কোরআনে সূরা যারিয়াত আয়াত ৪৬-৫১ নিয়ে কনফিউশন

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: কুরআনকোরআনে সূরা যারিয়াত আয়াত ৪৬-৫১ নিয়ে কনফিউশন
none asked 7 months ago

আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী। আর আমি যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছি। আমি কতইনা সুন্দর বিছানা প্রস্তুতকারী! আর প্রত্যেক বস্তু থেকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে। অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ নির্ধারণ করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। [সূরা যারিয়াত আয়াত ৪৬-৫১]

কুরআনের সুরা যারিয়াতের ৪৬ থেকে ৫১ নাম্বার আয়াতের দিকে তাকালে মনে হয় এটি আল্লাহর বাণী নয়, সাধারনত বহু আয়াতে বল বলা হয় কিন্তু এর বহু আয়াত আগেও বল বলা হয়নি। এর পিছনে কারন কি? আসল রহস্য কি? এখানে কি কোন গ্রামাটিক্যাল বিষয় রয়েছে? ভাষা সাহিত্যের কোন বিষয়? নাকি অনুবাদে ভুল? নাকি আসলেই এটা আল্লাহর বানী নয়? দয়া করে এর সমাধান দিবেন

2 Answers
Tahsin Arafat Staff answered 7 months ago

কুরআনে এমন আরো উদাহরণ আছে। এখানে কুরআনের বাণীটি আল্লাহ, তা'আলার, কিন্তু বক্তা হিসেবে ধরা হয়েছে অন্য কাউকে। সহজ কথায় এই আয়াত আল্লাহ্‌ তা'আলা তাঁর মুখ থেকে বলিয়েছেন। সূরা যারিয়াত আয়াত ৪৭-৫১ এর এই অংশের জন্য ইমাম মাওদূদী (রহঃ) তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন,

এই বাক্যগুলো আল্লাহর বাণী হলেও এখানে বক্তা আল্লাহ নন বরং আল্লাহর রাসূল। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ তার রসূলকে বলেছেন: "আল্লাহর দিকে পালিয়ে যাও: আমি তোমাদেরকে তাঁর কাছ থেকে সতর্ক করছি।" এই শৈলীর একটি উদাহরণ কোরানের প্রথম সূরা, সূরা আল-ফাতিহাতে পাওয়া যায়, যেখানে বাণী আল্লাহর, কিন্তু বক্তারা হলেন বান্দা, যারা বলে: ইয়্যাকা না বুদু ওয়া লাইয়াকা নাস্তা'ইন; ইহদি-নাস সিরাত আল-মুস্তাকিম: "আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং একমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।" সেখানে যেমন বলা হয়নি: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে এভাবে প্রার্থনা কর" কিন্তু প্রসঙ্গটিই প্রমাণ করে যে এটি একটি প্রার্থনা যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের শিক্ষা দিচ্ছেন, তাই এখানেও বলা হয়নি; "হে নবী, এই লোকদের বলুন"। কিন্তু প্রেক্ষাপট নিজেই ইঙ্গিত করে যে এটি আল্লাহর একত্বের দাওয়াত, যা মহানবী (সা.) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পেশ করছেন। সূরা আল-ফাতিহা ছাড়াও, কোরানে এই শৈলীর আরও কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে, যেখানে বাণী আল্লাহর হলেও বক্তারা কোথাও ফেরেশতা এবং কোথাও মহানবী, এবং প্রসঙ্গটি দেখায় যে আল্লাহ কার মাধ্যমে। সেই নির্দিষ্ট জায়গায় কথা বলছি। উদাহরণস্বরূপ, সূরা মরিয়ম: 64-65, আস-সাফফাত: 159-167, আশ-শুআরা: 10 দেখুন। - https://www.alim.org/quran/tafsir/maududi/surah/51/47/

শায়েখ আবু বকর জাকারিয়া (হাফিঃ) তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন,

৫০. অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও[1], নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক স্পষ্ট সতর্ককারী।[2]

  1.  অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। উদ্দেশ্য এই যে, তওবা করে গোনাহ থেকে ছুটে পালাও। প্রবৃত্তি ও শয়তান মানুষকে গোনাহের দিকে দাওয়াত ও প্ররোচনা দেয়। তোমরা এগুলো থেকে ছুটে আল্লাহর শরণাপন্ন হও। তিনি তোমাদেরকে এদের অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর; কুরতুবী]
  2. এ বাক্যাংশ যদিও আল্লাহ তা'আলারই বাণী, কিন্তু এটি আল্লাহ তাঁর নবীর মুখ দিয়ে বলাচ্ছেন যে, আল্লাহর দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি। এ ধরনের কথার উদাহরণ কুরআন মজীদেও বহু স্থানে এসেছে [দেখুন: আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]

