ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

মুশরিকদের শিশুরা জান্নাতী নাকি জাহান্নামী?

ইসলামবিদ্বেষীদের ছড়ানো বিভ্রান্তির তো অভাব নেই, যার কারনে অনেক স্বল্পজ্ঞানী মানুষ এসব বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছে। তেমনই একটা বিষয় হচ্ছে মুশরিকদের শিশুসন্তান সম্পর্কে তাদের প্রচার করা বিষয়টি। অনেক ইসলামবিদ্বেষী, সাধারন অমুসলিম এবং এমনকি মুসলিমরাও অনেক সময় প্রশ্ন করে থাকে, “মুসলিমদের শিশুরা তো জান্নাতে যাবে তাহলে কাফেরদের শিশুদের কি হবে? কাফেরদের শিশুদের বিধান কি? মুসলিমদের শিশুরা জান্নাতে হলে কাফেরদের শিশুরা জাহান্নামে কেন যাবে?” ইত্যাদি ইত্যাদি।

মুসলিম শিশু মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে এই কথার সাথে জুমহুর ওলামা একমত। কিন্তু অমুসলিম নাবালক ও নাবালিকা সন্তানদের ক্ষেত্রে মতভেদ পাওয়া যায়। কাফের-মুশরিকদের নাবালেগ মৃত শিশু-সন্তান সম্পর্কে আলেমদের মাঝে সাধারনত ৪টি মাযহাব পাওয়া যায়। গ্রহনযোগ্যতার ক্রমানুসারে সেগুলো হলোঃ[1]তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/২৯-৩৩; শারহে সুনানে আবি দাউদ ৭/৮৩; আত তাযকিরাহ ২/৩২৮; আত-তাদকিরাহ ২/৩২৮; শরহ মুসলিম ১৬/২০৭, ২০৮; ফাতহুল বারী ৩/২৪৫; মাজমূউ ফাতাওয়া ৪/২৮১; … See Full Note

  1. তারা জান্নাতে যাবে।
  2. তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে আখিরাতে।
  3. তাদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করে আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া।
  4. তারা জাহান্নামে যাবে।

সবগুলোর পক্ষেই মোটামুটি দলিল রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য হচ্ছে ১ম মত, তারপর ২য়, তারপর ৩য়, তারপর ৪র্থ। ৪র্থ মতের পক্ষের আলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

অমুসলিমদের দেওয়া দলিলের খন্ডন (৪র্থ মতের খন্ডন)

প্রথমে ৪র্থ মতের দলিলগুলো দেখা যাক ও সেগুলোর জবাব দেওয়া যাক

১ম দলিল

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! মুমিনদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের কী হুকুম? তিনি ﷺ উত্তরে বললেন, তারা বাপ-দাদার অনুসারী হবে। আমি বললাম, কোন (নেক) আমাল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ অনেক ভাল জানেন, তারা জীবিত থাকলে কী আমাল করত। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা মুশরিকদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের কী হুকুম? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারাও তাদের বাপদাদার অনুসারী হবে। (অবাক দৃষ্টিতে) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন (বদ) আমাল ছাড়াই? উত্তরে রসূল ﷺ বললেন, সে বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকলে কী আমাল করত, আল্লাহই খুব ভাল জানেন।[2]মিশকাতুল মাসাবিহ হাদিস ১১১; আবু দাউদ ৪০৮৯

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হাদিস একাডেমী কর্তৃক অনূদীত মিশকাতুল মাসাবিহ-তে বেশ কয়েকজন আলেমের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর ২টি হলোঃ[3]মিশকাতুল মাসাবিহ (হাদিস একাডেমী) ১১১ http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=54670

http://ihadis.com/books/mishkatul-masabih/hadis/111

ইমাম তুরবিশতী (রহঃ) বলেন, তারা দুনিয়াতে তাদের পিতামাতার অনুগামী, তবে আখিরাতের বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত, তিনিই ভালো জানেন তাদের কি হবে? ক্বাযী ‘ইয়াযও এমনটাই মতামত পোষণ করেছেন যে, সাওয়াব এবং শাস্তি কোনটাই ‘আমালের কারণে হবে না। কেননা যদি ‘আমালের কারণেই জান্নাত জাহান্নাম বা শাস্তি সাওয়াব হতো তাহলে মুশরিক সন্তানেরা জাহান্নামী আর মুসলিমদের সন্তানেরা জান্নাতী হওয়ার কথা নয়। বরং আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার শাস্তি এগুলো সব তাক্বদীরের বিষয়। অতএব, এ বিষয়ে আবশ্যক হচ্ছে বিষয়টিকে স্থগিত রাখা এবং তা আল্লাহর দিকে ন্যাস্ত করে দেয়া, এটা হচ্ছে পরকালের ক্ষেত্রে। আর দুনিয়াতে ভালো কাজ জান্নাতী হওয়ার আর খারাপ কাজ জাহান্নামী হওয়ার দলীল বহন করে।

‘আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেন, আমি বলবো, মুসলিমের সন্তান জান্নাতী সকলের ঐকমত্যে হবে, মুশরিকের সন্তানের ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে কিন্তু সবচেয়ে সঠিক এবং বিশ্লেষণমূলক মত হচ্ছে তারাও জান্নাতী। আর অত্র হাদীস সহ অন্যান্য এমন যত হাদীস আছে এগুলোকে তা‘বীল করতে হবে অথবা এগুলোর অর্থ এমন হবে যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন, তারা যে জান্নাতী এ খবর জানার আগেই। আল্লাহই ভালো জানেন। – উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

ইমাম নববি (রহঃ) ‘তারা তাদের পিতা-মাতার অন্তর্ভূক্ত/অনুসারি’ এই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় বলেছেন,

“এতে দোষের কিছু নেই কারন উত্তরাধিকার, রক্তপন, প্রতিশোধ, বিবাহ, দাফন ইত্যাদির ক্ষেত্রে তাদের উপর তাদের পিতা-মাতার অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে। কিন্তু পরকালে তাদের ব্যাপারে ৩টি মতামত পাওয়া যায়, যার মধ্যে বয়সন্ধিতে পৌছানোর পূর্বে তারা মারা গেলে তারা জান্নাতী হবে এই মতটি বেশি সঠিক।”[4]শরহে মুসলিম, খন্ড ২ হাদিস ৩৩৭, ৭/২৭১৬, ২৭১৭

একই কথা বা ব্যাখ্যা ইবনে হাযম (রহঃ) ও দিয়েছেন সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে।[5]আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৪/১৩১ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তার কিতাবে বলেছেনঃ

“সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ যদি দুনিয়াতে গ্রামগুলোকে ধ্বংস না করেন এবং তাদের অন্যায়ের কারণে তাদের মানুষকে শাস্তি না দেন, তবে আখেরাতে তিনি চিরস্থায়ী কীভাবে শাস্তি দিবেন এমন কাউকে যে কোন অন্যায়ই করেনি!?[6]তারিখ আল হিজরাতাইন পৃষ্ঠা. ৬৪৪

২য় দলিল

নবী ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হল, যে সকল মুশরিকদের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে, যদি রাত্রিকালীন আক্রমণে তাদের মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তবে কী হবে? আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, তারাও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।”[7]বুখারী ৩০১২, ২৩৭০; মুসলিম ৭৫৪৫, ১৫১৭; আবূ দাউদ ২৬৭২, ৩০৮৩; ইবনু মাজাহ ২৮৩৯; আহমাদ ২৭৯০২, ২৭৮০৯

