হিন্দুধর্ম

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্র থেকে বাল্যবিবাহের বাধ্যবাধকতা প্রমাণ

যখন দেখানো হয় হিন্দুধর্মের বাল্যবিবাহের বাধ্যবাধকতা, তখনই কিছু আর্যসমাজী অ্যাপোলোজিস্ট তাদের বানোয়াট রেফারেন্স নিয়ে হাজির হয়, আর বলে বেদে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ, আর বাকিসব বেদবিরুদ্ধ, মানি না, হোক হাজার হাজার রেফারেন্স! আসুন খতিয়ে দেখি।

যদিও আর্যসমাজ জালিয়াতিতে সেরা[1]আর্য সমাজদের বেদের অনুবাদে জালিয়াতি পর্ব ১, পর্ব ২ এই লেখাগুলোতে তাদের জালিয়াতি দেখা যাবে। তাছাড়াও আমাদের পূর্ব লেখায় তাদের জালিয়াতি … See Full Note, তবুও তর্কের খাতিরে তাদের কিছু অনুবাদ ব্যবহার করা হয়েছে।

Contents Hide
1 বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ?

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ?

এ ক্ষেত্রে আর্যসমাজী অ্যাপোলোজিস্টরা চারটি বেদের শ্লোক দেখায়। আমরা একে একে পর্যালোচনা করি চলুন।

ঋগ্বেদ ১/১৭৯/১

হিন্দু কিছু অ্যালোলোজিস্ট এই মন্ত্র দেখিয়ে বলার চেষ্টা করে যে বেদে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ! আসুন তো দেখি!

সংস্কৃত শ্লোক,

पूर्वीरहं शरदः शश्रमाणा दोषा वस्तोरुषसो जरयन्तीः । मिनाति श्रियं जरिमा तनूनामप्यू नु पत्नीर्वृषणो जगम्युः॥१॥

pūrvīr ahaṃ śaradaḥ śaśramāṇā doṣā vastor uṣaso jarayantīḥ | mināti śriyaṃ jarimā tanūnām apy ū nu patnīr vṛṣaṇo jagamyuḥ ||[2]WisdomLib

ক্লাসিক্যাল অনুবাদ

রমেশচন্দ্র দত্তের অনুবাদ,

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?
ঋগ্বেদ ১:১৭৯:১

বহু সম্বৎসর অবধি, আমি রাত্রিদিন ও জরাসমুৎপাদক ঊষাতে তোমার সেবা করিয়া শ্রান্ত হইয়াছি। জরা শরীরের সৌন্দর্য নাশ করিতেছে। এক্ষণে কি? পুরুষ স্ত্রীর নিকট গমন করুক।[3]ঋগ্বেদ সংহিতা ১/১৭৯/১, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত, ১৮৮৫ সালে অনুবাদকৃত, ১৯০৯ ২য় সংস্করণ, প্রকাশকঃ শ্রী লক্ষ্ণীকান্ত পাত্র, মুদ্রণঃ কলিকাতা, এলম্ প্রেসঃ … See Full Note

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

গ্রিফিথের অনুবাদ,

 ‘Through many autumns have I toiled and laboured, at night and morn, through age-inducing dawnings. Old age impairs the beauty of our bodies. Let husbands still come near unto their spouses.[4]Rigveda 10:CLXXIX:1 – Sacred-texts

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

উইলসনের অনুবাদ,

“(Lopāmudrā): Many years have I been serving you diligently, both day and night, and through mornings, bringing on old age; decay now impairs the beauty of my limbs; what, therefore, is now (to be done); let husbands approach their wives.”[5]Rig Veda 1.179.1,  H. H. Wilson, 1866

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

আর্যসমাজীদের অনুবাদ

এই মন্ত্রগুলোর অনুবাদকে বিদ্ধস্ত করে ছেড়েছে আর্যসমাজ। দেখা যাক।

দয়ানন্দ স্বরস্বতী[6]Rigved Bhashya Rishi DayanandPage 1848,

Rigveda 1.179.1 Arya Mantavya

দয়ানন্দ সরস্বতী এই মন্ত্রের ভাবার্থে কী লিখেছেন দেখা যাকঃ

(হিন্দিতে) भावार्थ – इस मन्त्र में वाचकुलप्तोपमालङ्कार है। जैसे बाल्यावस्था को लेकर विदुषी स्त्रियों ने प्रतिदिन प्रभात समय से घर के कार्य और पति की सेवा आदि कर्म किये हैं, वैसे किया है ब्रह्मचर्य जिन्होंने, उन स्त्री-पुरुषों को समस्त कार्यों का अनुष्ठान करना चाहिये ॥ १ ॥

