ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাবহাদিস

রাসূল (ﷺ) কি সাফিয়্যা (রাঃ) কে কটু কথা বলেছিলেন?

“আর নিশ্চয় তুমি (মুহাম্মদ) মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।” - কুর'আন ৬৮:৪

যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, যিনি জীবনে কখনো মন্দভাষিনী ছিলেন না, যিনি ইসলাম প্রচারের সময় আরবের মুশরিকরা পর্যন্ত কখনো তাঁকে অসৎ বলতে পারে নি – হাজার বছর পরে স্বল্প জানা কিংবা না জানা মুসলিমদেরকে রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে অমুসলিম মহল। তাদের বেতনভুক্ত ফুটসোলজার নাস্তিকদের ছড়ানো একটি বিভ্রান্তি এবং তার নিরসন নিয়ে আলোচনা করছি আজ।

অভিযোগ

বর্তমানে বহু বঙ্গীয় নাস্তিক ও সনাতনীদেরকে হজ্জ্ব সম্পর্কিত একটা হাদিস নিয়ে প্রোপাগাণ্ডা চালাতে দেখা যায়। আর আরবি না জানা আমরা খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাই, আসলে কী বলা হয়েছে তা না বুঝে। হাদিসটি হলোঃ

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ১৬/ হাজ্জ (كتاب الحج)
হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৮
৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য

৩০৯৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) … হাকাম ইবরাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সাফিয়্যাকে তাঁর তাঁবুর দরজায় চিন্তিতা ও অবসাদগ্রস্তা দেখতে পেলেন। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা, নেড়ি! তুমি আমাদের (এখানে) আটকে রাখবে? তিনি পুনরায় তাকে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ) যিয়ারত করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে রওনা হও।


Sahih Muslim, 1211ag; In-Book Reference: Book 15, Hadith 432; USC-MSA web (English) reference: Book 7, Hadith 3066

ইংরেজি অনুবাদঃ’A’isha (Allah be pleased with her) reported: When Allah’s Apostle (ﷺ) decided to march (for return journey), he found Safiyyah at the door of her tent, sad and downcast. He remarked. Barren, shaven-head, you are going to detain us, and then said: Did you perform Tawaf Ifada on the Day of Nahr? She replied in the affirmative, whereupon he said: Then march on.


আরবি ইবারতঃ

باب وُجُوبِ طَوَافِ الْوَدَاعِ وَسُقُوطِهِ عَنِ الْحَائِضِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْفِرَ إِذَا صَفِيَّةُ عَلَى بَابِ خِبَائِهَا كَئِيبَةً حَزِينَةً ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ عَقْرَى حَلْقَى إِنَّكِ لَحَابِسَتُنَا ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لَهَا ‏”‏ أَكُنْتِ أَفَضْتِ يَوْمَ النَّحْرِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَانْفِرِي ‏”‏ ‏.‏ [1]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=12709

অমুসলিম এবং মুনকিরিনে হাদিসরা এই হাদিসের অনুবাদের আর কিছু না পারুক, উল্লেখিত ‘বন্ধ্যা, নেড়ি!’ অংশ দেখিয়ে দেখিয়ে প্রচার করে যে নবীজী নাকি সাফিয়্যা (রাঃ) কে গালমন্দ করেছেন (নাউজুবিল্লাহ)। আসুন ভেঙে ভেঙে দেখি আসল ঘটনা কী?

এখানে বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদিসে বর্ণিত ‘আক্বরা হালক্বা’ (عَقْرَى حَلْقَى) এর অনুবাদ করেছে ‘বন্ধ্যা, নেড়ি’ এবং ইংরেজিতে Abd-al-Hamid Siddiqui অনুবাদ করার সময় ব্যবহার করেছেন ‘Barren, Shaven-head’! আমরা এই অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনার আগে দেখে নেবো ‘আক্বরা হালক্বা’ বলতে কী বুঝিয়েছে আসলে। অনুবাদে ভুলত্রুটি হয়েই থাকে।

আক্বরা হালক্বা (عَقْرَى حَلْقَى) শব্দের ব্যবহার হজ্জ্বের সাথে সম্পর্কিত

একই শব্দের বিভিন্ন অর্থ হতে পারে,

কিন্তু সেই শব্দের কোন অর্থ কোন স্থানে প্রয়োগ হবে, সেটা আমাদেরকেই বুঝে নিতে হয় এবং বুঝে নিতে হবে,

আর সঠিক প্রয়োগ এবং অর্থ বোঝার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যেমনঃ