কিন্তু অন্য আরো অসংখ্য হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ ﷺ পরবর্তীতে মহিলা এবং বাচ্চাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।[8]বুখারী ৩০১৪-১৫; মুসলিম ১৭৪৪; তিরমিযী ১৫৬৯; আবূ দাউদ ২৬৬৮; ইবনু মাজাহ ২৮৪১; আহমাদ ৪৭২৫, ৬০১৯; মুয়াত্তা মালেক ৯৮১; দারেমী ২৪৬২

অনেক আলেমই বলেছেন উক্ত হাদিসটি আসলে জিহাদের সময়ের জন্য নির্দিষ্ট, এর সাথে আখিরাতে জান্নাত-জাহান্নামের কোনো সম্পর্ক নেই।[9]Alukah.net ফাতওয়া ৫৬০৮৩

ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) বলেছেন,

তাদের পিতৃপুরুষের অন্তভূক্ত/অনুসারি বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে তাদের দুনিয়াবি শাসন তাদের পূর্বপুরুষদের মত হবে।[10]আল তামহীদ ১৬/১৪৬

১ম দলিলে ইমাম নববী ও ইবনে হাযম (রহঃ) এর যে ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই ব্যাখ্যা এই হাদিসের ক্ষেতেও প্রযোজ্য।

বিন বায (রহঃ) যেগুলোতে বলা হয়েছে সেই শিশুরা তাদের অভিভাবকের অন্তর্ভুক্ত/অনুসারি হবে সেই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় বলেছেন এর মানে হলো তাদেরকে মুসলিমদের মত জানাযা, দাফন, গোসল ইত্যাদি দেওয়া হবে না, তাদেরকে অমুসলিদের সাথে কবর দেওয়া হবে, তাদের জন্য দু’য়া করা যাবে না।[11]Binbaz.org.sa ফাতওয়া ৩২৬১

৩য় দলিল

শা’বীর সূত্রে আলকামা থেকে এবং তিনি সালমাতা বিন ইয়াজিদ জু’ফী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি এবং আমার ভাই রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে গেলাম। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মা “মুলাইকা” তিনি আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতেন, মেহমানদারী করতেন এবং এই এই করতেন। তিনি জাহেলিয়াতের যুগে মৃত্যুবরণ করেন। এ সকল নেক আমলের উপকার কি সে এখন পাবে? তিনি ﷺ বললেন, না। আমরা বললাম, জাহেলিয়াতের যুগে তিনি আমাদের একটি বোনকে জীবন্ত দাফন করেন, এখন এই অন্যায়ের শাস্তি কি সে প্রাপ্ত হবে? তিনি ﷺ বললেন, জীবন্ত দাফনকারী নারী ও দাফনকৃত মেয়ে (উভয়ে) জাহান্নামী। তবে দাফনকারী নারী যদি ইসলাম কবুল করে তবে আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।[12]মুসনাদে আহমাদ-১৫৪৯৩; আবু দাউদ ৪৭১৭; মিশকাত ১১২; সহীহুল জামি ৭১৪২

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় অনেকে বলেছেন এখানে যাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল সে সম্ভবত বালিগ ছিল কারন নাবালিগদের উপর থেকে তো কলম তুলে নেওয়া হয়েছে, সেহেতু নাবালিগ অবস্থায় সে মারা গেলে তাকে জাহান্নামে দেওয়ার কথা না।[13]শরহে সুনানে আবি দাউদ ১৫/২২৫ কারন সহিহ ও হাসান হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে নাবালিকা কন্যা সন্তানও জান্নাতী।[14]মুসনাদে আবি শাইবা ৫৪২; আসহাদুল গাহবাত ২০৬১; মারিফাতুল সাহাবাতি লিআবি নাইম ৮১৯ এবং জীবন্ত কবর দেওয়া শিশুও জান্নাতী।[15]আবু দাউদ ২৫২১

অবশ্যই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান (রহঃ) একটা সুন্দর লিখাও লিখেছিলেন। চলুন তাহলে সেটার দিকে নজর দিইঃ (রেসপন্স টু এন্টি ইসলাম থেকে নেওয়া)[16]https://response-to-anti-islam.com/show/যে-মেয়েকে-জীবন্ত-কবর-দেওয়া-হয়-এবং-যে-কবর-দেয়—উভয়-কি-জাহান্নামী–/256

…এই হাদিসগুলোকে সামনে রাখলে একটা প্রশ্ন আসে – জীবন্ত দাফনকারী নারী পাপের কারণে জাহান্নামী এই কথা তো বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু যাকে দাফন করা হল তার কী দোষ, যে সে জাহান্নামী হবে?

হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লাম ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) লিখেছেন, “এই হাদিস (জীবন্ত দাফনকারী নারী ও দাফনকৃত মেয়ে উভয় জাহান্নামী)-এর ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর হল, এই কথা হাদিসের প্রশ্নকৃত দুই ব্যক্তির সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রত্যেক জীবন্ত দাফনকারী ও দাফনকৃত সম্পর্কে বলা হয়নি।”[17]আহকামু আহলিল যিম্মা ২/৯৫

শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন, “এই হাদিসটির বাহ্যিক দাবী এই যে, প্রোথিত কন্যা জাহান্নামে যাবে। যদিও সে বালেগা না হয়। কিন্তু এই বাহ্যিক মর্ম শরী‘আতের দলীল বিরোধী যে, বালেগা হওয়ার পূর্বে কেউ শরী‘আতের বিধান মানতে আদিষ্ট নয়। আর এই হাদিসটির বিভিন্ন জবাব প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে আমার নিকটে সর্বাধিক বিশুদ্ধ জবাব হল এই হাদিসটি একজন নির্দিষ্ট প্রোথিত কন্যা সম্পর্কে প্রযোজ্য। আর তখন الْمَوْءُودَة এর মধ্যে ال ইসতিগরাক্ব (সমষ্টিবাচক)-এর জন্য নয়। বরং আহদে যিহনীর (নির্ধারিত একজনের) জন্য। মুলায়কার পুত্রদের ঘটনার হাদিসটি দ্বারা এর সমর্থন পাওয়া যায় (যা সালামাহ বিন ইয়াযীদ জু‘ফী হতে বর্ণিত)। এজন্য এ কথা বলা সিদ্ধ যে, সেই প্রোথিত কন্যাটি বালেগা তথা প্রাপ্তবয়স্কা ছিল। আর এভাবেই এই হাদিসটির উপর উত্থাপিত অভিযোগ দূরীভূত হয়ে যায়। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।[18]হাশিয়াতুল মিশকাত নং ৪০

শায়েখ আযীম আবাদি (রহঃ) বলেন, “এই হাদিস দ্বারা এই কথা বলা শুদ্ধ হবে না যে, কাফির শিশুগন জাহান্নামী। কেননা, এ নির্দিষ্ট ঘটনাটি এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে।”[19]আউনুল মা’বুদ ১২/৩২২

