স্ত্রীকে প্রহার সম্পর্কিত প্রশ্ন

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামস্ত্রীকে প্রহার সম্পর্কিত প্রশ্ন
ফাহিম খান asked 12 months ago

আমাদের নবী স্ত্রীদের মারতে নিষেধ করেছিল, তারপর কিছু সাহাবা যাতে তাদের মারতে পারে সেজন্য আবেদন করেছিল। এরপর আবার আমাদের নবি স্ত্রীকে প্রহার করার অনুমতি দিলেন! এটাকি অন্যায় নয়?

1 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 12 months ago

কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন,

“আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর” [সূরা নিসা আয়াত ৩৪]

এই আয়াতের তাফসিরে একটি হাদিস বর্ণিত আছে অনেক তাফসির গ্রন্থে সেটা হল,

“আত্বা [রহ] বলেন, ইবন আব্বাসকে প্রশ্ন করা হল, উক্ত প্রহার কিরূপ হবে? তিনি বললেন, মেসওয়াক বা অনুরূপ কাঠি দ্বারা প্রহার হতে হবে।” [তাফসিরে তাবারী ৭/২৪০]

এছাড়াও কোরআন থেকেও স্ত্রীকে হালকা কিভাবে প্রহার করবে সেটারও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন,

“আর (আল্লাহ আদেশ করলেন আইয়ুব আঃ কে) একমুঠ ঘাস নিন এবং তা দ্বারা আঘাত করুন এবং শপথ ভঙ্গ করবেন না।” [সূরা সোয়াদ আয়াত ৪৪]

স্ত্রীদেরকে মৃদু প্রহার করার অনুমতি দেওয়ার পর মহানবী ﷺ এটাও বলে দিয়েছিলেন যে কি রকম হালকা ভাবে স্ত্রীদেরকে শাসন করবে। যেমন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে চাকর-বাকরদের বা দাসের মত না মারে, কোন কোন বর্ণনায় ষাড়ের মত বলা হয়েছে। কেননা, দিনের শেষে তার সঙ্গে তো মিলিত হবে। [সহিহ বুখারী ৫২০৪; ৬০৫২]

আরেক বর্ণনায় দেখা যায় মহানবী (সা) বলেছেন,

“কিন্তু তারা যদি নির্দেশ লঙ্ঘন করে এরূপ করে ফেলে (স্বামীর অবাধ্যতা করে পরপুরুষকে গৃহে স্থান দেয়) তবে, তাদেরকে প্রহার কর। কিন্তু প্রহার যেন কঠিন ও কষ্টদায়ক না হয়। [মুসলিম, হাদীস ১২১৮]

আরেক বর্ণনায় রাসূল ﷺ বলেছেন,

স্ত্রীর মুখমন্ডলে মারবে না, তাকে গালমন্দ করবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে। [আবু দাউদ ২১৪২]

রাসূল ﷺ এর উপদেশ ছিল স্ত্রীকে প্রহার না করার,

একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বললাম, আমাদের স্ত্রীদের (হক) সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ তোমরা যা খাবে তাদেকেও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে, তাদেরকেও তা পরিধান করাবে। তাদেরকে প্রহার করবে না এবং গালিগালাজ করবে না। [আবু দাউদ ২১৪৪]

এছাড়া আরো বহু হাদিসে দেখা যায় রাসূল ﷺ যেটা কষ্ট দায়ক, আহত হবে, ক্ষতিকর হবে, জুলুমের পর্যায়ের হবে সেরকম ভাবে স্ত্রীকে মারতে কঠোর ভাবে নিষেধ করেছে। [আবু দাউদ ১৯০৫; তিরমিযী ১১৬৩, ৩০৮৭; ইরওয়াহ ১৯৯৭-২০২০; আদাবুয যিফাফ ১৫৬; ইবনে মাজাহ ১৮৫১]