উচ্চারণঃ Bhaavaarth – iss mantr mein vaachakulaptopamaalankaar hai. jaise baalyaavastha ko lekar vidushee striyon ne pratidin prabhaat samay se ghar ke kaary aur pati kee seva aadi karm kiye hain, vaise kiya hai brahmachary jinhonne, un stree-purushon ko samast kaaryon ka anushthaan karana chaahiye.

ই’ মন্ত্র মে ভাচকুলপ্তোপমা লংকার হ্যাই। জ্যৈসে বাল্যাভস্থা কো লেকর ভিদুষী স্ত্রিয়োং নে প্রতিদিন প্রভাত সময় সে ঘর কে কার্য আর পতি কি সেভা আদি কর্ম কিয়ে হ্যাইং, ভ্যৈসে কিয়া হ্যাই ব্রহ্মচর্য জিন্হোংনে, উন স্ত্রী-পুরুষোং কো সমস্ত কার্যোং কা আনুষ্ঠান করনা চাহিয়ে।

দয়ানন্দ স্বরস্বতীর অনুবাদই কি বাল্যবিবাহের প্রমাণ?

এখানে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ তো নয়ই, বরং “যেভাবে বাল্যাবস্থা থেকে বিদূষী স্ত্রীরা প্রতিদিন সকালে ঘরের কাজ এবং স্বামীর সেবা করেছেন…”- এই অংশ থেকে বেদে বাল্যবিবাহের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, এখানে আরেকটা জিনিস দেখা যায় যে, “ব্রহ্মচর্য সবাই করে না।

দয়ানন্দ স্বরস্বতীই তার ভক্তদের বাঁশ দিচ্ছে! অবশ্য, দয়ানন্দ স্বরস্বতী তাক্বিয়াতেও সেরা।[7]হিন্দুধর্মে মিথ্যাচারের বৈধতা সেটা আমরা পরবর্তীতে এবং অন্য কখনো দেখবো।

ধর্মদেব বিদ্যামার্তণ্ড দয়ানন্দের ভাষ্যের ইংরেজি অনুবাদে কী টুইস্ট করেছে দেখুন, “বাল্যাবস্থা” শব্দটাকে উধাও করে দিয়েছেঃ

Bhavarth(ভাবার্থ): Question Wife to her husband: since many years I have been serving you diligently, day and night, and in the momings. It has brought in old age. The beauty of my limbs is decaying now and getting impaired. What therefore is now to be done? Let virile husbands then approach their wives.

বঙ্গানুবাদঃ স্ত্রী তার স্বামীকে বলছে – বহু বছর ধরে আমি দিনরাত, অধ্যবসায়ের সাথে আপনার সেবা করে আসছি। এনে দিয়েছে বার্ধক্য। আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন কি করতে হবে? অতঃপর কুমারী স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের কাছে আসুক।

Remark(মন্তব্য): the learned wives perform all their domestic daily duties including service to their husbands, from moming up of night. Likewise, men and women who have observed Brahmacharya, should discharge their conjugal obligations properly while engaging themselves in performing good deeds.

বঙ্গানুবাদঃ [শিশুকাল থেকে] শিক্ষিত স্ত্রীরা তাদের স্বামীর সেবা, ভোর থেকে শুরু করে তাদের সমস্ত গৃহস্থালী দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করে।  একইভাবে, ব্রহ্মচর্য পালন করা পুরুষ ও নারীদের উচিত তাদের দাম্পত্য দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং নিজেদেরকে সৎকর্ম সম্পাদনে নিযুক্ত করা।[8]Rig veda, part 3, page 248-249, Rig veda 1/179/1 https://archive.org/details/rig-ved-bhashya-bhumika-eng-allof-3parts-merged/RigVed%20Dharmdev%20ji%20Eng%203/page/248/mode/1up?view=theater

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন? আর্যসমাজীরা অবশ্য যেখানে সেখানে ব্রহ্মচর্য ঢুকিয়ে দেয় অনুবাদে।