আমি (প্রবন্ধটির লেখক, মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান) বলি, আল্লাহর রাসুল ﷺ কে ওহীর মাধ্যমে এই ঘটনা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, এই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুটি জাহান্নামী হবে। যেমন খিযির (আঃ) এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুকে হত্যা করেছিলেন এইজন্য যে, তাকে ইলহামের (বা হতে পারে ওহীর) মাধ্যেমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এই বালকটি তার পিতা-মাতাকে কুফরী করতে বাধ্য করবে, তাই তাকে হত্যা করতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

এখন একটি প্রশ্ন আসতে পারে, এই ছোট শিশুর তো কোন পাপ নেই তবে তাকে কিভাবে জাহান্নামে দেওয়া হবে? আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ আলেমদের মতে, অমুসলিমদের শিশুদেরকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করবেন। যারা পরীক্ষায় পাস করবে তাদেরকে জান্নাত দেওয়া হবে আর যারা পরীক্ষায় ফেল করবে তাঁরা জাহান্নামী হবে। এটাই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার, ইবনুল কাইয়িম, ইবনে বাযের (রহঃ) মত।’[20]মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে বায-২/৭১২

এ থেকে বোঝা গেলো যে জাহান্নামী হবে সে মূলত নিজ আমলের জন্যই হবে। পরীক্ষায় পাস না করার জন্য হবে। বিনা দোষে নয়। আল্লাহ কারো উপর সামান্যতম অবিচারও করবেন না।

[মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহমানের প্রবন্ধের অংশটুকু সমাপ্ত]

কিন্তু অনেক মুফাসসিরই যাকে কবর দেওয়া হয়েছে সে প্রাপ্তবয়স্ত ছিল এই মতটির বিরোধীতা করেছেন এবং বিভিন্ন ভাবে খন্ডন করেছেন। অবশ্যই এই হাদিসটি নিয়ে আরো একটি ব্যাখ্যা খুব প্রচলিত রয়েছে যা আমাদেরকে রাকিব ইসলাম ভাই জানিয়েছেন। কাযী বাইদাউইর (রহ) হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেন,

সম্ভবত, ‘আল-ওয়াইদাহ’ শব্দটি ধাত্রীকে নির্দেশ করে এবং ‘আল-মাওদাহ’ শব্দটি নির্দেশ করে সেই মাকে যার জন্য কবর দেওয়া হয়েছিল। এখানে সংশ্লিষ্ট (যার জন্য) শব্দটি অনুপস্থিত। তাদের রীতি ছিল যখন কোনো নারী প্রসব ব্যথায় থাকতেন, তখন তার জন্য একটি গভীর গর্ত খোঁড়া হতো এবং তাকে সেই গর্তের উপর বসানো হতো। এদিকে, ধাত্রী তার পেছনে অপেক্ষা করতেন শিশুর জন্য। যদি মা একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিতো, তাহলে ধাত্রী তাকে নিয়ে নিতেন এবং যদি মেয়ে সন্তান জন্ম দিতো, তবে ধাত্রী তাকে সেই গর্তে ফেলে দিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতো।[21]তুহফাতুল আবরার শরহুল মাসাবীহ আল সানা ১/১১০

অর্থাৎ উক্ত হাদিসে দাফনকারী ও দাফনকৃত ব্যক্তি জাহান্নামি তা বুঝানো হয় নি, বরং জন্মদাত্রী ও কবর দেওয়ার সহযোগী জাহান্নামি তা বুঝানো হয়েছে। এই জাতীয় কাজ জাহিলি যুগে করা হত বলে বিভিন্ন মুফাসসিরণ ও ওলামাগণ উল্লেখ করেছেন নিজেদের কিতাবে।[22]তাফসিরুল বাগাভী ৮/৩৪৮; তাফসির আবি আল সৌদ ৯/১১৫; তাফসির আল থালাবী ২৮/৪৮১ এবং এই ব্যাখ্যাটিকে সমর্থন করেছেন এবং একই ব্যাখ্যা করেছেন ইমাম শরফুদ্দীন আল তিব্বি (রহ), আব্দুল রউফ আল-মানাওয়ী (রহ), ইবনে মালিক আল-কিরমানি (রহ), মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমির আল-সান’আনী (রহ), খালদুন আল-আহদাব প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।[23]শারহুল মিশকাত লিল তিব্বি আল কাশফ আন হাকায়িক আল সুনান ২/৫৭৫; ফয়দুল কাদির ৬/৩৭০; শারহুল মাসাবিহ লি ইবনে মালিক ১/১২৯, কিতাব যাওয়ায়েদ তারিখ বাগদাদ আলাল … See Full Note

ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এই ব্যাখ্যাটি সবচেয়ে বেশি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে কারণ ইলমে লুগাতে উনাদের বেশ ভালো পারদর্শীতা রয়েছে। তাই এই ব্যাখ্যাটি সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। এর চাইতে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়তোবা অন্য কোনটা হতে পারে।

৪র্থ দলিল

আবার অনেকে একটা দলিল দেয় যে খিযির (আঃ) যে শিশুকে হত্যা করেছে! এই থেকে বোঝা যায় ইসলামে নাকি কাফেরদের শিশুরা জাহান্নামে যাবে।[24]সহিহ মুসলিম ৪৭২৭

এই বিষয়ে কোরআন ও হাদিসেই স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। যেমন কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “আর বালকটির বিষয় হল, তার পিতা-মাতা ছিল মুমিন। অতঃপর আমি (খিযির আঃ) আশংকা করলাম যে, সে সীমালংঘন ও কুফরী দ্বারা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে।”[25]কুর’আন, সূরা কাহাফ আয়াত ৮০ এবং হাদীসে এসেছেঃ যে বালককে খাদির (আঃ) হত্যা করেছিলেন, সে কাফের হিসেবে লিখা হয়েছিল। যদি সে জীবিত থাকত তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফুরী করতে বাধ্য করত।[26]সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৬৬১

অবশ্যই খিজির (আঃ) নিজ থেকে হত্যা করেছিলেন বললে ভুল হবে, আল্লাহই উনাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। খিজির (আঃ) মুসা (আঃ) এর সঙ্গে সফরে থাকতে, একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার অগ্রভাগে বসলো, পাখিটি সমুদ্রে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। খিযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেন, তোমার, আমার ও সৃষ্টিজগতের জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় অতখানি, যতখানি এ চড়ুই পাখি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি উঠাল।[27]সহিহ মুসলিম ৪৭২৭

কোথাও কিন্তু বলা হয়নি যে খিজির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন, সে জাহান্নামে গিয়েছে। এছাড়া এই ঘটনাটি ছিল বিশেষ, খাস, আলাদা, ব্যাতিক্রম, কারন এ নির্দিষ্ট ঘটনাটি এক নির্দিষ্ট বালকের ব্যাপারে বলা হয়েছে।[28]সহিহুল মুসলিম, হাদিস একাডেমী ৪৫৭৯ http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=51662 এমন ঘটনা আর ঘটেছে বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