  1. উরফ বা সমাজের বোঝার ধরন এবং সমাজের বুঝ গ্রহণঃ অর্থাৎ যে শব্দটা আমি ব্যবহার করলাম সমাজ সেই শব্দের অর্থ হিসেবে কী বুঝে নিলো?
  2. সিয়াকে কালামঃ কথার আগ-পিছু দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন অর্থে শব্দটা গ্রহণ করা যাবে।
  3. তাকাজায়ে কালামঃ কথার মৌলিক চাহিদা ও উদ্দেশ্য বোঝার মাধ্যমে।
  4. নলেজ অফ ডিকশনারিঃ শব্দের কতটি অর্থ আছে অভিধানে এবং কী কী অর্থ হতে পারে, শব্দের রূপক অর্থ-বাহ্যিক অর্থ-সমার্থক বোধক এবং বিপরীতমুখী প্রত্যেকটি দিক সম্পর্কে জ্ঞান থাকার মাধ্যমে।
  5. ইভ্যুলেশন অফ ডেফিনেশনঃ কোনো শব্দের প্রাচীন ব্যবহার, বর্তমান ব্যবহার ও ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখার মাধ্যমে; এবং শব্দের ব্যবহারে কোনও পরিবর্তন এসেছে কিনা বা পরিবর্তন আসলে সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থাতে সেটা কি অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটা জানার মাধ্যমে।
  6. পয়েন্ট অফ ভিউ বা দৃষ্টিকোণঃ সেই শব্দটি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহার করা হয়েছে।
  7. মাকানঃ শব্দটি কোন স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে বা কার ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়েছে, ব্যক্তি বা স্থানের পরিবর্তনে শব্দের অর্থের পরিবর্তন হয় কিনা না সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  8. মৌলিক উদ্দেশ্য অথবা সারমর্ম জানাঃ খতিব বা বক্তার বক্তব্যের মৌলিক উদ্দেশ্য বক্তার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে , কিংবা কথার তাৎপর্য বক্তার আগে পরের কথা দেখে বুঝে নিতে হবে এবং বক্তার পরবর্তী ব্যাখ্যা থেকে সেটা গ্রহণ করার মাধ্যমে।

এই কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে আমরা আক্বরা এবং হালকা-এর অর্থ খোঁজার চেষ্টা করবো ইংশা-আল্লাহ।

আক্বরা

আল্লাহ তা’আলা কুর’আনের সূরা আশ-শামসে উল্লেখ করেছেন,

فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنۢبِهِمْ فَسَوَّىٰهَا

উচ্চারণঃ ফাকায্•য•বূহু ফা’আকারূহা-ফাদাম‌্দামা ‘আলাইহিম রাব্বুহুম বিযাম্‌বিহিম ফাছাওওয়াহা-।

অনুবাদঃ কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করল এবং উষ্ট্রীকে যবেহ করল। ফলে তাদের রব তাদের অপরাধের কারণে তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিলেন। অতঃপর তা একাকার করে দিলেন। (বায়ান ফাউন্ডেশন)কুর’আন, সূরা আশ-শামস্ ৯১:১৪

এখানে ব্যবহৃত ফা’আকারূহা (فَعَقَرُوهَا) শব্দটির মূলশব্দ হলো আকর (عقر), যার ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হলো আক্‌র।

রাসূল (ﷺ) কি সাফিয়্যা (রাঃ) কে কটু কথা বলেছিলেন?

উক্ত আয়াতে এই শব্দের অর্থ হলো জবাই করা। এখানে উট জবাই করার অর্থে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কুর’আনের আরও আয়াতে এই শব্দের ব্যবহার রয়েছেঃ

فَعَقَرُواۡ ٱلنَّاقَةَ وَعَتَوْاۡ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُواۡ يَٰصَٰلِحُ ٱئْتِنَا بِمَا تَعِدُنَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ

অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে যবেহ করল এবং তাদের রবের আদেশ অমান্য করল। আর তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক’। (বায়ান ফাউন্ডেশন)কুর’আন, সূরা আল-আরাফ ৭:৭৭

فَعَقَرُوهَا فَقَالَ تَمَتَّعُواۡ فِى دَارِكُمْ ثَلَٰثَةَ أَيَّامٍۖ ذَٰلِكَ وَعْدٌ غَيْرُ مَكْذُوبٍ

অতঃপর তারা তাকে হত্যা করল। তাই সে বলল, ‘তোমরা তিন দিন নিজ নিজ গৃহে আনন্দে কাটাও। এ এমন এক ওয়াদা, যা মিথ্যা হবার নয়’। (বায়ান ফাউন্ডেশন) কুর’আন, সূরা হুদ ১১:৬৫

فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُواۡ نَٰدِمِينَ

অতঃপর তারা সেটি জবেহ করল; ফলে তারা অনুতপ্ত হল। (বায়ান ফাউন্ডেশন) কুর’আন, সূরা আশ-শুআরা ২৬:১৫৭

