ইদ্দত মানেই সহবাসের অনুমতি নয়: সূরা তালাক ৬৫:৪-এর গভীর বিশ্লেষণ

ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলামের সুমহান বিধানগুলোকে নিজের মনগড়া অপব্যাখ্যা করে ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালায় যার অন্যতম একটি হলো ইসলামী শরীয়তে নাকি শিশু নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে কোন বাধা নেই। তারা তাদের দাবির পক্ষে কোরআনের দুইটি আয়াত ব্যবহার করে অবভ ব্যাখ্যা আশ্রয় নিয়ে থাকে। আসুন আমরা এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ কি প্রথমে দেখে নেই।
প্রথমে ইসলামবিরোধী মিথ্যুকদের অভিযোগটি সম্পূর্ণ পড়ে নেই। তারা অভিযোগটি করে থাকে এভাবে, হুবহু তুলে দিচ্ছি পড়ুন।
শিশু স্ত্রীর সাথে সহবাস ইসলামে জায়েজ কারণ সুরা তালাক ৬৫:৪ আয়াতে বলা হয়েছে,
وَٱلَّـٰٓـِٔى يَئِسْنَ مِنَ ٱلْمَحِيضِ مِن نِّسَآئِكُمْ إِنِ ٱرْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَـٰثَةُ أَشْهُرٍۢ وَٱلَّـٰٓـِٔى لَمْ يَحِضْنَ ۚ وَأُو۟لَـٰتُ ٱلْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مِنْ أَمْرِهِۦ يُسْرًۭا ٤
তোমাদের যে সব স্ত্রী আর ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদেরও; আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আর যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ্ তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন ।
একইসাথে উল্লেখ্য, সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে ইসলামে ইদ্দতের বিধান নেই কারণ অন্য আয়াতে বলা হচ্ছে,
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نَكَحْتُمُ ٱلْمُؤْمِنَـٰتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍۢ تَعْتَدُّونَهَا ۖ فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًۭا جَمِيلًۭا ٤٩
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন কোন মু’মিন নারীকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তাদেরকে তালাক দাও, তখন তাদের জন্য তোমাদেরকে কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না যা তোমরা (অন্যক্ষেত্রের তালাকে) গণনা করে থাক। কাজেই কিছু সামগ্রী তাদেরকে দাও আর তাদেরকে বিদায় দাও উত্তম বিদায়ে। [সুরা আহজাব ৩৩:৪৯]
তাহলে স্পষ্টতই বোঝা যায়, যারা ঋতুর বয়সে পৌঁছে নি, তাদের যেহেতু ইদ্দতের কথা বলা আছে, তাই অবশ্যই সহবাসের অনুমতিও দেয়া আছে। নইলে ইদ্দতের নির্দেশই থাকতো না। কারণ সহবাস ছাড়া তো ইদ্দতের প্রয়োজনই নেই। সুতরাং ইসলামে শিশুর সাথে যৌনকর্ম জায়েজ।
এর জবাব কয়েক ভাবেই দেওয়া যায়
সুরা তালাক ৬৫:৪ এর তাফসির
ইসলাম নিয়ে গভীর পড়াশোনা না থাকা যে কোনো লোকই এমন অভিযোগ যে মিথ্যে সেটা সহজে বুঝতে পারবে না। আসুন আমরা সার্বিক দিক যাচাই বাচাই করে তদন্ত করে দেখবো আসলেই নাস্তিকদের উক্ত অভিযোগটি সঠিক কিনা?
তাফসীরে আহসানুল বায়ানে এসেছে,
এ হল সেই মহিলাদের ইদ্দত যাদের বার্ধক্যের কারনে মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে অথবা যাদের এখনো মাসিক শুরু হয়নি। জ্ঞাতব্য যে, বিরল হলেও এমনও হয় যে মেয়ে সাবালিকা হয়ে যায় অথচ তার মাসিক আসে না।[1]তাফসীরে আহসানুল বায়ান, সুরা তালাক ৬৫:৪ আয়াতের তাফসীর, ৯৯৪ পৃষ্ঠায়
তাফসীরে আশরাফীতে,
উপরের তো ইদ্দতের মোটামুটি বর্ণনা হইয়াছিল। আর উহার বিস্তারিত বিবরণ এই যে, তোমাদের তালাক প্রদত্তা স্ত্রীদের মধ্য হইতে যারা বার্ধক্য বশত; ঋতুস্রাব হইতে নিরাশ হইয়া পড়িয়াছে, যদি তোমাদের সন্দেহ হয় অর্থাৎ তাহাদের ইদ্দতের নিশ্চয়তা সম্বন্ধে সন্দেহ কর যেমন প্রকৃতপক্ষে এরুপ সন্দেহ কেহ কেহ করিয়াছিল এবং হুজুর (সা) কে জিজ্ঞাসাও করিয়াছিল তবে তাহাদের ইদ্দত তিন মাস। আর এরুপেই যাহাদের বয়স কম বশত এযাবৎ ঋতুস্রাব হয় নাই তাহাদের ইদ্দতও তিন মাস।[2]তাফসীরে আশরাফী, ৬ খণ্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠায়
তাফসীরে ওসমানীর সুরা তালাক এর ৪ নং আয়াতের তাফসীরে,
যদি সন্দেহ হয় যে ঋতু হয় না, বা বয়স হবার কারনে তা মওকুফ হয়ে গেছে, তবে তার ইদ্দত কি হবে? সে সম্পর্কে বলা হয়েছে এমন নারীর ইদ্দত হবে তিনমাস।[3]তাফসীরে ওসমানী ,৭ খণ্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠায়
তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআনে বলা হয়েছে,
যাদের এখনো ঋতুস্রাব শুরু হয়নি তাদের ক্ষেত্রে ইদ্দত হবে ৩ মাস।[4]তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআন, ৬ খণ্ড, সুরা তালাক, আয়াত ৪ এর তাফসীর
মিথ্যাবাদি গোষ্ঠীদেরকে দেখবেন উপরের বর্ণনা গুলো দেখিয়ে এমনভাবে বুঝানোর চেষ্টা করবে যে সেখানে বাচ্চা শিশুর কথা বলা হয়েছে। অথচ আপনারা নিজেরাই যাচাই করে দেখুন এমন কোনো কথা উপরের কোনো বর্ণনায় বলা হয়নি। বরং সার্বিকভাবে এটাই পরিস্কার বুঝা যায় যেসব নারীর সাথে সহবাস করা যাবে অর্থাৎ মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিকভাবে ফিট সেই সব নারীর বয়স অল্প তাই হায়েজ শুরু হয়নি এমন নারীদের কথাই বুঝানো হয়েছে। এর স্বপক্ষে শক্তিশালী দলীল ভিত্তিক আলোচনা সামনে আসছে। পড়তে থাকুন মন দিয়ে।
আমরা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে উপরের বর্ণনাগুলো পুনরায় পাঠ করি তখন স্পষ্টতই খেয়াল করতে পারি এখানে “শিশু” শব্দটি আসেই নি? কোথাও বিন্দুমাত্র শিশু শব্দটিই লেখা নেই। অথচ ইসলামবিরোধী মিথ্যাবাদী গোষ্ঠীগুলো দাবি করে বসে আছে যে “শিশু স্ত্রীর সাথে সহবাসের কথা বলা আছে সুরা তালাকে”। বাচ্চা বা শিশু শব্দের বিভিন্ন আরবি শব্দ রয়েছে। যেমন “তিফলুং”, “আতফালুন” ইত্যাদি। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই পাওয়া যায় এই শব্দ গুলো সুরা তালাকের চার নাম্বার আয়াতে কোথাও উল্লেখ হয়নি। তাহলে নাস্তিকরা কিসের ভিত্তিতে এমন মিথ্যাচার করে যাচ্ছে?
এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে আয়াতে তাহলে কোন ধরণের নারীদের কথা বলা হয়েছে? একেবারে সহজ উত্তর হলো উক্ত আয়াতে সেই সকল নারীদের কথা বলা হয়েছে যাদের বয়স অল্প এবং অল্প বয়স্কা হওয়ার কারণে যাদের হায়েজ এখনো হয়নি, অথবা কোন পারিপার্শ্বিক, আবহাওয়া, জীনগত বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন রোগের কারণে উপযুক্ত বয়স হলেও হায়েজ শুরু হয় নি অথচ তারা শারীরিক এবং মানুসিক ভাবে উপযুক্ত-এই টাইপের নারীদের কথা বলা হয়েছে।
কখন সহবাস বৈধ এই বিষয় ইসলাম কি বলে?
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে যদিও নাবালেকদের বিবাহ শর্তসাপেক্ষে বৈধ, কিন্তু দাম্পত্য জীবন (রুখসতি ও সহবাস) তখনই বৈধ ও উপযুক্ত হবে, যখন মেয়েটি শারীরিকভাবে তা সহ্য করতে সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বয়স নির্ধারিত নয়; বরং সক্ষমতাই মূল মানদণ্ড—এটাই অধিকাংশ ফকীহের (মালিক, শাফেয়ী, আবু হানীফা) মত।
এবার আসুন আমরা এ ব্যাপারে কিছু দলিল দেখে নেই :
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ عَلْقَمَةَ وَالأَسْوَدِ عَلٰى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَبَابًا لاَ نَجِدُ شَيْئًا فَقَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّه“ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه“ لَه“ وِجَاءٌ.
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ-এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। কেননা, সওম তার যৌনতাকে দমন করবে।[5]বুখারী: ৫০৬৬
আল্লামাহ্ নববী (রহঃ) বলেন: الْبَاءَةَ “বাআত” এর উদ্দেশ্য নিয়ে ‘উলামাগণের মাঝে দু’টি অগ্রগণ্য মত রয়েছে। তন্মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস। সুতরাং মূল কথা হলো যে, সহবাসে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। আর যে স্ত্রীর ভরণ-পোষণে অক্ষম ও সহবাসে অক্ষম, তার যৌন চাহিদা দমন করার জন্য সিয়াম পালন করতে হবে আর এটাই তার খারাপ মনোবৃত্তি দূর করবে।
ইবন হাযম (রহঃ) বলেন: সহবাসে সক্ষম ব্যক্তি মাত্র সবার ওপর বিবাহ করা ফার্য, যদি তার বিবাহ করার সামর্থ্য থাকে। এতে যদি সে অক্ষম হয় তবে বেশী বেশী সিয়াম পালন করবে। আর এটাই এক দল সালাফগণের বক্তব্য।
বিবাহ করার সামর্থ্য বলতে দুইটি বিষয় বুঝানো হয়:
- প্রথম বিষযটি হলো: বিবাহ করার সামর্থ্য এবং নিজের স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষমতা।
- দ্বিতীয় বিষযটি হলো: যৌন ক্ষমতা বা সংগমের ক্ষমতা।
যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষমতা রাখবে এবং যৌন ক্ষমতা বা সংগমের ক্ষমতা রাখবে, সে ব্যক্তি যেন বিবাহ করে, তার প্রতি এই হাদীসটি গভীরভাবে উৎসাহ প্রদান করে।
এই নিয়মটি শুধু পুরুষের ক্ষেত্রে নয় বরং নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ যদি কোন নারী সহবাসের ক্ষেত্রে সক্ষম না হয় বা পরিপূর্ণ প্রস্তুত না হয় তাহলে তার ক্ষেত্রে বিবাহ করা নিষিদ্ধ।
মালিক, শাফেয়ী ও আবু হানীফা (রহ.) বলেন:
وقال مالك والشافعي وأبو حنيفة: حدُّ ذلك أن تطيق الجماع ، ويختلف ذلك باختلافهن ، ولا يضبط بسنٍّ ، وهذا هو الصحيح
আর মালিক, শাফেয়ী ও আবু হানীফা (রহ.) বলেন: এর সীমা (অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্ক বৈধ হওয়ার) হলো—সে সহবাসের উপযুক্ততা অর্জন করেছে কি না। এটি মেয়েদের ভেদে ভিন্ন হয়; নির্দিষ্ট কোনো বয়স দ্বারা তা নির্ধারিত নয়। এটিই সঠিক মত।[6]মুগনি আল মুহতাজ ৪/৩৭৩
এ ব্যাপারে ইমাম নবী (রহ) বলেন,
أما الدخول بالصغيرة فلا يلزم بالعقد ، فلا يدخل بها زوجها حتى تطيق الجماع ، ولا يشترط لذلك البلوغ ، وهذا أمر يختلف باختلاف البيئات والأزمان
ছোট বালিকার সঙ্গে সহবাস করার ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র বিবাহের চুক্তির দ্বারাই এটি বৈধ হয়ে যায় না। স্বামী তার সঙ্গে সহবাস করবে না যতক্ষণ না সে সঙ্গমের জন্য উপযুক্ত হয়।[7]শরহে মুসলিম, ৯/২০৬
খতিব শিরবিনি (রহ) বলেছেন,
وَيَحْرُمُ وَطْءُ مَنْ لَا تَحْتَمِلُ الْوَطْءَ لِصِغَرٍ أَوْ جُنُونٍ أَوْ مَرَضٍ أَوْ هُزَالٍ أَوْ نَحْو ذَلِكَ لِتَضَرُّرِهَا بِهِ
“কোনো নারীর সাথে সহবাস হারাম হবে যদি সে এই ব্যাপারে সামর্থ্য না রাখে, এই কাজের জন্য অল্পবয়স্ক হয়, অসুস্থ থাকে, রোগা-পাতলা হয় অথবা অনুরূপ কোনো কারণে যাতে তার ক্ষতি হয়।”[8]মুগনি আল মুহতাজ ৪/৩৭৩
ইমাম সাদর আশ-শাহিদ হানাফী (রহ) (৪৮৩-৫৩৬ হি.) বলেন—
وفيه دليل على أنه لا بأس بأن تزف في حالة الصغر، لكن لا يغاشيها إلا إذا علم أنها تطيق ذلك.