প্রথমে মহানবী ﷺ স্ত্রীদের গায়ে হাত তূলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু পরে স্বামীর অবাধ্যতা ও নাফরমানি করার কারনে স্ত্রীকে হালকা প্রহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। স্ত্রীদের পক্ষ থেকে যদি নাফরমানী সংঘটিত হয় কিংবা এমন আশংকা দেখা দেয়, তবে প্রথম পর্যায়ে তাদের সংশোধন হল যে, নরমভাবে, সুন্দরভাবে তাদের বোঝাবে। যদি তাতেও বিরত না হয়, তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদের বিছানা নিজের থেকে পৃথক করে দেবে। যাতে এই পৃথকতার দরুন সে স্বামীর অসন্তুষ্টি উপলব্ধি করে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে পারে। তারপর যদি তাতেও সংশোধন না হয়, তবে মৃদুভাবে প্রহার করবে। আর তার সীমা হল এই যে, শরীরে যেন সে মারধরের প্রতিক্রিয়া কিংবা যখম না হয়। কিন্তু যখন মহানবী দেখলেন স্বামীদের অবাধ্য হওয়ার কারনে যখন স্ত্রীকে মৃদু প্রহার করার অনুমতি দেওয়া হল তখন অনেক নারী মহানবীর স্ত্রীদের কাছে এসে স্বামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলো। তখন এই ধরনের শাস্তি দানকে রাসূল ﷺ পছন্দ করেননি, বরং তিনি বলেছেনঃ যারা স্ত্রীদেরকে প্রহার করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়। (কারন মৃদু প্রহার করলেত আর কেউ অভিযোগ করতে আসত না, এতেই বুঝা যাচ্ছে কঠোর আচরন করেছিল তারা) [ইবন হিব্বানঃ ৯/৪৯৯, নং ৪১৮৯; আবু দাউদ ২১৪৪-২১৪৬; ইবন মাজাহ ১৯৮৫]

এছাড়া রাসূল ﷺ এমন ব্যাক্তির সাথে বিবাহ করতে অনুৎসাহিত করেছেন যে স্ত্রীকে মারে বা স্ত্রীর প্রতি কঠোর বেশি। যেমন সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে পাওয়া যায় এক নারীর তালাকের পর পুনরায় বিবাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সামনে ৩টি প্রস্তাব ছিল। মু’আবিয়াহ, আবূ জাহম ও উসামাহ ইবনু যায়দ।  তখন নবী ﷺ বললেনঃ মু’আবিয়াহ তো একজন গরীব মানুষ, নগণ্য সম্পদের অধিকারী আর আবূ জাহম তো নারীদের প্রতি কঠোর (অথবা বললেন) সে স্ত্রীদের লাঠিপেটা করে অথবা এরূপ কিছু বললেন। তবে উসামাহ ইবনু যায়দকেই গ্রহণ করা তোমার জন্য উচিত হবে। [সহিহ মুসলিম ১৪৮০, হাদিস একাডেমি ৩৬০৪-০৫]

অবশ্যই এই সংক্রান্ত একটা হাদিস অনেক প্রচার করা হয় সেটা হল -

উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) হতে বর্নিত যে রাসুল ﷺ বলেছেন :  "কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে প্রহার করলে এজন্য সে দোষী হবে না/ একজন পুরুষকে জিজ্ঞেস করা হয় না কেন সে তার স্ত্রীকে মারধর করেছে" [আল-মুসনাদুল জামে ১৩/৫১২; মুসনাদ আহমদ ১২২; মুসনাদ আব্দ বিন হুমাইদ ৩৭; সুনান আবি দাউদ ২১৪৭; সুনান ইবন মাজাহ ১৯৮৯; সুনানুন নাসাঈ আল কুবরা ৯১২৩; মুস্তাদরাকুল হাকেম ৪/১৯৪]

অথচ এই হাদিসটি যয়িফ [আল-মুসনাদুল মুয়াল্লাল ২২/১৬৩; সুনানু আবিদাউদ বিতাহকিকিল আরনাওওত ৩/৪৮০/১; আন-নাফিলাহ ১/২১; যইফু আবি-দাউদ ২/২২২-২২৩; সিলসিলাতুয যইফাহ ১০/৩১৬-৩১৭; حديث : لا يُسْأل الرجل فيمَ ضرب زوجته ؟]

কিন্তু মুর্খ মানবরা এইটা যয়িফ হাদিস হওয়ার পরও এটাকে আশ্রয় করেও কতই না মিথ্যাচার করে। এই বিষয়ে আরো জানতে চাইলে পড়ুন -

অবশ্যই অনেকে রাসূলের একটি হাদিস প্রমান হিসেবে দেখান যেখানে তিনি আয়শা (রা)-কে আঘাত করেছিলেন। এই দলিলের জবাব - https://www.frommuslims.com/?p=70828

আশা করি উত্তর পেয়েছেন

Back to top button