এই একই শব্দ ‘আক্বরা’ ব্যবহৃত হয়েছে আমাদের আলোচ্য হাদিসে, যার অর্থ হবে পশু কুরবানি করা/জবেহ করা। উক্ত হাদিসটি হজ্জ্ব সম্পর্কিত, সহিহুল বুখারী-মুসলিম, সুনানে আদ-দারেমী ইত্যাদির কিতাবুল হজ্জ্বে আনা হয়েছে উক্ত হাদিসটি। হজ্জ্বের একটি অংশ হলো পশু জবেহ করা, যাকে আমরা কুরবানি জানি। আলোচ্য হাদিসে তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবার শব্দের অর্থ বোঝার পয়েন্টগুলো মিলিয়ে দেখিঃ আক্বরা শব্দের অর্থ কিন্তু বন্ধ্যাও হয়।[2]আরও অনেক অর্থই হয়ঃ https://www.almaany.com/ar/dict/ar-ar/%D8%B9%D9%8E%D9%82%D9%92%D8%B1%D9%8E%D9%89/ আবার জবেহ করাও হয়। এখন এখানে কোনটা বোঝাচ্ছে? সবকিছু মিলিয়ে দেখলে এই দাঁড়ায় হাদিসটি হজ্জ্বের সাথে সম্পৃক্ত। (হাদিসগুলো আলাদা করে সামনে আলোচনা করা হবে) হজ্জ্বের সাথে বন্ধ্যা হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আলেমগণের বুঝ নয়। বরং, এখানে হজ্জ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কুরবানিকেই নির্দেশ করছে।

হালক্বা

আসুন এবার দেখি হালক্বা (حَلْقَى) বলতে কী বোঝায়। আল্লাহ তা’আলা কুর’আনে সূরা আল-বাকারাহতে বলেছেন,

وَأَتِمُّواۡ ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِۖ وَلَا تَحْلِقُواۡ رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْهَدْىُ مَحِلَّهُ‌وۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۧٓ أَذًى مِّن رَّأْسِهِۧ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍۚ فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلْعُمْرَةِ إِلَى ٱلْحَجِّ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَٰثَةِ أَيَّامٍ فِى ٱلْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ‌و حَاضِرِى ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِۚ وَٱتَّقُواۡ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓاۡ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ

উচ্চারণঃ ওয়া আতিম্মুল হাজ্জা ওয়াল্ ‘উম্‌রাতা লিল্লা-হি ফাইন্ উহ•সিরতুম্ ফামাছ্ তাইছারা মিনাল্ হাদ্‌য়ি ওয়ালা- তাহ•লিকূ• রুঊছাকুম্ হাত্তা- ইয়াবলুগাল হাদইউ মাহি•ল্লা-হূ ফামাং কা-না মিংকুম্ মারীদদান্ আও বিহী~ আযাম্ মির রা’ছিহী ফাফিদ্ইয়াতুম মিং সিয়া-মিন আও সাদাকাতিন আও নুছুকিং ফাইযা-আমিংতুম ফামাং তামাত্তা‘আ বিল ‘উমরাতি ইলাল্ হাজ্জি ফামাছ্তাইছারা মিনাল্ হাদয়ি ফামাল্লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মু ছালা-ছাতি আইয়া-মিং ফিল্ হাজ্জি ওয়া ছাব্‘আতিন ইযা-রাজা‘তুম তিল্‌কা ‘আশারাতুং কা-মিলাতুং যা-লিকা লিমাল্লাম্ ইয়াকুন্ আহলুহূ হা-দি•রিল& মাছজিদিল্ হারা-মি ওয়াত্তাকূ•ল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব।

আর হজ ও উমরা আল্লাহর জন্য পূর্ণ কর। অতঃপর যদি তোমরা আটকে পড় তবে যে পশু সহজ হবে (তা যবেহ কর)। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করো না, যতক্ষণ না পশু তার যথাস্থানে পৌঁছে। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে। আর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি উমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা যবেহ করবে। কিন্তু যে তা পাবে না তাকে হজে তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন সাত দিন সিয়াম পালন করবে। এই হল পূর্ণ দশ। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মাসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আযাবদানে কঠোর। (বায়ান ফাউন্ডেশন) কুর’আন, সূরা আল-বাকারাহ ২:১৯৬

এখানে মাথা মুন্ডন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তাহ্‌লিক্বূ (تَحْلِقُواۡ) শব্দটি, যার মূলশব্দ হচ্ছে হালক্ব (حلق):

রাসূল (ﷺ) কি সাফিয়্যা (রাঃ) কে কটু কথা বলেছিলেন?

এবং এর ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হচ্ছে হাল্‌ক্ব।

হাদিসে উল্লেখিত হালক্বা (حَلْقَى) মাথা ন্যাড়া করাকে নির্দেশ করে। আর আমরা জানি হজ্জ্বের শেষে মাথা ন্যাড়া করা বা কামিয়ে ফেলতে হয়। মহিলাদের জন্য এর মানে হলো চুলের অগ্রভাগ কিছুটা কেটে ফেলা। এই শব্দ দ্বারা সেটাই নির্দেশ করছে।