তুলসীরামের অনুবাদ,

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?
Rigveda 1/179/1, Tulsiram

Working for the last many many years from dawn through the day until the dark late at night, tired and worn out, growing old and older, now old age destroys the health and beauty of the body of women. Therefore the young and virile husband should meet the wife only earlier when she is young and charming.[9]Rigveda Vol I, 1:179:1, Tr. by Tulsiram, Aryasamaj Elibrary

বাংলাঃ গত বহু বছর ধরে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে, ক্লান্ত ও জীর্ণ, বৃদ্ধ ও বৃদ্ধ হওয়া, এখন বার্ধক্য নারীর দেহের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য নষ্ট করে।  তাই ‘young’ এবং বীর্যবান স্বামীর স্ত্রীর কাছে যাওয়া উচিত যখন সে ‘young’ এবং কমনীয়।

এখানে তার অনুবাদে প্রকাশ পেয়েছে, বার্ধক্য নারীর সৌন্দর্য নষ্ট করে, তাই সে তরুনী থাকা অবস্থায়ই স্বামীকে তার কাছে যাওয়া উচিত (বার্ধক্যের বিপরীতে)।

পাঠক কি এখানে খুঁজে পাচ্ছেন যে, বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ?

ঋগ্বেদ ৩/৮/৪

সংস্কৃত মন্ত্র,

युवा॑ सु॒वासा॒: परि॑वीत॒ आगा॒त्स उ॒ श्रेया॑न्भवति॒ जाय॑मानः । तं धीरा॑सः क॒वय॒ उन्न॑यन्ति स्वा॒ध्यो॒३ मन॑सा देव॒यन्त॑: ॥

yuvā suvāsāḥ parivīta āgāt sa u śreyān bhavati jāyamānaḥ | taṃ dhīrāsaḥ kavaya un nayanti svādhyo manasā devayantaḥ ||[10]WisdomLib

অনার্যসমাজী অনুবাদ

রমেশচন্দ্র দত্তের অনুবাদ,

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

গ্রিফিথের অনুবাদ,

Well-robed, enveloped he is come, the youthful: springing to life his glory waxeth greater. Contemplative in mind and God-adoring, sages of high intelligence upraise him.[11]Rig veda 3:VIII:4 – Sacred-texts

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

উইলসনের অনুবাদ,

“Well clad and hung with wreaths comes the youthful (pillar); most excellent it is as soon as genitive rated; steadfast and wise venerators of the gods, meditating piously in thei rminds, raise it up.”[12]Rig veda 3.8.4 – H.H. Wilson – Wisdomlib

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

আর্যসমাজীদের অনুবাদ

আর্যসমাজীরা অনুবাদের কী হাল করেছে দেখি চলুন…

দয়ানন্দ স্বরস্বতীর আবিষ্কার,

(হিন্দিতে)भावार्थ – कोई भी मनुष्य विद्या की उत्तम शिक्षा और ब्रह्मचर्य्य सेवन के विना दीर्घायु और सभा के योग्य विद्वान् नहीं हो सकता और न वह मनुष्य कहीं सत्कार पाने योग्य होता है। जिस मनुष्य की धार्मिक विद्वान् प्रशंसा करते हैं, वही विद्वान् है ॥४॥

উচ্চারণঃ Bhaavaarth – koee bhee manushy vidya kee uttam shiksha aur brahmacharyy sevan ke vina deerghaayu aur sabha ke yogy vidvaan nahin ho sakata aur na vah manushy kaheen satkaar paane yogy hota hai. jis manushy kee dhaarmik vidvaan prashansa karate hain, vahee vidvaan hai

বঙ্গানুবাদঃ শিক্ষার সুশিক্ষা এবং ব্রহ্মচর্য সেবন ব্যতীত কোন মানুষ দীর্ঘায়ু ও সমাবেশের যোগ্য পন্ডিত হতে পারে না এবং সেই ব্যক্তি কোন আতিথেয়তা পাওয়ার যোগ্যও নয়।  ধর্মীয় পণ্ডিতরা যাঁর প্রশংসা করেন, তিনি পণ্ডিত।

হঠাৎ কোথা থেকে ব্রহ্মচর্য এসবের উদ্ভব হলো? ধর্মদেব বিদ্যামার্তণ্ড দয়ানন্দের ইংরেজি অনুবাদ করেছেন,

Bhavarth: Well-clad and well-read comes a young-man. He has acquired knowledge with the observance of Brahmacharya (continence) from eight years onward. He becomes excel- lent, and is brought up in the womb of the mother Vidya (wisdom and knowledge). Steadfast far-sighted wise men or seers who are experts in imparting good knowledge and who desire the true welfare of their pupils, elevate them to good knowledge and perfection of mind.

