নারীবাদীদেরকে মুসলিমরা অপছন্দ করে কেন?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামনারীবাদীদেরকে মুসলিমরা অপছন্দ করে কেন?
Hamid asked 3 months ago

নারীবাদীদের প্রতি এত বিদ্বেষ কেন মুসলিমদের? তারা তো শুধু নারীদের অধিকারের জন্যই কাজ করে! এতে খারাপের কি আছে? নারীদের অধিকারের জন্য কাজ করাই কি খারাপ মুসলিমদের কাছে?

1 Answers
Best Answer
On behalf of the authors answered 3 months ago

নারীদের অধিকারের জন্য কাজ করা মুসলিমদের কাছে খারাপ নয়, বরং এর অন্তরায় যে অনৈসলামিক বিষয়গুলোকে নরমালাইজ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে সেগুলোই মুলত মুসলিমদের কাছে খারাপ।

ফেমিনিজম সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা রাখে কিংবা এনজিওর সেক্যুলার কুকুরগুলো যারা ফেমিনিজম প্রচার করছে তাদের প্রত্যেকের ওলস্টোনক্রাফটকে চেনার কথা। তাকে ফেমিনিজমের ফার্স্ট ওয়েভের জননীও বলা যায়। ওলস্টোনের কাজগুলো মূলত নারীদের মানসিকতা ও চিন্তাধারা পরিবর্ত্ন করেছে। তার কাজগুলো নারীদের কোমলময়ী এবং দুর্বল হওয়ার সমালোচনা বলা যায়। মূলত তার পূর্বে নারীরা এমনকি সকল মানুষ নারীদের দুর্বল হওয়াকে মোটেও ভুল কিছু মনে করতো না। কিন্তু ওলস্টোনের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার পর নারীরা নিজেদের দুর্বলতাকে লজ্জাজনক মনে করে এবং তাদের মাঝে পুরুষদের মতো হওয়ার বাসনা তৈরি হয়।

ওলস্টোন মারা যায় মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে। মৃত্যুর পর তার স্বামী উইলিয়াম স্ত্রীর জীবনী লিপিবদ্ধ করেন। তার মতে উইলিয়াম ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক দিক দিয়ে মোটেও স্থিতিশীল ছিলোনা। এছাড়া তার পরকিয়া সম্পর্কও ছিলো, এমনকি পরকিয়া সম্পর্কের ফলে জারজ বাচ্চারও জন্ম হয়েছিলো। ওলস্টোন যে সময়কালে জন্মগ্রহন করেছিলো সে সময়কালে ইউরোপ বেশ রক্ষনশীল ছিলো। কিন্তু এরপরও সে ছিলো চরম যৌন লালায়িত এবং পরকিয়াবাজ।কাজে বুঝতেই পারছেন সে কোন ধরনের দুশ্চরিত্রা ছিলো [১]।

ফেমিনিজমের আরেক কান্ডারী হলেন এলিজাবেথ ক্যান্ডী স্ট্যাটন। ব্যক্তিজীবনে সে কেমন ছিলো তা নাহয় আরেকদিন বলা যাবে আজ তার মহৎ কাজগুলো আলোচনা কাম্য। ১৮৬৮ সালে এলিজাবেথ ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। এরকম একটি পাবলিক প্লেসেও এলিজাবেথ পুরুষদের প্রতি তার বিদ্বেষ লুকায়িত রাখতে পারেনি। সে সরাসরি বলে “পুরুষ হলো একটি ধ্বংসাত্মক শক্তি। কঠোর স্বার্থপর ও উদ্ধত্য। সে যুদ্ধ, সহিংসতা, দখল আর ভোগ করতে ভালোবাসে। বাস্তবতা ও নৈতিকতার দুনিয়ায় সে অনৈক্য,হাঞগামা,ব্যধি ও মৃত্যু বয়ে আনতে চায়” [২]। পুরুষবিদ্বেষ ফেমিনিজমের শুরু থেকেই ছিলো।