১৩ শতাব্দীর আলিম ইবনে মনজুর (রহঃ) তাঁর লিসানুল আরব অভিধানে হাদিসে উল্লেখিত ‘হালক্বা’ শব্দটি নিয়ে বিস্তর তথ্য উল্লেখ করেছেন। এই শব্দের সবগুলো ভার্শনেই কামিয়ে ফেলা/চাঁচা এ ধরণের অর্থে ব্যবহৃত হয় ক্ল্যাসিকাল আরবের আরবিতে।[3]https://furqan.co/lisan/%D8%AD%D9%84%D9%82

আমরা যদি হজ্জ্বের ওয়াজিবগুলো দেখি, তাহলে ওয়াজিব ৯টি, সেগুলো হলঃ[4]https://www.hadithbd.com/books/link/?id=511

  1. সাঈ করা। (অনেকের মতে এটা হজ্জের রুকন।)
  2. ইহরাম বাঁধার কাজটি মীকাত পার হওয়ার পূর্বেই সম্পন্ন করা।
  3. আরাফাতে অবস্থান সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা।
  4. মুযদালিফায় রাত্রি যাপন।
  5. মুযদালিফার পর কমপক্ষে দুই রাত্রি মিনায় যাপন করা।
  6. কঙ্কর নিক্ষেপ করা।
  7. হাদী (পশু) জবাই করা (তামাত্তু ও কেরান হাজীদের জন্য।)
  8. চুল কাটা।
  9. বিদায়ী তাওয়াফ।

এখানে মূলত পশু জবাই আর চুল কাটার কথা বোঝানোই ‘আক্বরা হালক্বার’ উদ্দেশ্য।

শায়েখ মুহাম্মদ সালিহ আল ফাওজানও আলোচ্য হাদিসটির ‘আক্বরা-হালক্বা’ প্রসঙ্গে একই কথা বলেছেন, এর প্রচলিত অর্থ নয় বরং তা কুরবানি ও মাথা-মুণ্ডনকে বোঝায়ঃ[5]https://youtu.be/0hsDR1vrDak

হাদিসের অর্থটি দাঁড়ালো, হজ্জ্ব শেষে রাসূল (সাঃ) যখন ফেরার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন, এবং জানতে পারলেন যে সাফিয়্যা (রাঃ) ঋতুবতী, তখন জিজ্ঞেস করলেন যে কুরবানি-চুল কাটা এসব ওয়াজিব পূর্ণ হয়েছে কিনা। যদি না হয় তাহলে তো আবার পবিত্র হয়ে সেগুলো পূর্ণ করা পর্যন্ত সাফিয়্যা (রাঃ) এর কারণে আটকে যাবেন।

বাগধারা হিসেবে আক্বরা হালক্বা (عَقْرَى حَلْقَى)

এই শব্দ দুটি সম্পর্কে আরেকটি মত হলো এটি কুরাইশ বাগধারা, আক্ষরিক অর্থ নয়। সহিহুল বুখারীতে আসা এই হাদিসটির একটি ভার্শনে কোনো রাবী ‘কুরাইশ উপভাষা’ কথাটি যুক্ত করেছেনঃ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
হাদিস নম্বরঃ ৬১৫৭
৭৮/৯৩. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উক্তিঃ তোমার ডান হাত ধূলি ধূসরিত হোক। তোমার হস্তপদ ধ্বংস হোক এবং তোমার কণ্ঠদেশ ঘায়েল হোক।

৬১৫৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জ সমাপন শেষে) ফিরে আসার ইচ্ছে পোষণ করলেন। তখন ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে তাঁর দরজার সামনে সাফিয়্যাহ চিন্তিত ও বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পেলেন। তখন তিনি কুরাইশদের বাগধারায় বললেনঃ ‘আকরা হালকা’। তুমি তো দেখছি, আমাদের আটকে দিবে। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরবানীর দিনে ফরজ তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেনঃ হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ তাহলে এখন রওনা দাও।

Narrated `Aisha: The Prophet (ﷺ) intended to return home after the performance of the Hajj, and he saw Safiya standing at the entrance of her tent, depressed and sad because she got her menses. The Prophet (ﷺ) said, “Aqra Halqa! –An expression used in the Quraish dialect–“You will detain us.” The Prophet (ﷺ) then asked (her), “Did you perform the Tawaf Al-Ifada on the Day of Sacrifice (10th of Dhul-Hijja)?” She said, “Yes.” The Prophet (ﷺ) said, “Then you can leave (with us).

