي الدُّنْيَا
ক্বুররাহ(রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, “নিশ্চয় লজ্জাশীলতা, যৌন-পবিত্রতা, মুখচোরামি ও দ্বীনী জ্ঞান ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এগুলি পরকালের সম্বল বৃদ্ধি করবে এবং ইহকালের সম্বল হ্রাস করবে। পক্ষান্তরে কার্পণ্য, অশ্লীলতা ও নোংরা ভাষা মুনাফিকীর অন্তর্ভুক্ত। এগুলি পরকালের সম্বল হ্রাস করে এবং ইহকালের সম্বল বৃদ্ধি করে। আর পরকালের যা হ্রাস পায়, তা ইহকালের যা বৃদ্ধি করে তা অপেক্ষা অধিক।”[7]ত্বাবারানী ১৫৪০৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৩৮১ (সহীহ).
আবদুল্লাহ (রা.) বলেন,
عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ، وَلاَ اللِّعَانِ، وَلاَ الْفَاحِشِ وَلاَ الْبَذِي
নবী (ﷺ) বলেনঃ “মুমিন ব্যক্তি খোঁটাদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও বাচাল হতে পারে না।”[8]আল-আদাবুল মুফরাদ ৩১২ (সহীহ).
নবী ﷺ কেমন ছিলেন তা উনার সাহাবাগণই সাক্ষ্য দিয়ে গিয়েছেন। যেমন আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا وَلاَ لَعَّانًا وَلاَ سَبَّابًا، كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْمَعْتَبَةِ “ مَا لَهُ، تَرِبَ جَبِينُهُ ”
তিনি বলেন “রাসুলুল্লাহ (ﷺ) অশালীন অভিশাপদাতা ও গালিদাতা ছিলেন না। তিনি কাউকে তিরস্কার করার সময় শুধু বলতেনঃ তার কি হল? তার কপাল ধূলাময় হোক।”[9]সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৫৬২০
মুআবিয়াহ (রা.) বলেন,
فَذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلاَ مُتَفَحِّشًا . وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلاَقًا ”
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সম্বন্ধে বর্ণনা দিয়ে বললেন, “তিনি অশ্লীল ছিলেন না এবং অশ্লীল কথা বলতেন না।” মু‘আবিয়াহ্ (রা.) আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “তোমাদের মাঝে উত্তম সে লোক যার চরিত্র উত্তম।”[10]মুসলিম, হাদিস নং : ৫৯২৭
আয়িশাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত,
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ.
তিনি অশ্লীল বা কটুভাষী ছিলেন না। ভান করেও তিনি অশ্লীল কথা তিনি বলেন নি। তিনি বাজারে চিৎকার করতেন না। অন্যায়াচরণের মাধ্যমে তিনি অন্যায়ের বদলা নিতেন না; বরং তিনি তা ক্ষমা করে দিতেন এবং তা উপেক্ষা করতেন।[11]তিরমিযী ২০১৬, বুখারী ৪৮৩৮
এই নিয়ে আমাদের মুশফিকুর রহমান মিনার ভাই আরো বিস্তারিত লিখেছেন, সেই লিখায় আরো বহু রেফারেন্স পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ, তাই চাইলে পড়তে পারেন – [12] জাহেলি গৌরবকারীর পিতার লজ্জাস্থান কর্তন/কামড়ানো সংক্রান্ত হাদিস এবং ইসলামবিরোধীদের প্রচারণা
উপসংহার
হাদিসটিকে তার প্রেক্ষাপট ও ভাষাগত ব্যবহার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, তা স্পষ্ট। এটি কোনো অশ্লীল আদেশ নয়, বরং জাহেলিয়াতের অন্ধ বংশগৌরব ও গোত্রীয় অহংকারের বিরুদ্ধে এক কঠোর তিরস্কার। আরব সমাজে তখনকার দিনে এমন তীব্র ভাষা ব্যবহার করে অহংকারীকে তার ভুল অবস্থান থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল সেই মানসিকতাকে ভেঙে দেওয়া, যাতে মানুষ বংশ বা গোত্রের পরিবর্তে ঈমান ও তাকওয়াকেই মর্যাদার মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সারা জীবনের আচরণ, সাহাবীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য অসংখ্য হাদিস হতে প্রমাণ সুস্পষ্ট যে তিনি অশ্লীল, কটুভাষী ছিলেন না। বরং তিনি লজ্জা, নম্রতা ও উত্তম চরিত্রের আদর্শ ছিলেন। তাই একটিমাত্র বাক্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে ধরে তাঁর চরিত্রে দোষারোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
আজকের দিনেও এই শিক্ষা প্রাসঙ্গিক। বংশ, জাতি, অঞ্চল বা সামাজিক পরিচয় নিয়ে অহংকার করে অন্যকে ছোট করা জাহেলি মানসিকতারই প্রতিফলন। প্রকৃত মর্যাদা আসে তাকওয়া ও নেক আমল থেকে। হাদিসটি বুঝতে হলে তাই শুধু বাংলা অনুবাদ নয় নয়, বরং তার উদ্দেশ্য, ভাষাগত ব্যবহার, পরিস্থিতি এবং আলেমদের ব্যাখ্যা একসঙ্গে দেখতে হবে। তবেই সত্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
Footnotes
| ⇧1 | মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং : ৪৯০২ (সহীহ) শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩৫৪১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৬৯, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৮৮৬৪, আহমাদ ২১২৩৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩৭১৮২। |
|---|---|
| ⇧2 | الدرر السنية – غريب الحديث |
| ⇧3 | لمعات التنقيح في شرح مشكاة المصابيح ٨/٢٠٠ — عبد الحق الدهلوي (ت ١٠٥٢) . |
| ⇧4 | شرح المصابيح لابن الملك ٥/٢٧١ — ابن الملك (ت ٨٥٤) |
| ⇧5 | . المفاتيح في شرح المصابيح ٥/١٩٩ — مظهر الدين الزيداني (ت ٧٢٧) |
| ⇧6 | .(ثقات)।فيض القدير ١/٣٥٧ — عبد الرؤوف المناوي (ت ١٠٣١) |
| ⇧7 | ত্বাবারানী ১৫৪০৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩৩৮১ (সহীহ). |
| ⇧8 | আল-আদাবুল মুফরাদ ৩১২ (সহীহ). |
| ⇧9 | সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৫৬২০ |
| ⇧10 | মুসলিম, হাদিস নং : ৫৯২৭ |
| ⇧11 | তিরমিযী ২০১৬, বুখারী ৪৮৩৮ |
| ⇧12 | জাহেলি গৌরবকারীর পিতার লজ্জাস্থান কর্তন/কামড়ানো সংক্রান্ত হাদিস এবং ইসলামবিরোধীদের প্রচারণা |




