হিন্দুধর্ম

হিন্দু ভ্রুণবিদ্যার আসল চেহারা

হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ভ্রুণবিদ্যা। প্রাচীনকালে মানুষের কাছে আজকের মতো এতটা উন্নত প্রযুক্তি ছিলো না। যার ফলে তারা ভ্রুণবিদ্যা বিষয় তেমন কিছু জানতো না। আর যাও বা জানতো তার প্রায় সবই অনুমান এবং কুসংস্কার ভিত্তিক।

দেখা যাক হিন্দু ভ্রুণবিদ্যা আধুনিক ভ্রুণবিদ্যার সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গর্ভবতী পুরুষ

ঋগ্বেদের আর্যসমাজী অনুবাদে রয়েছে,

गतमन्त्र का वेदाध्येता उस पालक पिता के और शक्तियों का विकास करनेवाले प्रभु के गर्भ को धारण करता है, अर्थात् अपने हृदय में प्रभु को स्थापित करता हैं।[1]ঋগ্বেদ ৩/১/১০, অনুবাদঃ হরিশহরণ সিদ্ধান্তলঙ্কার

উচ্চারণঃ গতমন্ত্র কা বেদাধ্যেতা উস পালক পিতা কে ঔর শক্তিয়ো কা বিকাস করনেবালে প্রভু কে গর্ভ কো ধারণ করতা হয়, অর্থাত অপনে হৃদয় মেনে প্রভু কো স্থাপিত করতা হয়।

অনুবাদঃ পালক পিতা গর্ভধারণ করে এবং ভগবান শক্তির বিকাশ ঘটান।

আমি বুঝলাম না যে পুরুষ কিভাবে গর্ভবতী হয়? এমন ভ্রুণবিদ্যা সত্যিই আশ্চর্যের!!

অগর্ভবতী কিন্তু গর্ভবতী

Just as an unpregnated female receives and carries the new embryo…[2]ঋগ্বেদ ৪/৭/৯, তুলসীরাম শর্মা

অনুবাদঃ ঠিক যেমন একটি অগর্ভবতী মহিলা নতুন ভ্রূণ গ্রহণ করে এবং বহন করে…..

আমি আসলেই বুঝতে পারছিনা যে একজন মহিলা যদি অগর্ভবতী ই হয়, তবে তার শরীরে ভ্রুণ আসলো কিভাবে??

উক্ত মন্ত্রের আরও ভাষ্য এবং অনুবাদ দেখে নেওয়া যাক।

Bright God, thy path is black: light is before thee: thy moving splendour is the chief of wonders.
When she, yet unimpregnate, hath conceived thee, even when newly born thou art an envoy.
(Translated by Ralph T.H Griffith)

অনুবাদঃ সে অগর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও তোমায় গর্ভ ধারণ করেছে। কারন তুমি সদ্য জন্ম নিলেও তুমি ঈশ্বরের দূত।

উক্ত মন্ত্রেও অগর্ভবতী ব্যাক্তির গর্ভ ধারণের বিষয় বলা হয়েছে। কিন্তু আদৌও কি এটা সম্ভব?

বীর্যের কেন্দ্র নাভি

Seven constituents of physique: rasa or chyle, rakta or blood, mansa or flesh, meda or fat, asthi or bone, majja or marrow and virya or semen, hold their centre in the heart and in the navel and perform their function for the system, there they say is the seat of your origin.[3]অথর্ববেদ ১/২৫/১, তুলসীরাম শর্মা

অনুবাদঃ দেহের সাতটি উপাদান: রক্ত, মাংস,  মেদ,অস্থি, মজ্জা,বীর্য এবং হৃদয় নাভিতে তাদের কার্য সম্পাদন করার জন্য কেন্দ্র ধারণ করে।

আমি এখন অবধি কোনো ভ্রুণবিজ্ঞানের বইয়ে পাইনি যে বীর্যের কেন্দ্র নাভি। আশা করি এমন বিজ্ঞান আমরা ভবিষ্যতে আবিস্কার করতে পারবো।

এবার আসা যাক বেদের বাইরে অন্যান্য হিন্দুশাস্ত্র ভ্রুণ বিষয় কি বলে…

হাড্ডি থেকে বীর্যের উত্পত্তি

From the bone the pith and marrow take their origin and the origin of Semen is from the marrow.[4]ব্রহ্মান্ড পুরাণ ২/৩/৭২/৪২-৪৭