ইমাম নববী (রহঃ) বলেছেন,

যেহেতু সে নাবালক ছিল ও তার পিতা মাতা মুমিন ছিল সেহেতু একজন মুসলিম হিসেবেই মৃত্যু বরন করেছে। আল্লাহ জানেন ভবিষ্যতে বালকটি আরো কি কি ক্ষতি করত, কতটা অবাধ্য হয়ে যেত, তার পিতা-মাতার উপর অত্যাচার ও অবিশ্বাসের বোঝা চাপিয়ে দিত (তাই তাকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিলেন)। আল্লাহ জানতেন যে সে বয়সন্ধিতে পৌছালে হয়ত কাফের হয়ে যেত কিন্তু তার মানে এই না যে সে কাফের হয়েই মারা গিয়েছে। বরং তার উপর কাফের হওয়ার বিধান আরোপিত হয় না (কারন সে নাবালক অবস্থায় মৃত্যুবরন করেছে)।[29]ইমাম নববি, শরহে মুসলিম ৯/৩৭৭৭

ড. ইয়াসির বুরহামি (রহঃ) বলেন

আল্লাহ জানতেন যে ছেলেটি অবিশ্বাসের জন্য বড় হবে, এবং তার পিতামাতা তাকে অনুসরণ করবে, সে তাদের নিপীড়ক এবং নিন্দাকারী করে তুলবে। মহান আল্লাহ তার পিতামাতার প্রতি রহম করুন। স্পষ্টতই, বয়ঃসন্ধির আগে তিনি ছেলেটির মৃত্যুতে তার প্রতি করুণা করেছিলেন। তাই সে মুসলিম পিতামাতার ফিতরাহ অনুযায়ী মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছে এবং সে যদি বড় হতো তাহলে সে কুফরী করত এবং তার পিতামাতার উপর অত্যাচার ও অবিশ্বাসের বোঝা চাপিয়ে দিত।

তিনি আরো বলেন যে “সর্বশক্তিমান আল্লাহ জানেন কি ছিল ও কি হবে। কিন্তু এই প্রথম জ্ঞান, বা বান্দাদের কর্মের পূর্বে যে জ্ঞান, তার উপর ভিত্তি করে বান্দাদের জন্য আল্লাহকে দায়ী করা হবে না। তারা নিজের ইচ্ছায় যা ঘটিয়েছে তা ছাড়া আল্লাহ অন্য কিছু সম্পর্কে তাদের থেকে জবাবদিহিতা নেন না। তাদের দ্বারা সংঘটিত হওয়ার আগে তিনি তাদের ভবিষ্যৎ কাজের জন্য তাদের শাস্তি দেন না। পূর্বোক্ত জ্ঞান হলো অমুক অমান্য করবে, অবিশ্বাস করবে, অনৈতিক কাজ করবে বা অন্যায় করা হবে। এই জ্ঞান আল্লাহর কাছে আছে, (কিন্তু তারা সেগুলো না করে মারা গেলে) তাদেরকে আখিরাতে এসবের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে না।[30]আল মান্নাতু শারহা আতিকদা আহলিস সানাদি পৃ. ৩৩৫-৩৩

ইবনে হাযম (রহঃ)ও একই কথা বলেছেন,

যে আল্লাহ জানেন যে তারা কি করবে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা কাফের বা তাদেরকে জাহান্নামে দেওয়া হবে বা জান্নাতে দেওয়া হবে না। তারা বেঁচে থাকলে কি করত সেটার উপর ভিত্তি করে তাদেরকে দোষারোপ করা হবে না।[31]আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৪/১৩২-৩৩

৫ম দলিল

আয়েশা (রাঃ) হতে উদ্ধৃত যে তিনি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “মুসলমানদের সন্তানদের সম্পর্কে: তারা কোথায়? তিনি বললেনঃ জান্নাতে, এবং তিনি তাকে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: তারা কেয়ামতের দিন কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: জাহান্নামে। তাই আমি বললাম: তারা তো কোনও আমল করতে পারেনি এবং তাদের উপর তো কলমও ওঠেনি? তিনি বললেনঃ আপনার পালনকর্তাই ভালো জানেন তারা কি আমল করত। [32]মুসনাদে আহমদ ২৫৭৪৩; আবু দাউদ আল-তায়ালিসি ১৪৭৬

এই হাদিসে সনদে রাবী ইয়াহইয়া বিন আল-মুতাওয়াক্কিলের কারনে মুহাদ্দিসগণ এই হাদিসটাকে অত্যন্ত দূর্বল বলেছেন।[33]আল-হাফিজ, আল-ফাতহুল বারি ৩/৩৫৩; মুসনাদে আহমদ, বাকি মুসনাদ আল আনসান ২৫৭৪৩ (শুয়াইব আল-আরনাউত); আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফিতদিব্বি আন সুন্নাতি আল কাসিম … See Full Note

৬ষ্ঠ দলিল

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী ﷺ-এর নিকট খাদীজাহ্ (রাঃ) তাঁর (পূর্ব স্বামীর) দু’টি সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যারা জাহিলিয়্যাতের যুগে মারা গেছে (তারা কোথায় জান্নাতী, না জাহান্নামী)। উত্তরে রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তারা উভয়ে জাহান্নামী। আলী (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ (যখন সন্তানদের জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা দেন তখন) খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর চেহারায় বিষন্ন ও অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি তাদের অবস্থান বা অবস্থা দেখতে, তবে তুমি নিশ্চয়ই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে। অতঃপর খাদীজাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনার ঔরসে আমার যেসব সন্তান জন্মগ্রহণ করে মারা গেছে (কাসিম ও ‘আবদুল্লাহ, তাদের কী হবে)? রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তারা জান্নাতে অবস্থান করছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, মু’মিনগণ ও তাদের সন্তান-সন্ততিরা জান্নাতে এবং মুশরিক ও তাদের সন্তানাদিরা জাহান্নামে যাবে। তারপর রসূলুল্লাহ ﷺ কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ): “যারা ঈমান এনেছে আর তাদের সন্তানরা যারা তাদের অনুসরণ করেছে, [ আমি তাদের সন্তানদেরকে (জান্নাতে) ওদের সাথে রাখবো ]”- (সূরাহ্ আত্ তূর ৫২: ২১) [34]মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭; যাওয়ায়িদুল মুসনাদ ১১৩৪; মুসনাদে আহমদ ১১৩১

মুহাদ্দিসগণ বলেছেন এই হাদিসের সনদে ‘মুহাম্মাদ ইবনু উসমান’ নামক একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে এবং তার উপর মুনকার হাদীস বর্ণনা করার দুর্বলতা রয়েছে। তাই এই হাদিসটিও যয়িফ।[35]মাজ্মা‘উয্ যাওয়া-য়িদ, ৭/২১৭; যাওয়ায়িদুল মুসনাদ, ১/১৩৪-৩৫; ইমাম যাহাবী, “আল-মিজান” ৩/৬৪২; ফাতহুল বারী ৩/২৪৬-২৪৭; কানজুল উম্মাল ২/৫১২; ইবনে আবি আসিম, আস … See Full Note

অনেকেই দাবি করেছিল আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) নাকি বলেছিলেন কাফেরদের সন্তানেরা জাহান্নামে। কিন্তু এর পক্ষে ইমাম আহমদ থেকে সরাসরি বা কোন সহিহ সনদে কোন প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আমি পাই নি।

সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও গ্রহনযোগ্য মত তারা জান্নাতী (১ম মত)