بَاب قَوْلِ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم تَرِبَتْ يَمِينُكِ وَعَقْرى حَلْقَى حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْفِرَ فَرَأَى صَفِيَّةَ عَلَى باب خِبَائِهَا كَئِيبَةً حَزِينَةً لأَنَّهَا حَاضَتْ فَقَالَ ‏”‏ عَقْرَى حَلْقَى ـ لُغَةُ قُرَيْشٍ ـ إِنَّكِ لَحَابِسَتُنَا ‏”‏ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ أَكُنْتِ أَفَضْتِ يَوْمَ النَّحْرِ ‏”‏‏.‏ يَعْنِي الطَّوَافَ قَالَتْ نَعَمْ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَانْفِرِي إِذًا ‏”‏‏.‏ [6]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=30821

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৬৫/ আচার ব্যবহার (كتاب الأدب)
হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৬
২৫২৫. নাবী (ﷺ)এর উক্তিঃ তোমার ডান হাত ধূলি ধূসরিত হোক। তোমার হাত-পা ধ্বংস হোক এবং তোমার কন্ঠদেশ ঘায়েল হোক

৫৭২৬। আদম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসার ইচ্ছা করলেন। তখন সাফিয়্যা (রাঃ) ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ায় তার দরজার সামনে চিন্তিত ও বিষণ্ণ বদনে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পেলেন। তখন তিনি কুরাইশদের বাগধারায় বলেনঃ ‘আকরা হালকী’। তুমি তো দেখছি, আমাদের আটকিয়ে দিবে। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কুরবানীর দিনে ফরয তাওয়াফ আদায় করেছিলে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ: তাহলে এখন তুমি চলো।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [7]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=6370

এর সাথে মিল রেখে বাংলা ভাষার অনুবাদকেরা কিছু এর অর্থ দিয়েছেন ‘বিরক্ত হয়ে আক্বরা-হালক্বা এই বাগধারা ব্যবহার’, অর্থাৎ, আক্ষরিক অর্থ নয় বরং হঠাৎ বিরক্তি প্রকাশ। দেখুনঃ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ২৫/ হাজ্জ (كتاب الحج)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৭১
২৫/১৫১. মুহাসসাব হতে শেষ রাতে যাত্রা করা।

১৭৭১. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের দিন সাফিয়্যা (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিলে তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ‘‘আকরা’, ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং বললেনঃ সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছে? বলা হল, হাঁ। তিনি বললেনঃ তবে চল। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৫৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [8]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=25702

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ২৫/ হাজ্জ (كتاب الحج)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৭২
২৫/১৫১. মুহাসসাব হতে শেষ রাতে যাত্রা করা।

১৭৭২. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কা্য়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়াই (রাযি.)-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হালকা’ ‘আকরা’, বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ (রাযি.) বললেন, হাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে চল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো (‘উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেনঃ তাহলে এখন তুমি তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ আদায় করে নাও। অতঃপর তাঁর সঙ্গে তার ভাই [‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ)] গেলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (‘উমরা আদায় করার পর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাৎ করবে। (২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১, আহমাদ ২৬২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬৫৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [9]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=25703

গ্রন্থঃ সুনান আদ-দারেমী
অধ্যায়ঃ ৫. হজ্জ অধ্যায় (كتاب المناسك)
হাদিস নম্বরঃ ১৯৫৩
৭৩. যে মহিলা (তাওয়াফে) যিয়ারতের পরে হায়িযগ্রস্ত হয়ে পড়ে, (তার করণীয় কি)

১৯৫৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর হায়িয আরম্ভ হলো। এরপর যখন প্রস্থানের রাত আগমণ করলো, তখন তিনি আপন ভাষায় বললেন, হায়, আমার ধ্বংস! হায়, আমার নিষ্ফলতা (শারীরিক অক্ষমতা)![1] তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি ইয়ামুন নাহার বা কুরবানীর দিন তাওয়াফ (এ-যিয়ারত) কর নি? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “তা হলে বের হয়ে পড়ো।”[2]


[1] এটি অভিশাপ জাতীয় আহবান নয়। বরং এটি মুলত: তাদের মাঝে প্রচলিত আফসোস প্রকাশের ধরণ।–মুহাক্কিক্বের টীকা হতে –অনুবাদক। [2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। তাখরীজ: বুখারী, হায়িয ৩২৮, হাজ্জ ১৭৫৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২১১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০৩; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২ তে। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [10]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=82236

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৫/ তালাক (كتاب الطلاق)
হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৩
২০৮২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তাদের জন্য গোপন করা বৈধ হবে না যা আল্লাহ্ তাদের জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন, হায়েয হোক বা গর্ভ সঞ্চার হোক।

৪৯৪৩। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ (হজ শেষে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সাফিয়্যা (রাঃ) বিষন্ন অবস্থায় স্বীয় তাবুর দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি তাকে বললেনঃমহা সমস্যা তো, তুমি তো আমাদের আটকিয়ে রাখবে। আচ্ছা তুমি কি তাওয়াফে যিয়ারা করেছ? বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে এখন চলো।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [11]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=5245

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহিহুল বুখারীর অনুবাদে কিন্তু বাগধারা অর্থই রাখা হয়েছে।

…নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করছিলে? তিনি বললেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও।… সহিহুল বুখারী ইফাঃ ১৬৪৯

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৯
৬৮/৪৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তাদের জন্য গোপন করা বৈধ হবে না যা আল্লাহ তাদের জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন’’সূরাহ আল-বাক্বরাহ ২ঃ২২৮)হায়িয বা গর্ভসঞ্চার