- https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=4725

ইবনে আশুর রহঃ (মৃঃ ১৩৯৩ হিজরি) তাঁর তাফসীরে একই কথা উল্লেখ করেছেন,

ففروا إلى الله فالجملة المفرعة بالفاء مقول قول محذوف والتقدير: فقل فروا، دل عليه قوله: إني لكم منه نذير مبين فإنه كلام لا يصدر إلا من قائل ولا يستقيم أن يكون كلام مبلغ. وحذف القول كثير الورود في القرآن وهو من ضروب إيجازه، فالفاء من الكلام الذي يقوله الرسول صلى الله عليه وسلم، ومفادها التفريع على ما تقرر مما تقدم. وليست مفرعة فعل الأمر المحذوف لأن المفرع بالفاء هو ما يذكر بعدها.وقد غير أسلوب الموعظة إلى توجيه الخطاب للنبيء صلى الله عليه وسلم بأن يقول لهم هذه الموعظة لأن لتعدد الواعظين تأثيرا على نفوس المخاطبين بالموعظة.والأنسب بالسياق أن الفرار إلى الله مستعار للإقلاع عن ما هم فيه من الإشراك وجحود البعث استعارة تمثيلية بتشبيه حال تورطهم في الضلالة بحال من هو في مكان مخوف يدعو حاله أن يفر منه إلى من يجيره، وتشبيه حال الرسول صلى الله عليه وسلم بحال نذير قوم بأن ديارهم عرضة لغزو العدو فاستعمل المركب وهو ففروا إلى الله في هذا التمثيل. - (আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর ২৭/১৯ https://shamela.ws/book/9776/9199#p1 )

জাযাকাল্লাহ খাইর।

Ashraful Nafiz Staff answered 6 months ago

Tahsin Arafat এর উত্তর দেখে একজন একটা মন্তব্য করেছিল। সেই মন্তব্যকারীর সাথে আমার কথোপকথন নিছে উল্লেখ করছি।

  • মন্তব্যকারীঃ-

এগুলোর ব্যাখ্যা তাফসিরকারকরা দিয়েছেন মাত্র কিন্তু এই তাফসীর দ্বারা কুরআনের উপর আরোপিত অভিযোগ খন্ডিত হয় না।তাফসিরকারকা এই আয়াতগুলোর হিসাব মিলাতে পারছিলেন না তাই এরকম বলেছেন।আরও অসংখ্যা জায়গায় এরকম ত্রুটি রয়েছে।যেমন ৬:৯৭-৯৯

  • আমিঃ-

কীসের ভিত্তিতে ত্রুটি?

আল্লাহ আগের আয়াতে নিজে বক্তা ও পরের আয়াতে রাসুলকে বক্তা বানালে এটাতে কীসের ত্রুটি রয়েছে? কীভাবে এটা ত্রুটি? কীসের ভিত্তিতে ত্রুটি?

আল্লাহ কেন নিজের এর আগের আয়াতে বক্তা ও পরের আয়াতে রাসুলকে বক্তা বানাতে পারবেন না?

এমনটা করলে সমস্যা কোথায়? এমনটা করলে ভুল কেন হবে?

কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ মোজেজা হচ্ছে এর সাহিত্য রচনা, অলংকার। কবি, সাহিত্যিকরা নতুন নতুন পদ্ধতি তৈরি করেন, সেটা তারা ব্যাখ্যা না করে গেলেও পরবর্তী জেনারেশনের মানুষরা সেটাকে সাহিত্যেরই একটা নতুন ধরন হিসেবে গ্রহণ করে ও সেভাবেই ব্যাখ্যা করে। তা হলে এই ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়? আল্লাহ নতুন একটি নিয়মে নিজের মত করে নিজের সাহিত্য রচনা করেছে, এতে ভুল কোথায়?

অনেক সময় অনুবাদের সময় বহু বিখ্যাত ও অসাধারণ প্রতিভার সাহিত্যিক, কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকারের লিখার অরজিনাল ভাব, সূর ক্যাচ করা সম্ভব হয় না, বুঝা বা উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না, এটা কি লেখকের ফল্ট? তেমনই কোরআনের সাহিত্যের আসল ভাব, সূর, ফিলটা, সৌন্দর্যটা আরবি জানা মানুষরা ক্যাচ, উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু আপনি-আমি পারি নাই, তার মানে কি এটা আল্লাহর দোষ?

  • মন্তব্যকারীঃ-

এখানে আল্লাহ রাসুলকে বক্তা বানাতে পারেন না কারণ কুরআন যেহেতু আল্লাহর বাণী তাই।রাসুলকে বক্তা বানালে এটা তার বক্তব্য এরকম কোনো শব্দ উল্লেখ থাকতে হব।আছে কি?নেই।আর কত ত্যানা প্যাচাবেন

  • আমিঃ-

আপনি আমার একটা প্রশ্নেরও উত্তর দেন নাই। আমি প্রশ্ন করেছি কিন্তু আপনি সেগুলোকে ত্যানা প্যাঁচানো বলে এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু আসলেই কি আমার প্রশ্নগুলো ত্যানা প্যাঁচানো ছিল? একটু নিজেই চিন্তা করে দেখুন।

কেন পারবে না? কারণ আপনি যেমন বুঝেন সে অনুযায়ী পারবে না। রাসুলকে বক্তা বানালে সেরকম ওয়ার্ড উল্লেখ থাকতে হবে, কারণ আপনি যেমন বুঝেন বা জানেন সে অনুসারে। আজিব চিন্তা চেনতা যতসব! আপনার জানা টুকুর উপরই ভিত্তি করে কেন সব কিছু হতে হবে?