ইমাম ইবনে হাযম (রহঃ) বলেছেন,

“মুসলিম ও মুশরিকদের মৃত সন্তানদেরকে নিয়ে লোকদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। খারেজিরা বিশ্বাস করে সকল অমুসলিমদের সন্তান জাহান্নামী ও মুসলিমদের মধ্যে যারা গুনাহগার তাদের সন্তানও জান্নাতী। অপর দিকে অন্যদের মধ্যে অধিকাংশ বললেন যে সব নাবালেগ শিশু জান্নাতে যাবে, এবং আমিও এটাই বলি।”[36]আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৪/১২৭

মালিকী মাযহাবের অন্যতম আলেম ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) নিজের কিতাবে এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, জুমহুর ওলামার মত হচ্ছে অমুসলিমদের সন্তানরা জান্নাতী হবে। কিছু আলেমদের মত হচ্ছে তাদের স্থান হবে আল-আরাফে [যা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থান] এবং এই আল-আরাফবাসীদের চূড়ান্ত নিয়তি হচ্ছে তারা জান্নাতে স্থান পাবে।[37]আল তামহীদ ১৮/৯৬

অমুসলিমদের সন্তান সম্পর্কে কোন এক হানাফী ফীক্বহের ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করা হলে সেখানে হানাফি মাজহাব অনুসারে উত্তর দেওয়া হয় যে,

“কাফের-মুশরিকদের নাবালেগ সন্তান মারা গেলে তাদের সাথে কি আচরণ করা হবে-এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে তারা জান্নাতে যাবে-এ মতটি অধিক শক্তিশালী।”[38]উমদাতুল কারী, ৮/২১২; লামিউদ দারারী, ২/১৩৭; রদ্দুল মুহতার, ২/১৯২; ফাতাওয়ায়ে উসমানী, ১/৫২; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম, ৫/৫০২

ইমাম আল বুখারিও মুশরিকদের নাবালগ সন্তানরা জান্নাতী এই মতের পক্ষে ছিলেন, যার ইবনে হাজার আসকালানি (রহঃ) তা কিতাবে উল্লেখ করেছেন।[39]ফাতহুল বারি ৩/২৯০ ইমাম আলবানি (রহঃ) বেশ কিছু দলিল খন্ডন করার পর, বেশ কিছু হাদিস উপস্থাপন করে বলেছেন এটাই সঠিক মত যে কাফের-মুশরিকদের সন্তানরাও জান্নাতী। আর এটা ইমাম নববী (রহঃ), ইমাম আসকালানী (রহঃ) ও অন্যান্য আলেমদের পছন্দের মত।[40]যিলালু জান্নাত ১/৯৫

এই মতের আলেমগণ যেই দলিলগুলো পেশ করেন সেগুলো হলোঃ

১ম দলিল

[অনেকগুলো সহিহ ও হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে] রাসূল ﷺ বলেছেন, “নবীরা জান্নাতী, শহীদরা জান্নাতী এবং নবজাতকরা জান্নাতী।”[41]মুসনাদে আবি শাইবা ৫৪২; মুসনাদে আহমদ ২০০৯০, ২০০৯২, ২২৮৫৮; মুসান্নাফে আবি শাইবা ১৮৯৩৫; সুনানে আবু দাউদ ২৫২১; মারিফাতুল সাহাবাতি লিআবি নাইম ৮১৯; আল কাদা … See Full Note

এই হাদিসগুলোতে কোথাও মুসলিম-অমুসলিম হওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়নি।

২য় দলিল

একবার মহানবী ﷺ নিজের দেখা একটি স্বপ্ন সম্পর্কে বলছিলেন,“…আমরা চললাম এবং একটা সজীব শ্যামল বাগানে হাজির হলাম, যেখানে বসন্তের হরেক রকম ফুলের কলি রয়েছে। আর বাগানের মাঝে আসমানের থেকে অধিক উঁচু দীর্ঘকায় একজন পুরুষ রয়েছে যার মাথা যেন আমি দেখতেই পাচ্ছি না। এমনিভাবে তার চারপাশে এত বিপুল সংখ্যক বালক-বালিকা দেখলাম যে, এত অধিক আর কখনো আমি দেখিনি।…আর এ দীর্ঘকায় ব্যক্তি যিনি বাগানে ছিলেন, তিনি হলেন, ইবরাহীম (আঃ)। আর তাঁর আশেপাশের বালক-বালিকারা হলো ঐসব শিশু, যারা ফিতরাতের (স্বভাবধর্মের) ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি বলেন, তখন কিছু সংখ্যক মুসলিম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও কি? তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও…।”[42]সহীহ বুখারি, ৮৪৫, ৭০৪৭; সহীহ মুসলিম ২২৭৫; আহমাদ ২০১১৫

সাধারনত আমরা সবাই জানি যে নবীদের স্বপ্নও সাধারনত ওহিই হয়ে থাকে। ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেছেনঃ

এই সহীহ হাদীসটি স্পষ্ট যে তারা জান্নাতে রয়েছে এবং নবীদের স্বপ্ন একটি ওহী।[43]তারিখ আল হিজরাতাইন পৃষ্ঠা. ৬৪২

এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম ইবনে হাযম (রহঃ) বলেছিলেন,

এটা কোরআন ও প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে কাফের ও মুসলিমদের শিশুরা যারা বয়সন্ধিতে পৌঁছেনি তারা একসাথে জান্নাতে রয়েছে ও থাকবে।[44]আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৩/১৬৮

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহঃ) এই হাদিস সম্পর্কে বলেন,

রাসূল (ﷺ) মুসলমানদের সন্তানদের সাথে তাদের যোগদান দেখেছেন, আখেরাতের নিয়ম তার এই কথার সাথে বিরোধী নয়।[45]ফাতহুল বারি ১২/৪৬৬

৩য় দলিল

কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,

“আল্লাহর ফিতরাত (স্বাভাবিক রীতি বা দ্বীন ইসলাম), যার উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহ্‌র সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন।”[46]সূরা রুম, আয়াত ৩০

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

“প্রতিটি মানবসন্তানই ফিতরাতের উপরে (মানবীয় প্রকৃতির উপরে, তাওহীদের ফিতরাতের উপরে) জন্মগ্রহণ করে স্পষ্ট করে কথা বলার আগ পর্যন্ত। অতপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়।”[47]বুখারী ১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৩৮৫, ৪৭৭৫; মুসলিম ২৬৫৮; আবু দাউদ ৪৭১৪

আরেকটি বর্ণনায়,

হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল (রহঃ) বলেন, আমি হাম্মাদ ইবনু সালাম (রাঃ)-কে ’’প্রত্যেক সন্তান ফিতরাতের (সত্য ধর্মের) উপর জন্মগ্রহণ করে’’- এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছিঃ এটা আমাদের নিকট সেই ওয়াদা যা পিতার মেরুদন্ডে অবস্থানকালে আল্লাহ তাদের কাছ থেকে ওয়াদা গ্রহণকালে বলেছিলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, হ্যাঁ।[48]আবু দাউদ ৪৭১৬

এই দলিল উপস্থাপন করে ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) নিজের কিতাবে লিখেছেন যে,

