”প্যালেস্টাই” শব্দের উৎপত্তি কোথা থেকে?
রোমান সাম্রাজ্যের সময় 'জুডিয়া' নাম পরিবর্তন করে 'প্যালেস্টিনা' নামকরণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি আধুনিক ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে পরিচয় ও ভৌগোলিক অধিকার নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে? তথ্যসূত্র: https://en.m.wikipedia.org/wiki/Syria_Palaestina
ভুমিকা
“Palestine” নামটা মূলত গ্রিক Palaistinē → ল্যাটিন Palaestina থেকে, আর গ্রিক নামটা খুব সম্ভবত পুরনো “ফিলিস্তীয়/Philistines” (হিব্রু Peleshet/Pelishtim) নামেরই রূপান্তর।
- https://www.journals.uchicago.edu/doi/pdf/10.2307/1357617
রোমান প্রদেশ Judaea ১ম-২য় শতাব্দীতে ইহুদি-রোমান যুদ্ধের কেন্দ্র ছিল। Bar Kokhba বিদ্রোহ (১৩২–১৩৬ খ্রিস্টাব্দ) দমনের পর সম্রাট হ্যাড্রিয়ান (Hadrian) জেরুজালেমকে Aelia Capitolina নামে রোমান কলোনি হিসেবে পুনর্নির্মাণ করেন এবং ইহুদিদের সেখানে বসতি নিষিদ্ধ করেন। প্রাদেশিক নাম Judaea পরিবর্তন করে Syria Palaestina (বা Palaestina) রাখা হয় (~১৩৫ খ্রিস্টাব্দ)। এটি জুডিয়া, সামারিয়া, গ্যালিলি, ইডুমিয়া ও ফিলিস্তিয়া অন্তর্ভুক্ত করত। রাজধানী ছিল Caesarea Maritima। পরে এটি Palaestina Prima, Secunda ও Salutaris-এ বিভক্ত হয়।
রোমানরা বার কোখবা বিদ্রোহ (১৩২–১৩৬ খ্রি.) দমনের পর প্রদেশ “Judaea”-কে “Syria Palaestina” নামে ডাকতে শুরু করে—এটা অনেক গবেষকের মতে ইহুদি পরিচয়ের সঙ্গে প্রাদেশিক নামের বাঁধন কেটে দেওয়ার রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল। - https://en.wikipedia.org/wiki/Syria_Palaestina
আধুনিক দ্বন্দ্বে এটার মূলত ন্যারেটিভের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ইহুদিবাদীরা। কে “আদি/ঐতিহাসিক” পরিচয় বহন করে—এই তর্কে নাম বদলের ঘটনাটা বারবার টানা হয়। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব/সীমানা/অধিকার নির্ধারণ হয় মূলত ১৯–২০শ শতকের দলিল-চুক্তি/যুদ্ধ/আন্তর্জাতিক আইনের প্রক্রিয়ায়, প্রাচীন টপোনিম (place-name) আজকের দিনে কাউকে “আইনি মালিকানা” দেয় না।
না হয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ায়ই যৌক্তিক হবে। যেহেতু প্রাচিন সময়ে এই সবগুলোই হিন্দু বা বৌদ্ধদের অধিনে ছিল। তাই হাজার বছর আগের অতিত ইতিহাস নিয়ে আমাদের কোন ইন্ট্রেস্ট নেই, তারপরও যেহেতু এই বিতর্ক টানা হয় তাই কিছু আলাপ না করলেই নয়।
“Palestine/প্যালেস্টাইন” শব্দটা কোথা থেকে এল?