৫৩২৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হাজ্জ শেষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সফীয়্যাহ (রাঃ) দুঃখিত হয়ে স্বীয় তাঁবুর দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি তাকে বললেনঃ বড় সমস্যায় ভুগছি, তুমি তো আমাদের আটকে রাখবে। আচ্ছা তুমি কি তাওয়াফে যিয়ারা সম্পন্ন করেছ? বললেনঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে এখন বেরিয়ে পড়। [২৯৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩০)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [12]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=29902

গ্রন্থঃ আল-লুলু ওয়াল মারজান
অধ্যায়ঃ ১৫/ হজ্জ (كتاب الحج)
হাদিস নম্বরঃ ৮৩৭
১৫/৬৭. তাওয়াফে বিদা শেষ তাওয়াফ) ওয়াজিব ও ঋতুবতী মহিলার জন্য এ হুকুম বিলুপ্ত।

৮৩৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতু আরম্ভ হলে তিনি বললেন, আমার ধারণা, আমি তোমাদের আটকে ফেললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে আকরা’ ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে চল।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৫: হজ্জ, অধ্যায় ১৫১, হাঃ ১৭৭১; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৬৭, হাঃ ১২১১ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [13]http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=84065

…অতঃপর তুমি অমুক অমূক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যা (রাঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হায়, দুর্ভোগ, কি সর্বনাশ! তুমি কি কুরবানীর দিন বায়তূল্লাহ এর তাওয়াফ করনি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাত করলেন, তিনি মক্কার উচ্চভূমিতে উঠছিলেন। আর আমি নীচে নামছিলাম। অথবা আমি উচ্চভূমিতে উঠছিলাম আর তিনি তা থেকে নামছিলেন। সহিহুল মুসলিম ইফাঃ ২৮০০

‘উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের দিন সাফিয়্যা (রাঃ) এর ঋতু দেখা দিলে তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ‘আকরা’, ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং বললেনঃ সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছে? বলা হল, হাঁ। তিনি বললেনঃ তবে চল। …আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ … ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ (হজ্জ) আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কায়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়া নির্দেশ দেন। তারপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হালকা’ আকরা’, বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। তারপর বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যা (রাঃ) বললেন, হাঁ। সহিহুল বুখারী ইফাঃ ১৬৫৭

…‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর আমি ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈমের দিকে গেলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। আর সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও।…সহিহুল বুখারী (তাওহীদ) ১৭৬২

…নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [সাফিয়্যাকে] বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি!… সহিহুল বুখারী (তাওহীদ পাব্লিকেশন্স) ১৫৬১

দারুসসালাম থেকে প্রকাশিত মুখতাসার সহিহুল বুখারী তে ফুটনোট অংশে উল্লেখ করা আছে,

রাসূল (ﷺ) কি সাফিয়্যা (রাঃ) কে কটু কথা বলেছিলেন?

‘Aqra Halqa : Is just an exclamatory expression, the literal meaning of which is not meant always. It expresses disapproval.[14]مختصر صحيح البخاري page 1041 – Google Books Link

হাদিস-এনসাইক্লোপিডিয়ার ৫২০৮ নং সংকলনে আক্বরা-হালক্বা সম্পর্কে লিখা রয়েছে,[15]https://hadeethenc.com/en/browse/hadith/5208

…Aqra Halqa (an exclamatory expression denoting annoyance)!……Aqra Halqa!, which is a famous statement pronounced without intending its true meaning…

অর্থাৎ, বোঝা গেলো যে ‘আক্বরা হালকা’ আসলে কুরাইশী বাগধারা যা বিরক্তি/আফসোস প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। এবং ‘বন্ধ্যা, নেড়ী’ আক্ষরিক অনুবাদটি ভুল।

আক্বরা হালক্বা (عَقْرَى حَلْقَى) এর অর্থ হিসেবে ‘বন্ধ্যা, নেড়ী’ ব্যবহার

কেউ কেউ আবার এর অর্থ ‘বন্ধ্যা, নেড়ী’ ধরেছেন!

(عَقْرٰى) এর ব্যাখ্যায় কেউ বলেন, আল্লাহ সফিয়্যাহ্ (রাঃ)-কে বন্ধ্যা বানিয়ে দিন। (حَلْقٰى) এর ব্যাখ্যায় কেউ বলেন, আল্লাহ সফিয়্যাহ্ (রাঃ)-কে মাথা মুন্ডিয়ে দিন। এ উভয় গুণটি মহিলাদের সৌন্দর্যের প্রতীক।[16]হাদিস একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৯ এর ব্যাখ্যার অংশ http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=57229

তবে এই মতটি দুর্বল মত এবং ভুল ইজতিহাদ। এই ইজতিহাদ রাসূল (ﷺ) এর শানের সাথে যায় না। এই অর্থ কোনোভাবেই গ্রহণীয় হতে পারে না,

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমকে গালিগালাজ করা পাপ। তিরমিজি ইফাঃ ২৬৩৬