“ইসলাম মূলত মানুষের ঐচ্ছিক কর্মের উপর নির্ভর করে। জন্ম, বংশ, কার সন্তান, কার পরিবারে জন্ম নিয়েছে, কীভাবে মৃত্যুবরণ করেছে – এটা বড় বিষয় নয়। কাজেই যে শিশু জন্মেছে, এখনো বড় হয়নি, সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় নি, তাই তার পাপ নেই। কাজেই, কোন শিশু শিরক করতে পারে না, কুফর করতে পারে না সেত সচেতনই হয়নি এখনো। … (উপরের দলিল উপস্থাপান করে) … কাজেই এ পর্যায়ে যাওয়ার আগে যে মৃত্যুবরন করে তাকে আমরা মুশরিক-কাফের বলতে পরিনা। … সে যদি অপরাধ করে থাকে সেটা পিতা-মাতাকে দেখে দেখে করে, (তাই) সে পাপি নয়।[49]জিজ্ঞাসা ও জবাব ১/৬

৪র্থ দলিল

কোরআনে আল্লাহ একাধিক জায়গায় বলেছেন, ‘কেউ অন্য কারো বোঝা বহন করবে না’, ‘প্ৰত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।[50]সূরা ফাতির আয়াত ১৮; সূরা আন-নাজম আয়াত ৩৮; সূরা আনকাবুত আয়াত ১৩; সূরা আন নাহাল আয়াত ২৫; সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ১৫; সূরা আন‘আম, আয়াত ১৬৪; সূরা বাক্বারাহ, আয়াত … See Full Note

এই দলিলের উপর ভিত্তি করে একদল আলেম বলেছেন, কাফের মুশরিকদের নাবালেগ সন্তান যদি বালেগ হওয়ার পূর্বেই মারা যায়,তাহলে তাদের শাস্তি হবেনা। কেননা মা বাবার কুফুরির কারনে সে শাস্তির উপযুক্ত হবেনা।[51]জামিয়া বিন নুরি পাকিস্তানের 143607200012 নং ফতোয়া দ্রষ্টব্য; মা’আরেফুল কোরআন ৫/৪৫৭; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ১২/২১১

৫ম দলিল

কুরআনের বহু আয়াত থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, যে দ্বীনের দাওয়াত পায় নি, দ্বীন সম্পর্কে জানতে পায় নি, শুনতে পায়নি, দেখতে পায় নি তাকে আজাবে পতিত করেন না আল্লাহ।[52]সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১৫; সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৫৯; সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৬৫; সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪; সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১১৫

এই দলিলও এই মতের আলিমদের কাছে অন্যতম একটি প্রমাণ। সাধারনত নাবালকরা তো কিছু বুঝে না, তাদেরকে দাওয়াত দিলেও কি না দিলেও কি! কিন্তু সাধারনত কোন নাবালককে তো দাওয়াহ দেওয়া হয় না। সেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কথা অনুযায়ী তারা শাস্তির যোগ্যই না।

৬ষ্ঠ দলিল

হাদিসে এসেছে,

“তিন ব্যক্তির উপর থেকে (শরীয়তের) কলম তুলে নেওয়া হয়েছে। ১. ঘুমন্ত ব্যক্তি যথক্ষণ পর্যন্ত সে জাগ্রত না হবে ২. শিশু থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বালেগ না হবে ৩. পাগলের উপর থেকে যথক্ষণ পর্যন্ত সে জ্ঞান ফিরে পাবে। এই কারনে এই বয়সে ও এই অবস্থায় তাদের অপরাধগুলোর কোন শাস্তিও দেওয়া হয় না।[53]ইবন মাজাহ ২৫৪১; মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৯৮-৪৪০৬, ৪৩৪৬-৫১; তিরমিজি ৪৩৫১; আহমাদ ২৪১৪৫, ২৪১৭৩, ২৪১৮২, ২৪৫৯০; দারেমী ২২৯৬; ইরওয়াহ ২৯৭; বায়হাকী ফিস … See Full Note

এই বিষয়ে ইমাম নববী (রহঃ) বলেন,

“নবজাতকের উপর অর্পন করা আবশ্যক নয় নবীর উক্তি [শরীয়তের গুনাহের বিধান], যতক্ষন না সে বয়সন্ধিতে পৌছে, আর এতে সকলে একমত।”[54]শরহে মুসলিম ৯/৩৭৭৬

৭ম দলিল

আনাস (রাঃ) হতে, নবী (ﷺ) বলেছেন, আমি আমার ঈশ্বরের কাছে, মানবজাতির বংশধরদের (আরবি – اللاهين আল লাহিন ) আজাব না দেওয়ার জন্য বলেছিলাম এবং তিনি তা কবুল করেছিলেন।[55]মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪০৮৭, ৪১০১-২; আল-হাইথামি আল-মাজমা ৭/২১৯; সিলসিলায়ে সহীহা ১৮৮১; হাদিসটি হাসান

ইবনে আবদ আল-বার (রহঃ) বলেছেনঃ

এটি শিশুদের জন্য বলা হয়েছিল “লাহিন” কারণ তাদের কাজগুলি বিনোদনের মতো এবং চুক্তি বা সংকল্প ছাড়াই খেলা করে, তারা যা বলে তা থেকে।[56]আল-তামহীদে ১৮/১১৭

আলবানী (রহঃ) বলেছেন:

“‘আল-লাহিন’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হল শিশু, যেমনটি আল-তাবারানীতে (১১৯০৬) ইবনে আব্বাসের একটি হাদীসে রয়েছে যার সনদ উত্তম। হাদিসটি একটি প্রমাণ যে কাফেরদের সন্তানরা জান্নাতে থাকবে এবং এটি সবচেয়ে সঠিক, যেমনটি আমরা “যিলালুল জান্নাহ” (১/৯৫) এ উল্লেখ করেছি, তাই এটি পর্যালোচনা করুন।”

তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে (২য় মত)

এই মতের প্রথম দলিল, কোরআনের বহু আয়াত থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ‘যে দ্বীনের দাওয়াত পায় নি, দ্বীন সম্পর্কে জানতে পায় নি, শুনতে পায়নি, দেখতে পায় নি তাকে আজাবে পতিত করেন না আল্লাহ।’[57]সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১৫; সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৫৯; সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৬৫; সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪; সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১১৫

আবার বেশ কিছু হাদিস থেকে পাওয়া যায় যে যারা প্রকৃতই ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানেনি, শুনেনি, দাওয়াত পায়নি তাদের কাছে, পাগলদের কাছে, বধিরদের কাছে এবং এমন আরো কিছু মানুষের কছে থেকে কিয়ামতে আল্লাহর আনুগত্যের উপর এক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাতে যারা উত্তীর্ণ হবে, তারা জান্নাতবাসী এবং অবশিষ্টরা দোযখবাসী হবে। আর এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অধিকাংশ স্কলারের মত। আর এই দলিলের ভিত্তিতেই অনেকে বলেছেন কাফের শিশুদের থেকেও পরিক্ষা নেওয়া হবে।[58]আবু ইয়ালা ৪২২৪; আস-সহীহাহ ১৪৩৪, ২৪৬৮; মুসনাদে আহমদ ৪/২৮; মাজমুউল-ফাতাওয়া’ ৪/২৪৬-২৪৭, ৩১২; মাকতাবাহ মাআরিফ ৩/২০৭; তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/২৯-৩৩; আল বাইহাকি, আল … See Full Note

উপরের দলিলের উপর ভিত্তি করে অনেক আলেম বলেছেন উক্ত বিধানটা হাদিসের বক্তব্যের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই তারা বলেছেন কাফের শিশুদের থেকেও পরিক্ষা নেওয়া হবে যারা উত্তীর্ণ হবে তারা জান্নাতী ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না তারা জাহান্নামী।[59]ইবনুল কাইয়্যিম, সুনানুল আবি দাউদ, ৭/৮৭