হাড় থেকে পিত্ত এবং  মজ্জার উৎপত্তি হয় এবং বীর্যের উৎপত্তি হয় মজ্জা থেকে।

এখানে সুস্পষ্ট বলা হচ্ছে বীর্য উৎপন্ন হয় হাড়েঁর মজ্জা থেকে। কিন্তু জীববিজ্ঞানের কোনো বইয়েই এমন কিছু পাওয়া যায় না।

মানুষের বীর্য খেয়ে গর্ভবতী পশু

The semen virile of the royal sage Yūpaketu fell into water. It is said that a harlot drank that water together with the semen and became pregnant. After drinking the semen of Sage Vibhāṇḍaka together with water, a female deer became pregnant and gave birth to Ṛṣyaśṛṅga.
A female deer touched the hand of the king of Surāṣṭra, became pregnant instantly and gave birth to an ascetic. Similarly, the woman Satyavatī was born of the womb of the glittering fish called Śapharī. The demon Mahiṣa was born of the womb of a buffalo.[5]স্কন্দপুরাণ, ব্রহ্মখন্ড (৩), উত্তরখন্ড (৩), অধ্যায় ১৯, শ্লোক ৬৪-৬৭

অনুবাদঃ রাজকীয় ঋষি যুপকেতুর বীর্য জলে পড়ে গেল।  কথিত আছে যে এক বেশ্যা সেই জল বীর্যের সাথে একত্রে পান করে গর্ভবতী হয়। বীর্য একত্রে জলের সাথে পান করার পর, একটি মাদি হরিণ গর্ভবতী হয়। একটি স্ত্রী হরিণ রাজার হাত স্পর্শ করে, সাথে সাথে গর্ভবতী হয় এবং একটি সন্ন্যাসীর জন্ম দেয়।  একইভাবে, নারী সত্যবতীর জন্ম হয়েছিল সাফরী নামক চকচকে মাছের গর্ভে।  মহিষের গর্ভে দানব মহিষের জন্ম হয়েছিল।

মানুষের বীর্যপানে একটি পশু কিভাবে গর্ভবতী হয় তাই এখনো বুঝতে অক্ষম বর্তমান বিজ্ঞান।

ঘাম থেকেই বাচ্চা জন্ম

O excellent king, Parameṣṭhin Rudra sported about with Umā in the vast expanse of sea-like water. A splendid girl was born out of the sweat of Umā due to her delight. When Śarva’s chest pressed against the breasts of Umā, a great girl of lotus-like eyes issued forth from the sweat.[6]স্কন্দপুরাণ ৫/৩/৫/২৯-৩২

অনুবাদঃ হে রাজা, রুদ্র উমাকে নিয়ে সমুদ্রসদৃশ জলের বিস্তীর্ণ বিস্তৃতিতে খেলা করছিলেন।  আনন্দে উমার ঘাম থেকে এক সুন্দরী মেয়ের জন্ম হল।  যখন সারবের বুক উমার স্তনের সাথে চাপা পড়ে, তখন ঘাম থেকে বেরিয়ে আসে পদ্মের মতো চোখের একটি  মেয়ে।

ঘাম থেকেও যে কোনো শিশু জন্মলাভ করতে পারে তা হিন্দুশাস্ত্র থেকেই জানা সম্ভব।

বীর্য রক্তের সাথে মিশে ভ্রুণ তৈরি করে

As soon as the semen is cast into the womb it is mixed up with blood.
[7]Brahma Vaivarta Purana, Prakriti Khanda 35.121-141

অনুবাদঃ বীর্য গর্ভে যাওয়ার সাথে সাথে তা রক্তের সাথে মিশে যায়।

আচ্ছা বীর্য গর্ভে ফেলার সাথে সাথে তা রক্তের সাথে মিশে যায় এমন কোনো প্রমাণ কি বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত?? না।  উক্ত শ্লোকে যা বলা রয়েছে কিছুই বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

…when semen and blood become mixed due to the intercourse of a man and a woman, a creature is born undoubtedly…[8]Skanda Purana 5.3.159.33-53