প্রাচীন মিশরীয় নথিতে (রামেসিস ৩য়–এর সময় আনুমানিক ১১৮৭-১১৫৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ ) “Sea Peoples”-এর মধ্যে Peleset নাম পাওয়া যায়। তাই ধারণা করা হয় ফিলিস্তিনীয়রা (Philistines) ছিল অ-সেমিটিক জনগোষ্ঠী (সম্ভবত এজিয়ান/সী পিপলস উৎসের), যারা প্রায় ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দক্ষিণ লেভান্টের উপকূলীয় অঞ্চলে (গাজা, আশকেলন, আশদোদ ইত্যাদি) বসতি স্থাপন করে। মিশরীয় রেকর্ডে (রামেসিস III, ~১১৫০ খ্রিস্টপূর্ব) তাদের Peleset এবং অ্যাসিরিয়ান রেকর্ডে Palashtu/Pilistu বলা হয়।
- https://onlinelibrary.wiley.com/doi/full/10.1002/9781444338386.wbeah02163
হিব্রু ধারায় “Philistines” এবং তাদের অঞ্চলের নাম (Peleshet) থেকে “Palestine”-এর উৎস—এটাই সাধারণ (mainstream) ব্যাখ্যা।
- https://www.journals.uchicago.edu/doi/pdf/10.2307/1357617
প্রাচীন আসিরীয় টেক্সটে ফিলিস্তীয় অঞ্চলের জন্য Palastu/Pilistu–জাতীয় রূপ পাওয়া যায়—এগুলোকে আধুনিক গবেষণা ডাটাবেসেও এভাবেই নথিবদ্ধ করা আছে।
- https://oracc.museum.upenn.edu/tsae/cbd/qpn/x000047730.html
ইংরেজি “Palestine” যার ওপর দাঁড়িয়ে—তার খুব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো গ্রিক Παλαιστίνη (Palaistinē)। ৫ম শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বে গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস “Syrians of Palestine/Palaestine Syrians” জাতীয় শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন—ফিনিশিয়া থেকে মিশর সীমান্ত পর্যন্ত উপকূলীয় রুট/অঞ্চল বর্ণনায়। (এটা লক্ষ্য করার মতো: এখানে “Palestine” শুধু আজকের গাজা-উপকূল নয়—গ্রিক লেখকদের মধ্যে নামটার “বৃহত্তর অঞ্চল” অর্থে প্রসার দেখা যায়।)
- https://classics.mit.edu/Herodotus/history.3.iii.html
ঐতিহাসিক বয়ান
প্রো-ইসরায়েল/ইহুদি ঐতিহাসিক বয়ান প্রায়ই এভাবে ব্যবহার করে:
“Judaea” নাম পরিবর্তনকে ইহুদি-সংযোগ মুছে দিতে চাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়—মানে, “Palestine”কে অনেক সময় colonial label হিসেবে ফ্রেম করা হয়। রোমানদের নাম পরিবর্তনকে ইহুদিদের পৈতৃক ভূমি (Eretz Yisrael / Judaea) থেকে তাদের পরিচয় মুছে ফেলার প্রাচীন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।তাদের দাবি এটি প্রমাণ করে যে “Palestine” মূলত ইহুদি-বিরোধী শাস্তিমূলক নাম। অনেকে বলেন, আধুনিক “ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদ” এই রোমান নামকে পুনরুজ্জীবিত করে ইহুদি অধিকার অস্বীকার করে।
কিন্তু বাস্তবতা আমরা দেখলাম যে, “Palestine” নামটি হেরোডোটাসের মতো লেখকের যুগ থেকেই বহুল ব্যবহৃত (অর্থাৎ রোমানদের “invented name” নয়), এবং পরবর্তী ইসলামি প্রশাসনেও Filastin/Jund Filastin হিসেবে চলেছে। তাই ফিলিস্তিন একদম নতুন কোন জাতি সত্ত্বা নয়।
- https://en.wikipedia.org/wiki/Jund_Filastin
“Palestine” প্রাচীন ভৌগোলিক নাম, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অঞ্চলটিকে বোঝাত। রোমান পরিবর্তন ইহুদি বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়া হলেও নামটি আগে থেকেই প্রচলিত ছিল এবং পরবর্তীতে আরব/মুসলিম শাসনে (Filastin) স্থানীয় জনগণের সাথে যুক্ত হয়। আধুনিক ফিলিস্তিনি পরিচয় ২০শ শতাব্দীতে (অটোমান/ব্রিটিশ যুগ, নাকবা ইত্যাদি) গড়ে উঠেছে স্থানীয় আরব জনগোষ্ঠীর ভিত্তিতে, যারা শতাব্দী ধরে সেখানে বসবাস করেছে। তাই হাজার বছরের পুরোনো গল্প কাহিনী বেশি গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার মত নাকি এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাস্তবতা বেশি গুরুত্ব পাওয়ার মত?