অর্থাৎ— এবং এতে প্রমাণ আছে যে, ছোট বয়সে বিয়ে দেওয়ায় কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা যায় কেবল তখনই, যখন জানা যায় যে সে এটি সহ্য করতে সক্ষম।[9]শরহু আদাবুল কাজি লিল লিল-খাসাফ, ৪/১৩১
ফতুয়ায়ে হিন্দিয়াতে বলা হয়েছে,
জমহুর উলামায়েকেরাম বলেছেন যে বয়স কোন ব্যাপার না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল সামর্থ্য। যদি সে বড় এবং সাস্থ্যবান হয়, পুরুষদের সাথে সহবাসের সামর্থ্য রাখে এবং এর (যৌনতার কারনে) কারনে অসুস্থ না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারে যদিও তার বয়স এখনও নয় বছর না হয়। কিন্তু যদি সে রোগা এবং দুর্বল হয়, এবং সহবাসের সামর্থ্য না থাকে, এবং এতে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, তাহলে বয়স হলেও স্বামীর জন্য তার বিয়ে সম্পন্ন (সহবাস, নিজ গৃহে আনা ও অন্যান্য বিয়ের বিষয় সম্পন্ন করার মাধ্যমে) করার অনুমতি নেই। এটি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।[10]ফতুয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২৮৭
শারীরিকভাবে সহবাসের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি হলো—নাবালিকা কন্যাকে শুধুমাত্র তখনই স্বামীর সাথে মিলিত হতে দেওয়া যাবে যখন সে শারীরিকভাবে সক্ষম হবে; নির্দিষ্ট কোনো বয়স নয়, সক্ষমতাই মূল মানদণ্ড। এ নীতি নিশ্চিত করে যে কোনো ধরনের ক্ষতি বা অপকারিতা ঘটবে না। যদি মেয়েটি সাবালিকা হওয়ার পর বিবাহ বহাল রাখতে চায় না, তাহলে ইসলাম তাকে সেই অধিকার দিয়েছে। এটি “خِيَارُ الْبُلُوغِ” নামে পরিচিত, যা কেবল সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে বিবাহ সম্পন্ন করেছে তার সচেতন ও কল্যাণমুখী অভিভাবক।
আরেকটি বিষয় হলো ইসলামের নাবালেগ কন্যার ক্ষেত্রে পিতার সম্মতি শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়েছে যা থাকা বাধ্যতামুলক, নাবালেগ কন্যাকে বিবাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে পিতা ব্যতিত অন্য কোন অভিভাবকদের সেই অধিকার দেওয়া হয় নি। এই নিয়ে অধিকাংশ ফুকাহাগনই একমত। সেহেতু কন্যার ভালো মন্দ, সুবিধা অসুবিধা, কল্যান, ক্ষতির সম্ভবনা সব কিছু বিবেচনা করে বিবাহ দেওয়া পিতা মাতার উপর আমানত সরুপ। সেহেতু নাবালেগ কন্যাকে বিবাহ দেওয়া বৈধ হলেও বিবাহ দিবে কি দিবে না তা সম্পুর্ন অভিভাবকের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে, তাদের অনুমতি ব্যতিত বিবাহই বৈধ বলে গণ্য হবে না। এই সম্পর্কিত দলিলাদি অনেক বেশি তাই আর সেগুলো উল্লেখ করছি না। বাল্যবিবাহ নিয়ে আমাদের সাইটে একাধিক লিখা রয়েছে সেগুলোতে দেখতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, যে হাদিসগুলোতে স্বামীর ডাকে সারা দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেগুলো অনুপযুক্ত মেয়ের উপর প্রযোজ্য হবে না। কারণ হাদিসে এসেছে নাবালেগ ও মানসিক ভাবে অসুস্থ ব্যক্তির উপর শরীয়তের হুকুম-আহকাম প্রযোজ্য হয় না।[11]ইবন মাজাহ ২৫৪১; মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৪৬-৫১, ৪৩৯৮-৪৪০৬; দারেমী ২২৯৬, ইরওয়াহ ২৯৭; আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৩৬৫; আল-মুসনাদুল জামে ১৩/২৮৪-২৮৭ এর উপর ভিত্তি করে ফকিহগণ বলেছেন নাবালীকা নারীর জন্য স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং এতে তার কোন গুনাও হবে না।[12]কিতাবুল বায়ান ফি মাজহাব আল ইমাম আল শাফেয়ী ৯/৪৯৬; কাশশাফ আল কিনা ১২/৭০-৭২ এবং প্রায় সকল ফকিহরাই এব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে একমত যে, স্বামীদের জন্য অপ্রাপ্ত-বয়স্ক সহবাসের অনুপযুক্ত বা অন্য কোন কারনে সহবাসের জন্য অনুপযোগী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা নিষিদ্ধ।[13]মাওসুয়াতুল ফিকহিয়াতিল কুয়েতিয়াহ ৩০/১২৩; কিতাবুল বায়ান ফি মাজহাব আল ইমাম আল শাফেয়ী ১১/১৯৩; তাবিন আল হাকিকাত, ৩/৫২; ফাতহুল বারী শরহে বুখারী ৯/১২৪; উমদাতুল কারী শরহে বুখারী ২০/৭৮; আউদাতুল হিজাব ২/৩৩০; সহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল ৭/১৭২; কাশশাফ আল কিনা ১২/৭০-৭২; আরশীফ মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ -১, ১১১/৩৫৭
এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইসলামের সকল বিধিনিষেধে ব্যালেন্স করেছেন, ইনসাফ কায়েম করেছেন বিভিন্ন শর্তাদি আরোপিত করার মাধ্যমে। এটাই সেই রবের হিকমা যিনি সকল জ্ঞানের উৎস।
সহবাস ছাড়াও ইদ্দত পালন করতে হয়