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সেরা একজন আলেম ছিলেন সৌদির গ্রেন্ড মুফতি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহঃ)। তিনি এই মতের পক্ষে নিজের মত দিয়েছেন।[60]Binbaz.org.sa ফাতওয়া ৩২৬১; মাজমু’ আল-ফাতওয়া ৩/১৬৩ ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এই মতে ইমাম ছিলেন।[61]Binbaz.org.sa ফাতওয়া ৬০

তাদের সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন (৩য় মত)

অনেক জায়গায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে মুশরিকদের নাবালিগ সন্তানাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তারা (বাঁচলে) কী ’আমল করত এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন।[62]বুখারী ১৩৮৩, ৬৫৯৭; মুসলিম ২৬৬০; আহমাদ ১৮৪৫; আবু দাউদ ৪৭১১, ১২, ১৪, ১৫

এই মতের আরো কিছু দলিল এই খানে পেয়ে যাবেন।[63]ইবনু হিব্বান ৬৭২৪; আল-হাকিম ১/৩৩;  ইবনুল কাইয়্যিম, সুনানে আবি দাউদ ১২/৪৮৪; আহকাম আহলিল যিম্মাহ ২/১০৯০; জাফর আল-ফারিয়াবি “আল-কদর” ২৫৮-৫৯

এই হাদিসের উপর অনেক আলেমই আমল করে থাকেন। কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায় যে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ), ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ও ইমাম শাফেই (রহঃ) এই মাযহাবের মানুষ ছিলেন।

মুশরিকদের সন্তান জান্নাতীদের দাস? (১ম মতের অংশবিশেষ)

আবার আরো একটা মত পাওয়া যায় যে কাফের-মুশরিকদের সন্তানরা সাধারণ জান্নাতীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এর পক্ষে দলিল হল –

আনাস (রাঃ)-হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন তারা (কাফের-মুশরিকদের সন্তানরা) হল জান্নাতবাসীদের বান্দা/দাস।[64]মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪১০১, ৪১০২

হাদিসটি সহিহ নয় বরং হাসান[65]সিলসিলায়ে সহীহা ১৮৮১; ফাতহুল বারি ৩/২৯০ এবং এই একটি হাদিস ছাড়া আর কোন হাদিস নেই এ মতের পক্ষে। যেহেতু এই হাদিসটি হাসান এবং শুধুু একটি সূত্রেই পাওয়া যায় শুধু, সেহেতু অসংখ্য সহিহ হাদিসের বিপরীতে এই হাদিস প্রাধান্য পাবে না। আবার অনেক আলিমের মতেত উক্ত হাদিসটি যঈফ।

এ বিষয়ে ইমাম বায়হাকী (রহঃ) বলেছেনঃ

এবং মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে এমন জোরালো প্রমাণ নেই যে তারা জান্নাতবাসীদের দাস।[66]আল-ইতিকাদ’ পৃ. ১৯৬

ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,

কিছু লোক বলেছেন কাফেরদের সন্তানরা জান্নাতবাসীদের দাস হবে। কিন্তু এই কথার কোন ভিত্তি নেই।[67]মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/২৭৯

অধিকতর সঠিক মত হলো জান্নাতীদের জন্য নির্ধারিত চিরোকিশোর সেবকদেরকে[68]কুর’আন, সূরা ওয়াক্বিয়া:১৭, আল-ইহসান:১৯ আলাদা খাসভাবে জান্নাতের জন্যই সৃষ্টি করা হবে।[69]মাজমূ আল-ফাতওয়া ৪/৩১২[70]https://islamqa.info/en/answers/43191


جَزَاكَ ٱللَّٰهُ خَيْرًا

    Footnotes

    Footnotes
    1তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/২৯-৩৩; শারহে সুনানে আবি দাউদ ৭/৮৩; আত তাযকিরাহ ২/৩২৮; আত-তাদকিরাহ ২/৩২৮; শরহ মুসলিম ১৬/২০৭, ২০৮; ফাতহুল বারী ৩/২৪৫; মাজমূউ ফাতাওয়া ৪/২৮১; তীবী শরহে মেশকাত, ১/২৬২; মেরকাত, ১/১৬৬; ফাইযুল বারী শরহে বুখারী, ৪/৪৩৬; আশরাফুত তাওজীহ-মিশকাতুল মাসাবীহ, ১/ ২৪১; তারিক আল-হিজরাতাইন ওয়া বাব আল-সা’দাতাইন ২/৪৯৪
    2মিশকাতুল মাসাবিহ হাদিস ১১১; আবু দাউদ ৪০৮৯
    3মিশকাতুল মাসাবিহ (হাদিস একাডেমী) ১১১ http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=54670