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গালি-গালাজকারী, অশালীন ও লা‘নতকারী ছিলেন না। সহিহুল বুখারী ৬০৩১

এ সম্পর্কে আরও দেখুনঃ

আল্লাহ তা’আলা নিজেই রাসূলের (ﷺ) চরিত্রের সার্টিফিকেট দিয়েছেন,

“আর নিশ্চয় তুমি (মুহাম্মদ) মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।” কুর’আন ৬৮:৪

দু’আ হিসেবে আক্বরা হালক্বা (عَقْرَى حَلْقَى)

আলেমদের আরেকটি মত হচ্ছে আক্বরা হালক্বা (عَقْرَى حَلْقَى) এর অর্থ প্রচলিত আরবি নয়, বরং এটি একটি দু’আ নির্দেশ করে।

শেখ আব্দুল করিম আল-খুদাইরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের একটি ফাতওয়ায় লেখা রয়েছে এমনটা,

السؤال
عندما يقول النبي -صلى الله عليه وسلم-: «تربت يداك»، أو «عقرى حلقى»، أو «ثكلتك أمك»، هل يُحمل على ظاهره، أو أن له محملًا آخر؟ نرجو من فضيلتكم البيان.
الجواب

هذا يقول: (عندما يقول النبي -عليه الصلاة والسلام-: «تربت يداك» [البخاري: 5090])، هذا في الأصل دعاء يعني لصقتْ يداك بالتراب من الفقر، فهو دعاء عليه بأن يفتقر، لكن هذا الدعاء ليس بمقصود، وإنما هي كلمة تجري على اللسان من غير قصد لمعناها، وكذلك قوله: «عقرى حلقى» [البخاري: 1762]، لما حاضت صفية –رضي الله عنه- قال: «عقرى حلقى، إنك لحابستنا»، يعني أُصيبت في حلقها وعُقِرَت، هذا دعاء لكنه مثل سابقه لا يقصد به حقيقة الدعاء، وإنما هي كلمة تجري على اللسان دون قصد لمعناها، وكذلك «ثكلتك أمك» [الترمذي: 2616]، يعني فقدتْك وأُصبْتَ وأُصيبتْ بك، و«ثكلتك أمك» قالها النبي -عليه الصلاة والسلام- لمعاذ –رضي الله عنه- وغيره: «ثكلتك أمك يا معاذ، وهل يَكُبُّ الناس على وجوههم -أو قال: على مناخرهم- إلا حصائدُ ألسنتهم»، مثل سابقيه فإنه لا يُقصد به حقيقة الدعاء وأن أمَّ معاذ تفقد ابنها وهو من خيار الصحابة، وإنما يُقصد به مجرد اللفظ دون المعنى[17]https://shkhudheir.com/fatawa/1529051064

শাইখ উসমান আল-কামীসও এই কথা বলেছেন।[18]https://www.facebook.com/othmanalkamees/videos/250599733900210/

হাদিসের মূল বক্তব্য

এতক্ষণ আমরা প্রশ্ন করা শব্দদুটি নিয়ে আলোচনা করেছি, এবার দেখা যাক হাদিসের পেছনের ঘটনা এবং মূল বক্তব্য কী বলছেঃ

একদা হজ্জ্ব এবং উমরাহ শেষে রাসূল (ﷺ) এবং তাঁর সহধর্মিণীগণ ফেরত আসার সময়, রাসূল (ﷺ) জানতে পারেন যে আয়িশাহ (রাঃ) আসার রাতে বায়তুল্লাহ উমরাহর তাওয়াফ করেন নি। তাই তিনি তাঁকে তাঁর (আয়িশার) ভাইয়ের সাথে উমরাহর  ইহরাম বাঁধতে পাঠিয়ে দিলেন।[19]সহিহুল বুখারী ১৫৬১, ১৫৬২ এবং তিনি ফিরে আসার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে তাঁর দরজার সামনে সাফিয়্যাহ চিন্তিত ও বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পেলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, “আক্বরা হালক্বা!”

[যার অর্থ হলো, কুরবানি-মাথা মুণ্ডন? হে সাফিয়্যা তুমি কি হজ্জ্বের ওয়াজিবগুলো পালন করেছো? যেমন কুরবানি, চুলের অগ্রভাগ কেটে ফেলা? না হলে তো তোমার জন্য আমরা আটকে যাবো!]