নির্জন বাসও সহবাসের হুকুম বহন করে,
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী সহবাসের পূর্বে যদি তালাক দেওয়া হয় তাহলে সেই নারীর উপর কোন ইদ্দত আবশ্যক হয় না। ঠিক তদ্রূপভাবে নির্জন অবস্থানের মাধ্যমেও একই হুকুম বর্ধিত হয়। অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে সহিহ খালওয়াত (নির্জনে অবস্থান) করে—অর্থাৎ এমন নির্জন অবস্থান, যেখানে তাদের মধ্যে সহবাস করা সম্ভব এবং তাদেরকে দেখার মতো কেউ উপস্থিত নেই—তখন এই নির্জন অবস্থানের কারণে কয়েকটি বিধান প্রযোজ্য হয়:
১. স্ত্রীর পূর্ণ মোহর প্রাপ্য হবে, যেমন তার সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকলেও পূর্ণ মোহর প্রাপ্য হতো।
২. যদি স্বামী খালওয়াতের পর, কিন্তু সহবাসের আগে স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাহলে হাম্বলি মাজহাবের মতে সেই তালাক রাজঈ হবে। পক্ষান্তরে অধিকাংশ আলেমের মতে তালাক বায়েন হবে, খালওয়াত সংঘটিত হলেও।
৩. যদি খালওয়াতের পর স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে স্ত্রীর ওপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক হবে—তালাক রাজঈ বলা হোক কিংবা বায়েন বলা হোক, উভয় মতেই।
এই খালওয়াতের জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে:
১. তাদের সঙ্গে এমন কোনো বোধসম্পন্ন শিশু বা তৃতীয় ব্যক্তি থাকা যাবে না, যার উপস্থিতিতে স্বামীর জন্য স্ত্রীর সঙ্গে যৌনসুখ উপভোগ করা সম্ভব হয় না।
২. স্ত্রী যেন স্বামীকে নিজের প্রতি অধিকার প্রয়োগে বাধা না দেন।
ইবনু কুদামাহ বলেন:
وإن خلا بها، فمنعته نفسها: لم يكمل صداقها. أومأ أحمد إلى أنها إذا نشزت عليه، أو منعته نفسها: لا يكمل صداقها. وذلك لأنه لم يوجد التمكين من جهتها ، فأشبه ما لو لم يخْلُ بها
“যদি স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করে, কিন্তু স্ত্রী তাকে নিজের প্রতি অধিকার প্রয়োগে বাধা দেয়, তাহলে তার মোহর পূর্ণ হবে না। ইমাম আহমদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয় অথবা তাকে নিজের প্রতি অধিকার প্রয়োগে বাধা দেয়, তাহলে তার পূর্ণ মোহর প্রাপ্য হবে না। কারণ, স্ত্রীর পক্ষ থেকে নিজেকে স্বামীর জন্য সমর্পণ করার বিষয়টি পাওয়া যায়নি। এটি এমন অবস্থার অনুরূপ, যখন তারা নির্জনে অবস্থানই করেনি।[14]আল-মুগনি ১১/১৫৭
সহিহ খালওয়াতের সংজ্ঞা
সহিহ খালওয়াত বলতে এমন নির্জন স্থানে কোনো পুরুষ ও নারীর একত্রে অবস্থান করাকে বোঝায়, যেখানে তারা অন্যের দৃষ্টিগোচর হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে এবং তাদের মধ্যে প্রকৃত সহবাসে কোনো বাধা থাকে না। বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহিহ খালওয়াতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি; কারণ এর সংঘটনের ফলে বহু ফিকহি বিধান কার্যকর হয়।
সহিহ বিবাহের ক্ষেত্রে প্রকৃত সহবাস সংঘটিত না হলেও সহিহ খালওয়াত প্রকৃত সহবাসের স্থলাভিষিক্ত হয়। হানাফি মাজহাবের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা সুগদি (রহ.) বলেন:
“وأما الدخول فحكمه إذا أغلق باب، أو أرخى ستر، أو خلا بها بقدر ما يمكنه وطؤها ولم يكن بينهما سبب مانع من الوطء، فإن ذلك يوجب المهر كاملاً والعدة، وطئها أو لم يطأها إذا كان النكاح صحيحاً”
“সহবাসের বিধান হলো—যখন স্বামী-স্ত্রীর জন্য দরজা বন্ধ করা হয়, অথবা পর্দা টেনে দেওয়া হয়, অথবা এমন সময় পর্যন্ত তারা নির্জনে থাকে, যাতে স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে পারে এবং তাদের মধ্যে সহবাসে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো কারণ না থাকে, তখন বিবাহ সহিহ হলে স্ত্রীকে পূর্ণ মোহর ও ইদ্দত প্রাপ্য হবে; সে তার সঙ্গে সহবাস করুক বা না করুক।”[15]আন-নাতাফ ফিল ফাতাওয়া, ১/২৯৮
আদ-দারদীরের আশ-শারহুস সাগীর-এ এসেছে:
“এমন নির্জনতা, যাতে সাধারণত সহবাস করা সম্ভব হয়।”
সহিহ খালওয়াতের শর্ত
সহিহ খালওয়াতের শর্তগুলো হলো:
১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহের চুক্তি সহিহ হতে হবে; ফাসিদ বা বাতিল হওয়া যাবে না।
২. তাদের একত্রে থাকার স্থান নিরাপদ ও নির্জন হতে হবে। অর্থাৎ স্বামী চাইলে সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে সক্ষম হবে। তাই মসজিদ, রাস্তা, বাজার, মরুভূমি, খোলা ছাদ কিংবা এমন কোনো কক্ষ যার দরজা খোলা—এসব স্থানে সহিহ খালওয়াত সংঘটিত হয় না।
৩. সহবাসের প্রতিবন্ধকতা না থাকা প্রতিবন্ধকতা তিন প্রকার:
ক. ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতা: যেমন, তাদের সঙ্গে কোনো বোধসম্পন্ন তৃতীয় ব্যক্তি উপস্থিত থাকা।
খ. প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা: যেমন—অসুস্থতা, অল্প বয়স, স্ত্রীর এমন শারীরিক ত্রুটি যাতে সহবাস সম্ভব নয়, যেমন রতক বা করণ; অথবা স্বামীর অঙ্গচ্ছেদজনিত অক্ষমতা (মাজবুব)। তবে অনীণ (যার যৌন সক্ষমতা নেই) ও খাসি ব্যক্তির খালওয়াত সহিহ হিসেবে গণ্য হবে।
গ. শরয়ি প্রতিবন্ধকতা: যেমন—হায়েজ, নিফাস, রমজানের রোজা, হজ বা উমরার ইহরাম এবং ইতিকাফ। তবে কাজা, মানত, কাফফারা ও নফল রোজা সহিহ খালওয়াতের প্রতিবন্ধক নয়।
এসব শর্ত হানাফি মাজহাবের মতানুযায়ী।[16]দ্রষ্টব্য: ইবনু আবিদিন, আদ-দুররুল মুখতার, ৩/১১৪; মাওসিলি, আল-ইখতিয়ার লি তা‘লিলিল মুখতার, ৩/১০৩
ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ-তে সংক্ষেপে এসেছে:
“যে স্থানে সহিহ খালওয়াত সংঘটিত হতে পারে, তা এমন হতে হবে যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই তাদের অনুমতি ব্যতীত অন্য কারও তাদের ওপর দৃষ্টিপাত বা প্রবেশের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকে। যেমন—বাড়ি বা ঘর।…আর তিন বা চারটি কক্ষবিশিষ্ট বাড়িতে যদি একজনের পর একজন প্রবেশ করতে থাকে এবং স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে সর্বশেষ কক্ষে নির্জনে থাকে, কিন্তু দরজাগুলো খোলা থাকে—যার ফলে যে কেউ তাদের অনুমতি ছাড়াই তাদের কাছে প্রবেশ করতে পারে—তাহলে সেই খালওয়াত সহিহ হবে না।
অনুরূপভাবে, যদি কোনো বাড়ির একটি কক্ষে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে নির্জনে থাকে, কিন্তু সেই কক্ষের দরজা বাড়ির ভেতরের দিকে খোলা থাকে এবং তাদের ছাড়া অন্য কোনো মাহরাম বা গায়রে মাহরাম ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে পারে, তাহলেও সেই খালওয়াত সহিহ হবে না।”
তবে সহিহ খালওয়াত সব ক্ষেত্রে প্রকৃত সহবাসের স্থলাভিষিক্ত হয় না; বরং কিছু বিধানের ক্ষেত্রে হয়, কিছু ক্ষেত্রে হয় না।
সহিহ খালওয়াতের বিধান
সহিহ খালওয়াতের মাধ্যমে পূর্ণ মোহর, বংশপরিচয়, ইদ্দত, ভরণপোষণ, ইদ্দতের সময় বাসস্থানের অধিকার, স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করা থেকে নিষেধাজ্ঞা, তার ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে চতুর্থ স্ত্রীকে বিবাহ করা থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং হায়েজের সময় নয়, পবিত্র অবস্থায় তালাক দেওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়।
কিন্তু সহিহ খালওয়াত ইহসান সাব্যস্ত হওয়া, স্ত্রীর পূর্ববর্তী বিবাহের কন্যাকে (রাবিবা) বিবাহ করা হারাম হওয়া, তালাককে রাজঈ হওয়া, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হওয়া এবং তালাকের পরবর্তী তালাক তার ওপর কার্যকর হওয়া—এসব বিষয়ে প্রকৃত সহবাসের স্থলাভিষিক্ত হয় না।
এর পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (ঐকমত্য) দলিল হিসেবে রয়েছে
এর পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (ঐকমত্য) দলিল হিসেবে রয়েছে। ইমাম আহমদ ও আল-আছরাম তাঁদের সনদে জারারাহ ইবনু আওফা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:
رَوَى (٣) الإِمامُ أحمدُ، والأثْرمُ، بإسنادِهما عن زُرَارةَ بن أَوْفَى، قال: قَضَى الخُلفاءُ الراشدونَ أَنَّ مَنْ أَرْخَى سِتْرًا، أو أغْلَقَ بابًا، فقد وَجَبَ المَهْرُ، ووَجَبَتِ العِدّةُ
“খোলাফায়ে রাশেদীন ফয়সালা করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীর ওপর পর্দা টেনে দেয় অথবা দরজা বন্ধ করে দেয়, তাহলে পূর্ণ মোহর আবশ্যক হয়ে যায় এবং ইদ্দতও আবশ্যক হয়ে যায়।”[17]المغني لابن قدامة – ت التركي ١١/١٩٨
আল-আছরাম আরও আহনাফ থেকে, তিনি উমর ও আলী (রাঃ) থেকে এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে, তিনি উমর ও যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে এ ফয়সালা বর্ণনা করেছেন। এসব ফয়সালা ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধ ছিল এবং সাহাবায়ে কেরামের কেউ তা অস্বীকার করেননি। ফলে তা ইজমা হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর এ বিষয়ে বিপরীত মতের যে বর্ণনাগুলো রয়েছে, ইমাম আহমদ সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন।
ইবনু কুদামাহ (রহ.) বলেন:
ولا خلاف بين أهل العلم في وجوبها على المطلقة بعد المسيس, فأما إن خلا بها ولم يصبها , ثم طلقها , فإن مذهب أحمد وجوب العدة عليها ، وروي ذلك عن الخلفاء الراشدين وزيد , وابن عمر ، وبه قال عروة , وعلي بن الحسين , وعطاء , والزهري , والثوري , والأوزاعي , وإسحاق , وأصحاب الرأي , والشافعي في قديم قولي
“সহবাসের পর তালাকপ্রাপ্তা নারীর ওপর ইদ্দত আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে যদি স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করে, কিন্তু তার সঙ্গে সহবাস না করে এবং এরপর তাকে তালাক দেয়, তাহলে ইমাম আহমদের মাজহাব অনুযায়ী তার ওপর ইদ্দত আবশ্যক। এই মত খোলাফায়ে রাশেদীন, যায়েদ ও ইবনু উমর (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আর উরওয়া, আলী ইবনুল হুসাইন, আতা, যুহরি, সাওরি, আওযায়ি, ইসহাক, আহলুর রায় এবং ইমাম শাফেয়ির পূর্ববর্তী দুই মতের একটি—এ মতই গ্রহণ করেছেন।”[18]আল-মুগনি ৮/৮০
হানাফি মাজহাবের ইমাম যাইলাঈ (রহ.) বলেন:
“واعلم أن أصحابنا رحمهم الله أقاموا الخلوة الصحيحة مقام الوطء في حق بعض الأحكام دون البعض، فأقاموها في حق تأكد المهر، وثبوت النسب، والعدة، والنفقة، والسكنى في هذه العدة، ونكاح أختها، وأربع سواها، وحرمة نكاح الأمة على قياس قول أبي حنيفة، ومراعاة وقت الطلاق في حقها، ولم يقيموها مقام الوطء في حق الإحصان، وحرمة البنات، وحلها للأول، والرجعة، والميراث، وأما في حق وقوع طلاق آخر ففيه روايتان والأقرب أن يقع”
“জেনে রাখুন, আমাদের ফকিহগণ (রহ.) কিছু বিধানের ক্ষেত্রে সহিহ খালওয়াতকে সহবাসের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, আর কিছু বিধানের ক্ষেত্রে করেননি। তারা মোহর নিশ্চিত হওয়া, বংশপরিচয় সাব্যস্ত হওয়া, ইদ্দত, ভরণপোষণ, ইদ্দতের সময় বাসস্থান, স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করা এবং তার পাশাপাশি চারজনকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে সহিহ খালওয়াতকে সহবাসের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। কিন্তু ইহসান, স্ত্রীর কন্যাকে বিবাহের নিষেধাজ্ঞা, প্রথম স্বামীর জন্য পুনরায় বৈধ হওয়া, রাজআত এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সহিহ খালওয়াতকে সহবাসের স্থলাভিষিক্ত করেননি। আর পরবর্তী আরেকটি তালাক সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে; অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো, তা সংঘটিত হবে।”[19]তাবয়িনুল হাকায়িক শরহু কানযিদ দাকায়িক ও হাশিয়াতুশ শালাবি, ২/১৪৪
হানাফি মাজহাবের মতে সহিহ ও ফাসিদ—উভয় প্রকার খালওয়াতের মাধ্যমেই ইদ্দত আবশ্যক হয়। ইবনু আবিদিনের হাশিয়ায় বলা হয়েছে:
مذهب الإمام أبي حنيفة، والذي ينص على ثبوت العدة في كلٍّ من الخلوة الصحيحة والفاسدة،
“সহিহ খালওয়াতের কারণে ইদ্দত আবশ্যক হয়, যদিও খালওয়াতটি ফাসিদ হয়।”[20]হাশিয়াতু ইবনু আবিদিন, ৩/১১৪
আল-মাওসু ‘আহ আল-ফিকহিয়্যাহ-তে বলা হয়েছে:
ذهب الحنفية والمالكية والحنابلة إلى أنه تجب العدة على المطلقة بالخلوة الصحيحة في النكاح الصحيح …. ووجوب العدة عند المالكية بالخلوة الصحيحة حتى ولو نفى الزوجان الوطء فيها ؛ لأن العدة حق الله تعالى فلا تسقط باتفاقهما على نفي الوطء ” انتهى باختصار . وعليه ؛ فبقاؤك عند زوجك مدة أسبوعين ، يعني تحقق الخلوة الموجبة للعدة عند الجمهور ، وقد أخطأت في عدم الاعتداد ، ولا يلزمك شيء الآن ؛ لفوات وقت العدة .
“হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবের আলেমগণ মত দিয়েছেন যে, সহিহ বিবাহের পর সহিহ খালওয়াতের মাধ্যমে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ওপর ইদ্দত আবশ্যক হয়। …
মালিকি মাজহাবে সহিহ খালওয়াতের মাধ্যমে ইদ্দত আবশ্যক হয়, এমনকি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যদি খালওয়াতের মধ্যে সহবাস না হওয়ার কথা স্বীকার করে। কারণ, ইদ্দত আল্লাহ তাআলার অধিকার; তাই উভয়ের পারস্পরিক সম্মতিতে সহবাস না হওয়ার দাবি করার মাধ্যমে ইদ্দত রহিত হয় না।”[21]আল-মাওসু ‘আহ আল-ফিকহিয়্যাহ ১৯/২৭৩
উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ের বিশ্লেষণ
তাফসীরে জালালাইনে বর্ণিত হয়েছে,
এখানে মনে রাখতে হবে কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী ইদ্দত পালনের প্রয়োজন হয় সে স্ত্রীলোকের যার সাথে স্বামী নিবিড় একাকীত্বে মিলিত হয়েছে। কারন নিবিড় একাকীত্বে মিলিত হওয়ার পূর্বে তালাক হলে আদৌ কোন ইদ্দত পালন করতে হয় না – সুরা আহযাব ৪৯ ।[22]তাফসীরে জালালাইন, ৬ খণ্ড, ৫৮৮ ও ৫৮৯ পৃষ্ঠায়