    http://ihadis.com/books/mishkatul-masabih/hadis/111

    4শরহে মুসলিম, খন্ড ২ হাদিস ৩৩৭, ৭/২৭১৬, ২৭১৭
    5আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৪/১৩১
    6তারিখ আল হিজরাতাইন পৃষ্ঠা. ৬৪৪
    7বুখারী ৩০১২, ২৩৭০; মুসলিম ৭৫৪৫, ১৫১৭; আবূ দাউদ ২৬৭২, ৩০৮৩; ইবনু মাজাহ ২৮৩৯; আহমাদ ২৭৯০২, ২৭৮০৯
    8বুখারী ৩০১৪-১৫; মুসলিম ১৭৪৪; তিরমিযী ১৫৬৯; আবূ দাউদ ২৬৬৮; ইবনু মাজাহ ২৮৪১; আহমাদ ৪৭২৫, ৬০১৯; মুয়াত্তা মালেক ৯৮১; দারেমী ২৪৬২
    9Alukah.net ফাতওয়া ৫৬০৮৩
    10আল তামহীদ ১৬/১৪৬
    11Binbaz.org.sa ফাতওয়া ৩২৬১
    12মুসনাদে আহমাদ-১৫৪৯৩; আবু দাউদ ৪৭১৭; মিশকাত ১১২; সহীহুল জামি ৭১৪২
    13শরহে সুনানে আবি দাউদ ১৫/২২৫
    14মুসনাদে আবি শাইবা ৫৪২; আসহাদুল গাহবাত ২০৬১; মারিফাতুল সাহাবাতি লিআবি নাইম ৮১৯
    15আবু দাউদ ২৫২১
    16https://response-to-anti-islam.com/show/যে-মেয়েকে-জীবন্ত-কবর-দেওয়া-হয়-এবং-যে-কবর-দেয়—উভয়-কি-জাহান্নামী–/256
    17আহকামু আহলিল যিম্মা ২/৯৫
    18হাশিয়াতুল মিশকাত নং ৪০
    19আউনুল মা’বুদ ১২/৩২২
    20মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে বায-২/৭১২
    21তুহফাতুল আবরার শরহুল মাসাবীহ আল সানা ১/১১০
    22তাফসিরুল বাগাভী ৮/৩৪৮; তাফসির আবি আল সৌদ ৯/১১৫; তাফসির আল থালাবী ২৮/৪৮১
    23শারহুল মিশকাত লিল তিব্বি আল কাশফ আন হাকায়িক আল সুনান ২/৫৭৫; ফয়দুল কাদির ৬/৩৭০; শারহুল মাসাবিহ লি ইবনে মালিক ১/১২৯, কিতাব যাওয়ায়েদ তারিখ বাগদাদ আলাল কুতুবুল সিত্তা ৬/১২,১৩
    24, 27সহিহ মুসলিম ৪৭২৭
    25কুর’আন, সূরা কাহাফ আয়াত ৮০
    26সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৬৬১
    28সহিহুল মুসলিম, হাদিস একাডেমী ৪৫৭৯ http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=51662
    29ইমাম নববি, শরহে মুসলিম ৯/৩৭৭৭
    30আল মান্নাতু শারহা আতিকদা আহলিস সানাদি পৃ. ৩৩৫-৩৩
    31আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৪/১৩২-৩৩
    32মুসনাদে আহমদ ২৫৭৪৩; আবু দাউদ আল-তায়ালিসি ১৪৭৬
    33আল-হাফিজ, আল-ফাতহুল বারি ৩/৩৫৩; মুসনাদে আহমদ, বাকি মুসনাদ আল আনসান ২৫৭৪৩ (শুয়াইব আল-আরনাউত); আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফিতদিব্বি আন সুন্নাতি আল কাসিম ৩/৩৭০-৭১; আল-তামহীদ ১৮/১২২
    34মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭; যাওয়ায়িদুল মুসনাদ ১১৩৪; মুসনাদে আহমদ ১১৩১
    35মাজ্মা‘উয্ যাওয়া-য়িদ, ৭/২১৭; যাওয়ায়িদুল মুসনাদ, ১/১৩৪-৩৫; ইমাম যাহাবী, “আল-মিজান” ৩/৬৪২; ফাতহুল বারী ৩/২৪৬-২৪৭; কানজুল উম্মাল ২/৫১২; ইবনে আবি আসিম, আস সুন্নাহ ২১৩
    36আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৪/১২৭
    37আল তামহীদ ১৮/৯৬
    38উমদাতুল কারী, ৮/২১২; লামিউদ দারারী, ২/১৩৭; রদ্দুল মুহতার, ২/১৯২; ফাতাওয়ায়ে উসমানী, ১/৫২; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম, ৫/৫০২
    39ফাতহুল বারি ৩/২৯০
    40যিলালু জান্নাত ১/৯৫
    41মুসনাদে আবি শাইবা ৫৪২; মুসনাদে আহমদ ২০০৯০, ২০০৯২, ২২৮৫৮; মুসান্নাফে আবি শাইবা ১৮৯৩৫; সুনানে আবু দাউদ ২৫২১; মারিফাতুল সাহাবাতি লিআবি নাইম ৮১৯; আল কাদা উয়াল কাদারা লিল বাইহাকি ৫৬১; আল সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি ১৭০৩৮; আল তামহীদ ৩০৫৭-৮; আল-ইস্তিদকার ৩০২; আসহাদুল গাহবাত ২০৬১ – https://hadith.islam-db.com ভার্শন
    42সহীহ বুখারি, ৮৪৫, ৭০৪৭; সহীহ মুসলিম ২২৭৫; আহমাদ ২০১১৫
    43তারিখ আল হিজরাতাইন পৃষ্ঠা. ৬৪২
    44আল-ফাসল ফি আল-মিলাল ওয়া আল-নিহাল ৩/১৬৮
    45ফাতহুল বারি ১২/৪৬৬
    46সূরা রুম, আয়াত ৩০
    47বুখারী ১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৩৮৫, ৪৭৭৫; মুসলিম ২৬৫৮; আবু দাউদ ৪৭১৪
    48আবু দাউদ ৪৭১৬
    49জিজ্ঞাসা ও জবাব ১/৬
    50সূরা ফাতির আয়াত ১৮; সূরা আন-নাজম আয়াত ৩৮; সূরা আনকাবুত আয়াত ১৩; সূরা আন নাহাল আয়াত ২৫; সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ১৫; সূরা আন‘আম, আয়াত ১৬৪; সূরা বাক্বারাহ, আয়াত ১৩৪; সুরা হাজ্জ্ব, আয়াত ৩৭; সূরা তূর আয়াত ২১; সূরা মুদ্দাসসির আয়াত ৩৮
    51জামিয়া বিন নুরি পাকিস্তানের 143607200012 নং ফতোয়া দ্রষ্টব্য; মা’আরেফুল কোরআন ৫/৪৫৭; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ১২/২১১
    52, 57সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১৫; সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৫৯; সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৬৫; সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪; সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১১৫
    53ইবন মাজাহ ২৫৪১; মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৯৮-৪৪০৬, ৪৩৪৬-৫১; তিরমিজি ৪৩৫১; আহমাদ ২৪১৪৫, ২৪১৭৩, ২৪১৮২, ২৪৫৯০; দারেমী ২২৯৬; ইরওয়াহ ২৯৭; বায়হাকী ফিস সুনান ৭/২৩৯; আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৩৬৫
    54শরহে মুসলিম ৯/৩৭৭৬
    55মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪০৮৭, ৪১০১-২; আল-হাইথামি আল-মাজমা ৭/২১৯; সিলসিলায়ে সহীহা ১৮৮১; হাদিসটি হাসান
    56আল-তামহীদে ১৮/১১৭
    58আবু ইয়ালা ৪২২৪; আস-সহীহাহ ১৪৩৪, ২৪৬৮; মুসনাদে আহমদ ৪/২৮; মাজমুউল-ফাতাওয়া’ ৪/২৪৬-২৪৭, ৩১২; মাকতাবাহ মাআরিফ ৩/২০৭; তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/২৯-৩৩; আল বাইহাকি, আল ইতিকাদ ২০৩-৪; আহকামু আহলিল যিম্মাহ ২/১১৩৭; তারিখ আল হিজরাতাইন পৃষ্ঠা. ৩৯৬
    59ইবনুল কাইয়্যিম, সুনানুল আবি দাউদ, ৭/৮৭
    60Binbaz.org.sa ফাতওয়া ৩২৬১; মাজমু’ আল-ফাতওয়া ৩/১৬৩
    61Binbaz.org.sa ফাতওয়া ৬০
    62বুখারী ১৩৮৩, ৬৫৯৭; মুসলিম ২৬৬০; আহমাদ ১৮৪৫; আবু দাউদ ৪৭১১, ১২, ১৪, ১৫
    63ইবনু হিব্বান ৬৭২৪; আল-হাকিম ১/৩৩;  ইবনুল কাইয়্যিম, সুনানে আবি দাউদ ১২/৪৮৪; আহকাম আহলিল যিম্মাহ ২/১০৯০; জাফর আল-ফারিয়াবি “আল-কদর” ২৫৮-৫৯
    64মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪১০১, ৪১০২
    65সিলসিলায়ে সহীহা ১৮৮১; ফাতহুল বারি ৩/২৯০
    66আল-ইতিকাদ’ পৃ. ১৯৬
    67মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/২৭৯
    68কুর’আন, সূরা ওয়াক্বিয়া:১৭, আল-ইহসান:১৯
    69মাজমূ আল-ফাতওয়া ৪/৩১২
    70https://islamqa.info/en/answers/43191
    0 0 votes
    Article Rating
    Subscribe
    Notify of
    guest
    0 Comments
    Inline Feedbacks
    View all comments
    Back to top button