বাইবেলীয় তথাকথিত প্রমিস ল্যান্ড
রোমান ইতিহাসের গল্পকে আরও শক্তিশালী করতে ইহুদিরা বাইবেলীয় রেফারেন্স ব্যবহার করে বলে—বাইবেলে এই ভূমিকে ইসরায়েলের বলা হয়েছে, এটাকে ইসরায়েলীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। চলুন এবার কিছু ইন্টারেস্টিং আলোচনা করা যাক,
বাইবেলের পুরাতন নিয়মের সব শ্লোকে সরাসরি “বনি ইসরাইল” নাম উল্লেখ করা হয়নি। বাইবেলের প্রতিশ্রুত ভূমি-সংক্রান্ত শ্লোকগুলো মূলত দুই ধরনের:
১. নাম উল্লেখ ছাড়া, বনি ইসরাইল ব্যতীত: ইব্রাহিম (আ.) ও উনার বংশধরদেরকে পবিত্র ভূমির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে,
- আদিপুস্তক ১২:৭: “তোমার বংশকে আমি এই দেশ দেব।”
- আদিপুস্তক ১৩:১৫, ১৭:৮: একইভাবে ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের কথা।
- আদিপুস্তক ১৫:১৮–২১ এ ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধরদের জন্য সীমানা (মিসরের নদী থেকে ফোরাত পর্যন্ত) দেওয়া হয়েছে, কিন্তু “ইসরাইল” নাম নেই।
তারপর ইসহাক (আ.)-কেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—আদিপুস্তক ২৬:৩ এ।
আদিপুস্তক ১৭:২০ এ ইসমাইল (আ.)-কে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—উনার বংশ হতে আসবে বহু সন্তানসন্ততি, বারোজন মহান নেতা এবং এক মহান জাতি।
২. ইয়াকুবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা, স্পষ্টভাবে “ইসরাইলের সন্তানগণ” উল্লেখসহ
- আদিপুস্তক ২৮:১৩: ইয়াকুব (আ.)-কে প্রতিশ্রুতি।
- আদিপুস্তক ৩৫:১০–১২: ইয়াকুব (আ.)-এর নাম “ইসরাইল” রাখা হয়, আর সেখানে দেশের প্রতিশ্রুতি তাঁর ও তাঁর পরবর্তী বংশধরদের জন্য দেওয়া হয়।
ইয়াকুব বা ইসরাইলের বংশধরদেরকে দেওয়ার বিষয়ে—
- আদিপুস্তক , যাত্রাপুস্তক ৬:৬–৮, ৩:৮, ১৩:৫ এবং দ্বিতীয় বিবরণ, যিহোশূয় পুস্তকে বহুবার “ইসরাইল-সন্তানদের” দেশ দেওয়ার কথা এসেছে।
- যিহোশূয় ২১:৪৩–৪৫ এ বলা হয়েছে—প্রতিশ্রুতি ইসরাইল-কুলের জন্য পূর্ণ হয়েছে।
- Exodus 3:8, Exodus 6:8, Deuteronomy 1:8, Deuteronomy 34:4 এ মূসা (আ.)-কে প্রমিস ল্যান্ডে নেওয়ার কথা এসেছে—বনি ইসরাইলকে নিয়ে।
- Joshua 1:2–4 এ মূসার পরে যোশুয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে “ভূমি দিচ্ছি/দাবি কর” বলা হয়।
- Jeremiah 30:3, Ezekiel 37:21, Amos 9:14–15 এ বিভিন্ন নবীর দ্বারা বনি ইসরাইলকে ভূমি দেওয়ার কথা এসেছে।
এখন আশ্চর্যজনক বিষয় হলো—আমাদের মুসলিমদের ভেতর থাকা কিছু মানুষও এটাকে সমর্থন করে ইহুদিদের পক্ষে সাফাই গাইতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কিন্তু যেখানে ইহুদীরা বাইবেল দেখিয়ে ফিলিস্তিনকে তাদের ভূখণ্ড বলতে পারে, সেখানে মুসলিমরাও তো কোরআন দেখিয়ে বলতে পারে ফিলিস্তিন মুসলিমদের ভূখণ্ড! অথচ এই সৎসাহস কেউ করে না—কারণ ইহুদীরা নিজেদের মতবাদ নিয়ে হীনমন্যতায় না ভুগলেও মুসলিমরা একমাত্র স্রষ্টার মনোনীত দ্বীনের অনুসারী হয়েও হীনমন্যতায় ভোগে।