যদি একদম অল্প বয়স্ক শিশুর সাথে ইসলামে সহবাস করা বৈধ থাকতো তাহলে নবীজি ﷺ আয়েশা (রা)-কে বিয়ে করে সাথে সাথেই সহবাস করতেন। আয়েশা (রা)-কে বিয়ে করে নবীজি ﷺ যে কারণে তিন বছর অপেক্ষা করেছিলেন সেই কারণ গুলো মধ্যে পাওয়া যায় আয়েশা (রা) তখন প্রাপ্তবয়স্কা ছিলেন না। নাস্তিকরা “আয়েশা (রা)-যে প্রাপ্তবয়স্কা না হবার কারণে নবীজি ﷺ তিনবছর অপেক্ষা করেছিলেন” এই রেফারেন্স কৌশলে এড়িয়ে যায়।
মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব (হাফি) লিখিত “সীরাতুর রাসুল (সা)” এ বর্ণিত হয়েছেঃ
একাদশ নববী বর্ষের শাওয়াল মাসে অর্থাৎ হযরত সওদা বিন্তে যাম’আর সাথে বিয়ের ঠিক এক বছরের মাথায় ওছমান বিন মাযউন (রা) এর স্ত্রী খাওলা বিনতে হাকীম (রা) এর প্রস্তাবক্রমে হযরত আবু বকরের নাবালিকা কন্যা আয়েশা রাসুলুল্লাহ ﷺ বিবাহ করেন। বিয়ের তিন বছর পরে সাবালিকা হলে নয় বছর বয়সে মদীনায় ১ম হিজরী সনের শাওয়াল মাসে তিনি নবীগ্রহে গমন করেন।[23]সীরাতুর রাসুল (সা), ১৯৯ পৃষ্ঠায়
তাফসীরের ব্যাখ্যা সমূহ খেয়াল করুন একটি ব্যাখ্যাতেও কিন্তু “বাচ্চা-নাবালেগ শিশু” অনুবাদ করা হচ্ছে না বরং সেই নারীদের কথাই বলা হচ্ছে যাদের বয়স কম হওয়ার জন্য হায়েজ হয় না বা শুরুই হয় নি। যেমন তাফসীরে ইবনে কাসীর এ বলা হচ্ছে,
“যদি তোমরা সন্দেহ কর” এর তাফসীরে দুটি উক্তি রয়েছে। এক তো এই যে তারা রক্ত দেখলো এবং এতে সন্দেহ থাকলো যে এটা হায়েজের রক্ত , না ইসতাহাযা রোগের রক্ত। আর দ্বিতীয় উক্তি এই যে তাদের ইদ্দতের হুকুমের ব্যাপারে সন্দেহ হয় এবং সেটা জানা যায় না। তাহলে সেটা হবে তিন মাস। এই দ্বিতীয় উক্তিটিই বেশি প্রকাশমান। এই রেওয়ায়েতটিও এর দলিল যে হযরত উবাই ইবনে কাব (রা) বলেছিলেন হে আল্লাহর রাসুল ﷺ বহু স্ত্রীলোকদের ইদ্দত এখনো বর্ণনা করা হয়নি। যেমন নাবালেগ মেয়ে, বৃদ্ধা এবং গর্ববতী স্ত্রীলোকদের (ইদ্দতের বর্ণনা দেয়া হয়নি) তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।[24]তাফসীরে ইবনে কাসীর ১৭ খণ্ডে, ৫৪৩ পৃষ্ঠায়
সন্দেহ কখন হয়? শিশুদের ক্ষেত্রে তো হায়েজ এর সন্দেহ আসতেই পারে না কারণ শিশুদের হায়েজই হয় না-এটি সকলেই জানে। তাহলে একজন নারী যখন শারীরিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে উপযুক্ত হয়ে যায় অথচ তার বয়স কম এবং হায়েজ হচ্ছে কি হচ্ছে না সেটাও বুঝা যাচ্ছে না এই ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হয় আর এই সন্দেহর কথাই মূলত আয়াতে বলা হচ্ছে। সন্দেহ সেই সব মেয়েদের ক্ষেত্রেই হয়ে যখন মেয়ে অল্পতেই সক্ষম হয়ে যায় অথচ তার হায়েজ এসেছে কিনা সেটা জানাই যাচ্ছে না। আর এমন নারীদের ইদ্দতও হবে তিনমাস।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানে বর্ণিত সুরা তালাক ৬৫:৪ আয়াতের তাফসীরটি খেয়াল করুন,
এ হল সেই মহিলাদের ইদ্দত যাদের বার্ধক্যের কারনে মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে অথবা যাদের এখনো মাসিক শুরু হয়নি। জ্ঞাতব্য যে, বিরল হলেও এমনও হয় যে মেয়ে সাবালিকা হয়ে যায় অথচ তার মাসিক আসে না।[25]তাফসীরে আহসানুল বায়ান, ৯৯৪ পৃষ্ঠায়
কোনো নারী যদি পনেরো অথবা সতেরো বছরও হয় আর তার হায়েজ না হয় এরপরেও তাকে প্রাপ্তবয়স্কা হিসেবে ধরে নিতে হবে। আর এই বিষয়ে বহু রিসার্চ রয়েছে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক, আবহাওয়া, রোগের কারণে ১৮-১৯ বছরেও অনেক মেয়ের হায়েজ শুরু হয় না। তাফসীরে মাজহারীতে এসেছে,
এরপর বলা হয়েছে তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তােমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যারা এখনো রজঃস্বলা হয়নি, তাদেরও; আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। একথার অর্থ সাধারণভাবে সকল তালাকপ্রাপ্তাদের ইদ্দতের সময়সীমা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছেই, এখন যদি দ্যাখাে তােমাদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীরা বৃদ্ধা হওয়ার কারণে ঋতুস্রাব রহিতা, অথবা ঋতুস্রাবমুক্তা অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার কারণে, তবে তাদের জন্য ইদ্দতের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলাে তিন মাস। উল্লেখ্য, তিন ঋতু হয়ে থাকে সাধারণত তিন মাসেই, যেমন প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার বয়স ধরা হয় সাধারণত পনেরাে অথবা সতের বৎসর। এর মধ্যে কোনাে মেয়ে ঋতুগ্রস্ত না হলেও তাকে ধরে নিতে হয় প্রাপ্তবয়স্কা। যেমন সম্পদের জাকাত ফরজ হয় এক বৎসর পূর্ণ হলে। এর মধ্যে সম্পদ সাধারণত কিছু না কিছু বর্ধিত হয়েই থাকে। অথবা ঋতুস্রাব হওয়া থেকে নিরাশ হওয়ার বয়স ধরা হয় পঞ্চান্ন বা ষাট বৎসর, তেমনি বৃদ্ধা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইদ্দতের সময়সীমা এখানে নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস। শরিয়তে এরকম সময় বেঁধে দেওয়ার দৃষ্টান্ত আরাে রয়েছে।[26]তাফসীরে মাজহারী,১১ খণ্ড, ৫৬২ পৃষ্ঠায়