[কিংবা, কুরাইশী বাগধারায় বিরক্তি/আফসোস প্রকাশ/বিস্ময় প্রকাশ করেছেন]

কোনো বর্ণনায় আছে, (হজ্জ্ব শেষ হওয়ার পর স্ত্রীগণ যেহেতু তার স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়) রাসূল (ﷺ) সাফিয়্যার (রাঃ) সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপন করার ইচ্ছা করলেন, এবং তখন জানতে পারলেন যে, সাফিয়্যা (রাঃ) ঋতুবতী।[20]মুসলিম ইফাঃ ৩০৯৭ এবং বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ভেবেছিলেন সাফিয়্যার (রাঃ) হজ্জ্ব পূর্ণ না করার কারণে তিনি আটকা পড়ে যাবেন।

তারপর, রাসূল (ﷺ) সাফিয়্যাকে বললেন, “তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে।”[21]বুখারী ১৭৬২

কিংবা, সাফিয়্যা (রাঃ) রাসূলকে (ﷺ) বলেছেন, “আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম।”[22]বুখারী ১৭৭১

অর্থাৎ, যদি ওয়াজিব কাজগুলো মিস হয়ে যায় তাহলে তো হজ্জ্বের জায়গাতেই আটকে থাকতে হবে, সাফিয়্যা (রাঃ) ঋতু থেকে মুক্ত হয়ে সেগুলো পূর্ণ করার জন্য। রাসূল (ﷺ) সম্ভবত ভেবেছিলেন যে সাফিয়্যা (রাঃ) তাওয়াফে-ইফাদা পূর্ণ করার আগেই ঋতুবতী হয়ে গেছেন। সেটার কারণে আটকা পড়েছেন। তাই বিস্ময়কর অভিব্যক্তি দিয়ে সেটা বোঝালেন।

এরপর রাসূল (ﷺ) সাফিয়্যাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি কুরবানীর দিনে ফরজ তাওয়াফ করেছিলে?” তিনি বললেনঃ “হাঁ।” তখন তিনি বললেনঃ “তাহলে এখন রওনা দাও।”[23]বুখারী ৬১৫৭

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হজ্জ্বের বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব, কিন্তু সাফিয়্যা যেহেতু ঋতুবতী হয়েছেন, তাই তাঁর জন্য তা আবশ্যক নয়। এবং তাওয়াফে-ইফাদা তিনি পূর্ণ করেছেন।[24]আল লুলু-ওয়াল মারজান ৮৩৭

আমাদের বিভ্রান্তি কেন?

আমাদের ঈলমের দৈন্য এবং আলেমবিমুখতা। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ব্যাসিক আরবি শেখা ওয়াজিব, যতটুকু দরকার পড়বে ততটুকু শেখা আবশ্যক।[25]https://islamqa.info/en/answers/6524/is-it-waajib-obligatory-for-non-arabs-to-learn-arabic ইবনু তাইমিয়্যা (রহঃ) এর মতে পুরো আরবিই বুঝে শুনে শেখা ফরজ। সালাফগণ তাদের ছেলেমেয়েদের যদি আরবিতে ভুল হতো তাদের শাস্তি দিতেন।[26]https://www.islamweb.net/en/fatwa/86262/muslims-should-learn-arabic

আর এদিকে আমরা হাদিসের অনুবাদ দেখালেই যাচাই না করে কে কেউ হাদিসই অস্বীকার করছি, বিভ্রান্ত হচ্ছি। তবুও কোনো আলিমের কাছে যাচ্ছি না।

আল্লাহ হিদায়াত দিক।


লেখাঃ তাহসিন আরাফাত

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ সালিম উদ্দিন, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

    Footnotes

    Footnotes
    1http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=12709
    2আরও অনেক অর্থই হয়ঃ https://www.almaany.com/ar/dict/ar-ar/%D8%B9%D9%8E%D9%82%D9%92%D8%B1%D9%8E%D9%89/
    3https://furqan.co/lisan/%D8%AD%D9%84%D9%82
    4https://www.hadithbd.com/books/link/?id=511
    5https://youtu.be/0hsDR1vrDak
    6http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=30821
    7http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=6370
    8http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=25702
    9http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=25703
    10http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=82236
    11http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=5245
    12http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=29902
    13http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=84065
    14مختصر صحيح البخاري page 1041 – Google Books Link
    15https://hadeethenc.com/en/browse/hadith/5208
    16হাদিস একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬৯ এর ব্যাখ্যার অংশ http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=57229
    17https://shkhudheir.com/fatawa/1529051064
    18https://www.facebook.com/othmanalkamees/videos/250599733900210/
    19সহিহুল বুখারী ১৫৬১, ১৫৬২
    20মুসলিম ইফাঃ ৩০৯৭
    21বুখারী ১৭৬২
    22বুখারী ১৭৭১
    23বুখারী ৬১৫৭
    24আল লুলু-ওয়াল মারজান ৮৩৭
    25https://islamqa.info/en/answers/6524/is-it-waajib-obligatory-for-non-arabs-to-learn-arabic
    26https://www.islamweb.net/en/fatwa/86262/muslims-should-learn-arabic
    4 4 votes
    Article Rating
    Subscribe
    Notify of
    guest
    3 Comments
    Oldest
    Newest Most Voted
    Inline Feedbacks
    View all comments
    নাস্তিক
    নাস্তিক
    1 year ago

    ………………….

    Last edited 1 year ago by নাস্তিক
    প্রেমা
    প্রেমা
    1 year ago

    Mind blown

    Back to top button