অনুবাদঃ যখন একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার মিলনের ফলে বীর্য এবং রক্ত ​​​​মিশ্রিত হয়, তখন নিঃসন্দেহে একটি প্রাণীর জন্ম হয়।

বাহ চমৎকার ভ্রুণবিদ্যা। এজন্যই বর্তমান বিজ্ঞান থেকে হিন্দু ঋষিরা অধিক জ্ঞানী ছিলো।

এ টপিকে বিস্তারিতঃ

পরিশেষে বলাই বাহুল্য যে হিন্দু শাস্ত্রের ভ্রুণবিদ্যা এতটাই কাল্পনিক যে বিজ্ঞান তো দূরেই থাক, আদিবাসীও বিশ্বাস করবে না।

    Footnotes

    Footnotes
    1ঋগ্বেদ ৩/১/১০, অনুবাদঃ হরিশহরণ সিদ্ধান্তলঙ্কার
    2ঋগ্বেদ ৪/৭/৯, তুলসীরাম শর্মা
    3অথর্ববেদ ১/২৫/১, তুলসীরাম শর্মা
    4ব্রহ্মান্ড পুরাণ ২/৩/৭২/৪২-৪৭
    5স্কন্দপুরাণ, ব্রহ্মখন্ড (৩), উত্তরখন্ড (৩), অধ্যায় ১৯, শ্লোক ৬৪-৬৭
    6স্কন্দপুরাণ ৫/৩/৫/২৯-৩২
    7Brahma Vaivarta Purana, Prakriti Khanda 35.121-141
    8Skanda Purana 5.3.159.33-53
    Show More
    5 1 vote
    Article Rating
    Subscribe
    Notify of
    guest
    6 Comments
    Oldest
    Newest Most Voted
    Inline Feedbacks
    View all comments
    Roni saha
    Roni saha
    11 months ago

    ভাই না জেনে মিথ্যাচার করাটা ভালো না পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার দুই নম্বর সূরার ৪২ নাম্বার আয়াতে বলা আছে তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যা কে মিশ্রিত করো না তো কারণ তারা আপনি কিন্তু কুরআনকে অবমাননা করছেন। আপনার যদি ঈমান থাকে ঈমানের জোর থাকে ইসলাম যদি সত্য হয় আপনি যদি মায়ের দুধ পান করে থাকেন সৎ সাহস থাকে তাহলে আসুন লাইভে আসুন আপনি প্রমাণ করুন আমি আপনাকে প্রমাণ করে দেব যে আপনার সমস্ত তথ্য গুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা। আর সনাতন ধর্মে যে ভুলবিদ্যার কথা বলা আছে তা পৃথিবী বিখ্যাত যা কেউই এ পর্যন্ত এত অ্যাডভান্স বলতে পারেনি। ওপেন চ্যালেঞ্জ থাকলো আপনাকে ০১৭১৯২৪৭৬১২

    Fahim Khan
    Reply to  Roni saha
    11 months ago

    তাহলে আপনিই এবিষয়ে একটা লেখা লিখে এই “মিথ্যাচার” খণ্ডন করে লিংক শেয়ার করেন। পড়ে দেখি কেমন লাগে।  

    joy
    joy
    Reply to  Fahim Khan
    11 months ago

    bhai apni jotogulo refarecne dilen tar sobkota gronther pdf link din . amrao pore dekhi j konta sottyo .

    jodi dom thake

    Tahsin Arafat
    Reply to  joy
    11 months ago

    নিজেদের ধর্মগ্রন্থের pdf মুসলিমদের কাছে চাচ্ছেন, ব্যাপারটা ইন্টেরেস্টিং!

    A Rational Believer Of Islam
    Reply to  joy
    11 months ago

    আপনাদের তো ঈশ্বরের ই ঠিক নাই, ধর্ম গ্রন্থ দিয়ে কি করবেন?

    মুসাফির
    মুসাফির
    Reply to  Roni saha
    7 months ago

    না জেনে লিখবে কেন? জেনেই তো লিখেছে। আর যদি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা হয় তবে সঠিক তথ্য প্রদান করুন। আর ADVANCE কি লিখা আছে তাও একটু জানাবেন!

    Back to top button