আশরাফুল হিদায়ায় বলা হয়েছে,
ইবারতের মাঝে যে সকল মহিলাদের হায়েজ আসে না তার কয়েকটি সুরত বর্ণনা করেছেন। সল্প বয়সের কারণে কিংবা অতিবৃদ্ধা হওয়ার দরুন, অথবা নারী বয়সের হিসেবে বালেগা হয়েছে অর্থাৎ সাহেবাইনের মতে পনেরো বছর আর ইমাম আযমের মতে সতের বছর বয়সের হয়েছে তবে এখনো তার হায়েজ আসে না। উক্ত তিন সুরতে মহিলার ইদ্দত তিন মাস গণনা করা হবে যা মূলত তিন হায়েজের স্থলবর্তী হবে। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী ‘তোমাদের যে সকল স্ত্রীদের আর ঋতুমতী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ পোষণ করলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস এবং যারা এখনো রজ;স্বলা হয়নি তাদেরও আর গর্ভবর্তী নারীর ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত”।[27]আশরাফুল হিদায়া,৩ খণ্ড, ৫৭৬,৫৭৭ পৃষ্ঠায়
সুতরাং সার্বিক তথ্য প্রমাণ গুলো সামনে রাখলে এটা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে ইসলামে অনুপযুক্ত শিশু স্ত্রীর সাথে সহবাস বৈধ নয় বরং কোরআন এমন নারীর সাথে সহবাস বৈধ করেছে যে কিনা শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে উপযুক্ত অথচ তার বয়স কম হবার কারণে অথবা অন্য কোন কারণে হায়েজ শুরুই হয়নি।
এবং উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ বিষয়েও স্পষ্ট হলো যে শুধুমাত্র সহবাসের কারণেই ইদ্দত গণনা করতে হয় না বরঞ্চ নির্জন বাসের মাধ্যমেও ইদ্দতের বিধান পতিত হয়। সুতরাং ইসলাম বিদ্বেষীদের যে অভিযোগ তা এখানেই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
Footnotes
| ⇧1 | তাফসীরে আহসানুল বায়ান, সুরা তালাক ৬৫:৪ আয়াতের তাফসীর, ৯৯৪ পৃষ্ঠায় |
|---|---|
| ⇧2 | তাফসীরে আশরাফী, ৬ খণ্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠায় |
| ⇧3 | তাফসীরে ওসমানী ,৭ খণ্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠায় |
| ⇧4 | তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআন, ৬ খণ্ড, সুরা তালাক, আয়াত ৪ এর তাফসীর |
| ⇧5 | বুখারী: ৫০৬৬ |
| ⇧6, ⇧8 | মুগনি আল মুহতাজ ৪/৩৭৩ |
| ⇧7 | শরহে মুসলিম, ৯/২০৬ |
| ⇧9 | শরহু আদাবুল কাজি লিল লিল-খাসাফ, ৪/১৩১ |
| ⇧10 | ফতুয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২৮৭ |
| ⇧11 | ইবন মাজাহ ২৫৪১; মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৪৬-৫১, ৪৩৯৮-৪৪০৬; দারেমী ২২৯৬, ইরওয়াহ ২৯৭; আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৩৬৫; আল-মুসনাদুল জামে ১৩/২৮৪-২৮৭ |
| ⇧12 | কিতাবুল বায়ান ফি মাজহাব আল ইমাম আল শাফেয়ী ৯/৪৯৬; কাশশাফ আল কিনা ১২/৭০-৭২ |
| ⇧13 | মাওসুয়াতুল ফিকহিয়াতিল কুয়েতিয়াহ ৩০/১২৩; কিতাবুল বায়ান ফি মাজহাব আল ইমাম আল শাফেয়ী ১১/১৯৩; তাবিন আল হাকিকাত, ৩/৫২; ফাতহুল বারী শরহে বুখারী ৯/১২৪; উমদাতুল কারী শরহে বুখারী ২০/৭৮; আউদাতুল হিজাব ২/৩৩০; সহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল ৭/১৭২; কাশশাফ আল কিনা ১২/৭০-৭২; আরশীফ মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ -১, ১১১/৩৫৭ |
| ⇧14 | আল-মুগনি ১১/১৫৭ |
| ⇧15 | আন-নাতাফ ফিল ফাতাওয়া, ১/২৯৮ |
| ⇧16 | দ্রষ্টব্য: ইবনু আবিদিন, আদ-দুররুল মুখতার, ৩/১১৪; মাওসিলি, আল-ইখতিয়ার লি তা‘লিলিল মুখতার, ৩/১০৩ |
| ⇧17 | المغني لابن قدامة – ت التركي ١١/١٩٨ |
| ⇧18 | আল-মুগনি ৮/৮০ |
| ⇧19 | তাবয়িনুল হাকায়িক শরহু কানযিদ দাকায়িক ও হাশিয়াতুশ শালাবি, ২/১৪৪ |
| ⇧20 | হাশিয়াতু ইবনু আবিদিন, ৩/১১৪ |
| ⇧21 | আল-মাওসু ‘আহ আল-ফিকহিয়্যাহ ১৯/২৭৩ |
| ⇧22 | তাফসীরে জালালাইন, ৬ খণ্ড, ৫৮৮ ও ৫৮৯ পৃষ্ঠায় |
| ⇧23 | সীরাতুর রাসুল (সা), ১৯৯ পৃষ্ঠায় |
| ⇧24 | তাফসীরে ইবনে কাসীর ১৭ খণ্ডে, ৫৪৩ পৃষ্ঠায় |
| ⇧25 | তাফসীরে আহসানুল বায়ান, ৯৯৪ পৃষ্ঠায় |
| ⇧26 | তাফসীরে মাজহারী,১১ খণ্ড, ৫৬২ পৃষ্ঠায় |
| ⇧27 | আশরাফুল হিদায়া,৩ খণ্ড, ৫৭৬,৫৭৭ পৃষ্ঠায় |