এখন আসি মুসলিমরা কীভাবে এই একই দাবি করতে পারে, সেটার বিষয়ে।
১। আমরা বাইবেলে দেখেছি দুই প্রকারের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১ম প্রকার হলো ইসরাইল নাম/জাতি নির্দিষ্ট হওয়ার আগের পর্যায়; এখানে যাদের কথা এসেছে, মুসলিমরাও তাদের অন্তর্ভুক্ত—কারণ আমরাও আব্রাহামিক ধর্মের। আমরাও ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধর, উনার মিল্লাত বা ঐতিহ্যের অনুসারী।
সূরা আলে ইমরান ৩:৬৭-৬৮ — “ইব্রাহিম ইহুদীও ছিলেন না, খ্রিস্টানও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম… নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইব্রাহিমের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হলেন তারাই যারা তাঁকে অনুসরণ করেছে, আর এই নবী (মুহাম্মদ ﷺ) এবং যারা ঈমান এনেছে।”
সূরা আল-বাকারাহ ২:১২৪ — ইব্রাহিমকে ইমাম বানানোর পর তিনি বংশধরদের জন্যও চাইলে আল্লাহ বলেন: “আমার অঙ্গীকার যালিমদের পর্যন্ত পৌঁছবে না।”
সূরা আল-বাকারাহ ২:১৩৫ ও সূরা আল-হজ্জ ২২:৭৮ — মুসলিমদেরকে সরাসরি “মিল্লাতে ইব্রাহিম” অনুসরণ করতে বলা হয়েছে এবং আল্লাহ নিজেই তাদেরকে “মুসলিম” নাম দিয়েছেন।
২। ইহুদিরা যাদেরকে ইসরায়েলীদের নবী বলছে, তারাও তো কেউ “ইহুদী” ছিল না—কারণ বাইবেলে পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী “ইহুদী ধর্ম” নামে আলাদা কোনো ধর্মের পরিভাষা নেই, আর বাইবেল সব মানুষকে ইহুদী হতে বলেও না। ইহুদী নাম কালের পরিক্রমায় তাদের সাথে জুড়েছিল, ধর্মীয় উৎসের কারণে নয়।
আমাদের মতে বনি ইসরাইলে যত নবী-রাসূল এসেছে, তারা সকলে মুসলিম ছিল। সেহেতু ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি তো মুসলিমদের জন্যও হওয়ার কথা।
এই আয়াতগুলোতে ইব্রাহিম, ইয়াকুব, ইসমাইল, নুহ, ইউসুফ, ইউনুস, মুসা প্রভৃতি নবী-রাসূলগণ মুসলিম ছিলেন—সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে: সূরা আল-বাকারাহ (২:১৩১–১৩৩), সূরা আলে ইমরান (৩:৫২, ৬৭), সূরা ইউনুস (১০:৭২), সূরা ইউসুফ (১২:১০১), সূরা আল-আরাফ (৭:১২৬), সূরা আল-হজ্জ (২২:৭৮), সূরা আন-নামল (২৭:৩০–৩১)।
৩। এখন ইহুদীরা পাল্টা যুক্তি দিতে পারে—বাইবেলে পরবর্তীতে বনি ইসরাইল বা ইসরাইলের বংশের জন্য প্রতিশ্রুতি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে; তাই মুসলিমদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