আরবির উদাহরণ দিলেতো বুঝবেন না, বাংলারই উদাহরণ দিই। কোরআনে আল্লাহ বহুবার রাসুলকে বক্তা বানানোর আগে বলুন বলেছেন। তার মানে কি প্রতিবারই একই কথা বলতে হবে? হয়তো আপনার জ্ঞান অনুসারে বলতে হবে, কিন্তু ব্যাকরণিক দিক দিয়ে বা সাহিত্যিক দিক দিয়ে হয়তো এই বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে।

বচন সম্পর্কে তো জানেনই আশা করি, কমন বেসিক ব্যাকরণ এসব। এক বচনের ক্ষেত্রে সেটার আগে এক সংখ্যাটাকে উল্লেখ করতে হয় না, টা,টি ইত্যাদি ব্যবহার না করলেও সেটাকে একটাই ধরা হবে যদি বহুবচনের কোন শব্দ যুক্ত না থাকে। এটার মধ্যে এক এর ধারণা আগ থেকেই থাকে এই কারণে একটা উল্লেখ করতে হয় না।

বাক্যে আমরা অনেক উহ্য শব্দ ব্যবহার করি। মানে বাক্যকে নির্দিষ্ট কোন একটা শব্দ সরাসরি বলি না কিন্তু পরবর্তী মানুষ হয়তো ঠিকই বুঝে যায় আমি কীসের কথা বলছি। এটা বহু কমন একটা কাজ যা আমরা করে থাকি, হয়তো এটা আপনিও স্বীকার করবেন। এর কারণ কী? ঐ শব্দের ধারণা আগ থেকেই রয়েছে আমাদের যার কারণে আমরা সেটা বুঝতে পারি, যার কারণে আলাদা করে সেটাকে মেনসন না করলেও আমরা বুঝতে পারি কোনটার কথা বলা হচ্ছে। কিছু উদাহরণ দিলে হয়তো ভালোভাবে বুঝবেন, “রহিমা গাঁথছে!”, “ঠিক আছে এবার যাই”।

এছাড়া বাংলা ব্যাকরণে উহ্য কর্ম, উহ্য কর্তা ইত্যাদিরও কনসেপ্ট রয়েছে। যেমন উহ্য কর্মের উদাহরণ হল আমি খাচ্ছি, আমি পড়ছি, আমি শুননি, আমি লিখছি ইত্যাদি। এখানে খাবার, বই, কথা, ইত্যাদি উহ্য কর্মের উদাহরণ। এছাড়া উহ্য কর্তার উদাহরণ হচ্ছে, এখনি লিখে ফেলছি, এখানে এসো, কলমটি দে, বই পড়ছে ইত্যাদি। এখানে আমি, তুমি, সে উহ্য কর্তার উদাহরণ। কেউ যদি বাংলা ব্যাকরণ নাও জানে তারপরও সে বুঝতে পারবে এইখানের উহ্য শব্দগুলো কী হবে।

বাংলা ব্যাকরণে উহ্যের কনসেপ্টটা যতটা সহজ আরবিতে ততটা সহজ নয়। আপনি অনলাইনে খুঁজে দেখতে পারেন তাহলে হয়তো বুঝতে পারবেন কতটা বিস্তর আরবিতে এই বিষয়টা।

আরো কয়েকটা বিষয়ের উদাহরণ দিই, ধরেন আপনাকে আপনার মা বলল ডিম আনতে, পান আনতে, তরকারি আনতে, মাছ আনতে। আপনি হয়তো সর্বোচ্চ একডজন ডিম, এক বিড়া পান, ১ কেজি করে তরকারি, ২/৩ কেজি করে কয়েকটা আইটেম থেকে মাছ নিবেন, বা আপনার পরিবার অনুযায়ী কম বেশি নিবেন (সামর্থ্য থাকলেও)। আপনার টাকা থাকলেও আপনি একে বারে অনেকগুলো নিবেন না বা একেবারে কম নিবেন না, কারণ আপনার ধারণা রয়েছে আপনার পরিবারে কতটুকু কি লাগবে, যদিও আপনাকে একটারও পরিমাণের কথা বলা হয়নি।

ঠিক একইভাবে কোরআনে বহুবার বলুন বলে আল্লাহ রাসুলকে বক্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, সেহেতু আমাদের আগ থেকেই ধারণা রয়েছে যে কোথাও যদি রাসূল বক্তা হন তাহলে অবশ্যই সেখানে আল্লাহই উনাকে বক্তা বানিয়েছেন বিধায় এমন হয়েছে, যদিও সেখানে বলুন বা এই জাতীয় কোন শব্দ উল্লেখ নাও থাকে।

Back to top button