এগুলো ফেমিনিস্টদের কিছু ক্ষুদ্র মহত্ব যা তাদের আধুনিক বিশ্বের কালচারাল স্লেইভদের মুখে মহিমান্বিত করে রেখেছে। তবে প্রখ্যাত ফেমিনিস্ট মার্গারেট স্যাঙ্গারের কাজগুলো সকলকে হার মানায়। মার্গারেট ছিলেন ইউজেনিক্স বা সুপ্রজনন বিদ্যার সমর্থক এবং গোড়া এক্টিভিস্ট। ইউজেনিক্স হলো একটি শুদ্ধ অভিজান যা মনে করে মানুষের মাঝে শুধুমাত্র যোগ্যরাই বেচে থাকার অধিকার রাখে। দুর্বল,শ্বেত ও কুষ্ঠ রোগীদের মতো বিরল রোগে আক্রান্ত নারীরা এমনকি পঙ্গু মানুষদের মৃত্যু সমাজের জন্য কল্যানকর। ইতিহাসের পাতায় খুজতে গেলে ইউজেনিক্সের দেখা মিলে জার্মান নাৎসীবাদের মাঝে। হিটলারের সময়কালে ইউজেনিক্স বা শুদ্ধ অভিজানে নাৎসী বাহিনী কতৃক মৃত্যু হয়েছিলো অসংখ্য দুর্বল মানুষদের। তবে নাৎসী জার্মানের কয়েকযুগ আগেই ব্রিটেন ইউজেনিক্স শুরু করে। সময়ের হিসাবে তখন ১৯১২ সাল,লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রথম ইউজেনিক্স কনফারেন্সে আলোচনা হয় কিভাবে এই অভিযানকে মাঠপর্যায়ে পৌছানো যায়। সেখানে ইউজেনিক্স সফলের জন্য প্রস্তাবগুলো ছিলো-

১,অযোগ্যদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নকরন
২,খোজাকরন ও বন্ধাত্বকরনের দিকে জোর প্রদান
৩,বিয়ে এবং অন্যান্য সম্পর্ক প্রতিরোধ
৪,হত্যা
৫,গর্ভধারণে কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

ফেমিনিস্ট মার্গারেট স্যাঙ্গার ছিলেন এই প্রস্তাবসমূহের প্রখর সমর্থক। ১৯১৭ সালে মার্গারেট বার্থ কন্ট্রোল মুভমেন্টের মাধ্যমে জন্মনিয়ত্রন ও গর্ভপাতকে স্বাভাবিকীকরন করা শুরু করে। এমনকি সে নাৎসী বাহিনী কতৃক জোরপূর্বক বন্ধাত্বকরন নীতির অনুরূপ যুক্তরাষ্ট্রে জারি করা আইনের সমর্থক ছিলেন [৩]। আশা করি এখন বুঝতে পারছেন যে কেন ফেমিনিস্টদের পাশ্চাত্যে ফেমিনাজি(femi-nazi) বলা হয়। মজার ব্যাপার হলো মার্গারেট খুব জঘন্য পর্যায়ের বর্নবিদ্বেষীও ছিলেন। তার ইউজেনিক্সের প্রতি সমর্থনের অন্যতম স্পৃহা ছিলো কৃষাঙ্গদের নির্মুল করা।

ফেমিনিস্টদের প্রধান পাওয়োনিয়ারদের ব্যক্তিগত এবং ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনাগুলো প্রথম শোনায় মানুষ নিশ্চয়ই আতকে উঠবে। যেসব ব্যক্তিদের তারা দেবতার আসনে বসিয়েছে তারা মূলত মানবজাতির ধ্বংস কামনা করা শয়তান। কিন্তু এরপরও তাদের প্রতি ফেমিনিস্টদের সম্মান ও শ্রদ্ধা কোনোটাই কমেনি। ইন্টারনেটে এবং আর্কাইভে তাদের জঘন্য কীর্তিকলাপগুলো অতি সুপরিচিত। কিন্তু এরপরও ফেমিনিস্টরা তাদের প্রতি মোটেও কোনো বিদ্বেষ রাখে না,তাদের ঘৃণা করেনা।

আশা করি এই কয়েকটি উদাহরণ হতেই বুঝতে পেরেছেন মুসলিমরা কেন এইসব সোকল্ড নারীবাদিদের বিরোধীতা করে।
তথ্যসূত্রঃ
======

১,Memoirs of the Author of a Vindication of the Rights of Woman.

২,The Destructive Male - 1868. Women’s Suffrage Convention, Washington, D.C., United States of America.

৩,Depopulation! . The Margaret Sanger Papers Project.

addictional information collected from the book "The Feminist Lie" by Bob Louis

উত্তর দিয়েছেন Muhammad Tahmid  

Back to top button