এটার জবাব তো আরও সহজ। বাইবেলে প্রতিশ্রুত ভূমি ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধরদের জন্য খাস করা হয়েছে, কিন্তু ইহুদীদের জন্য তো করা হয়নি। সময়ে সময়ে প্রচুর অরিজিনাল ইহুদি বিভিন্ন ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এর আগমনের পর দ্বীন ইসলাম কবুল করেছে। সেহেতু ইহুদি বংশ বা বনী ইজরায়েলীরাতো তো মুসলিমদের মধ্যেও প্রবেশ করে ফেলেছে।
তাহলে বর্তমান ইহুদীরা কোন যুক্তিতে নিজেদেরকে প্রমিস ল্যান্ডের একমাত্র হকদার বা দাবিদার মনে করে? ইসলাম আসার পর তো পূর্বের সকল মতবাদ বাতিল করা হয়েছে, এখন একমাত্র ইসলামই হক হিসেবে পরিগনিত হবে। (সূরা আলে ইমরান; আয়াত ১৯, ৮৫, ১০২; সূরা মায়িদা; আয়াত ৩) সেহেতু বর্তমান ইহুদীরা অমুসলিম হিসেবে গণ্য হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেও মুসলিমরাই বেশি হকদার হয় প্রমিস ল্যান্ডের।
৪। কুরআন স্পষ্ট করে:
সূরা আল-বাকারাহ ২:১২৪ — আমার অঙ্গীকার যালিমদের পর্যন্ত পৌঁছবে না।”
সূরা আল-আ‘রাফ ৭:১২৮ — “নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহর। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে উত্তরাধিকারী করেন। আর পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।”
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:১০৫ — “আমি যিকরের পর যাবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে।”
সূরা আন-নূর ২৪:৫৫ — “আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে খিলাফত দান করবেন…”
সূরা মায়িদাহ ৫:২১-এ “পবিত্র ভূমি যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন” বলা হয়েছে—কিন্তু ঠিক পরের আয়াতগুলোতেই তারা অবাধ্যতা করে এবং শাস্তি পায়। সুতরাং প্রতিশ্রুতি জাতিগত রক্তের নয়, আনুগত্য ও সততার সাথে যুক্ত।
বাইবেল নিজেও এই একই কথা বলে,
ভূমির অধিকার চিরস্থায়ী জাতিগত মালিকানা নয়, বরং আনুগত্যের শর্তযুক্ত।
লেবীয় পুস্তক ১৮:২৪-৩০ ও ২০:২২: যদি তোমরা আমার বিধি মান্য না কর, তবে দেশ তোমাদেরকে “বমি করে” বের করে দেবে—যেমন আগেকার জাতিদেরকে করেছে।
লেবীয় পুস্তক ২৬ এবং দ্বিতীয় বিবরণ ২৮: আনুগত্য করলে বরকত ও নিরাপত্তা; অবাধ্যতা করলে পরাজয়, দুর্ভিক্ষ, দেশ থেকে নির্বাসন।
দ্বিতীয় বিবরণ ৪:২৫-২৭, ২৮:৬৩-৬৪, ৩০:১৭-১৮: অবাধ্য হলে “তোমরা সেই দেশ থেকে ধ্বংস হবে / ছিন্নভিন্ন হবে”।
অর্থাৎ বাইবেলের নিজস্ব যুক্তিতেই—যদি জাতি অবাধ্য হয়, তবে তারা অধিকার হারায়। ইতিহাসে বারবার নির্বাসন ঘটেছে তথাকথিত প্রমিস লেন্ডের হকদারদের। তাই “চিরস্থায়ী জাতিগত অধিকার” দাবি বাইবেলেরই শর্তযুক্ত বাস্তবতাকে অস্বীকার করে। একই সাথে কোরআনের শর্তানুসারে তারা জালিম, তারা আল্লাহর নাফরমান, তারা মুমিন নয়, অসৎকর্ম করে, অন্যজাতিদের মাঝে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও বিকৃত জিনিস ছড়িয়ে দেয়। তাই তারা কখনো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দেওয়া ওয়াদার যোগ্য কোন জাতি নয়।