Remark: No one can become a civilised long-lived and learned pelton without wisdom, good education and Bramacharya, and he does not earn respect. He alone is truly learned whom righteous enlightened persons admire.[13]Rigveda, Vol 3, page 664

যা হোক, পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

তুলসীরাম,

Let the young graduate come back home, decently robed, graceful, brilliant as the rising sun, auspicious, reborn through education as a scholar. Eminent and sagely scholars, creative minds of sublime imagination, highly learned, seekers of divinity with sincere mind and soul may continue to guide and lead the scholar onward.

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

ঋগ্বেদ ৩/৫৫/১৬

সংস্কৃত মন্ত্রটি হলো,

आ धे॒नवो॑ धुनयन्ता॒मशि॑श्वीः सब॒र्दुघा॑: शश॒या अप्र॑दुग्धाः । नव्या॑नव्या युव॒तयो॒ भव॑न्तीर्म॒हद्दे॒वाना॑मसुर॒त्वमेक॑म् ॥

ā dhenavo dhunayantām aśiśvīḥ sabardughāḥ śaśayā apradugdhāḥ | navyā-navyā yuvatayo bhavantīr mahad devānām asuratvam ekam ||[14]WisdomLib

অনার্যসমাজী অনুবাদ

রমেশচন্দ্র দত্তের অনুবাদ,

 

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

গ্রিফিথের অনুবাদ,

Let the milch-kine that have no calves storm downward, yielding rich nectar, streaming, unexhausted,
These who are ever new and fresh and youthful.
Great is the Gods’ supreme and sole dominion.

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

উইলসনের অনুবাদ,

“May the kine without their young, abiding (in the heaven), and though unmilked, yet yielding milk and ever fresh and youthfu,l be shaken (so as to perform their functions); great and unequalled is the might of the gods.”

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

আর্যসমাজীদের অনুবাদ

দয়ানন্দ স্বরস্বতীর আবিষ্কার,

भावार्थ – इस मन्त्र में वाचकलुप्तोपमालङ्कार है। जैसे प्रथम अवस्था में वर्त्तमान विद्या पढ़ी हुई बाला भिन्न ब्रह्मचारिणी स्त्रियाँ अपने सदृश पतियों को प्राप्त होकर आनन्दित होती हैं, वैसे ही सब विद्याओं से युक्त वाणियों को प्राप्त होकर विद्वान् लोग सुखी होते हैं ॥१६॥

উচ্চারণঃ Bhaavaarth – is mantr mein vaachakaluptopamaalankaar hai. jaise pratham avastha mein varttamaan vidya padhee huee baala bhinn brahmachaarinee striyaan apane sadrsh patiyon ko praapt hokar aanandit hotee hain, vaise hee sab vidyaon se yukt vaaniyon ko praapt hokar vidvaan log sukhee hote hain

বঙ্গানুবাদঃ প্রথম পর্যায়ে যেমন বর্তমান জ্ঞান-অধ্যয়নরত বিভিন্ন ব্রহ্মচারিণী নারীরা তাদের মত স্বামী পেয়ে আনন্দিত হয়, তেমনি বিদ্বান লোকেরাও সমস্ত জ্ঞানের বাণী পেয়ে আনন্দিত হয়।

অবস্থাটা দেখেন, এখানে হঠাৎ কোত্থেকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক উদ্ভব হলো? মূল সংস্কৃতে এমন কিছুই নেই।

তা পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

তুলসীরাম,

Let the ‘cows’, day and night, heaven and earth, stars and planets, move and shake and shower the nectar milk of light and life, vibrant and full, abundant and inexhaustible, like youthful maidens ancient yet ever fresh anew. Great is the glory and gifts of Divinity, various, infinite, yet one, undivided, indivisible.

তুলসী রাম আবার বিবাহের কথা টেনে আনেন নি, দয়ানন্দের জালিয়াতি বুঝে গেছেন। তা পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

অথর্ববেদ ১১/৫/১৮

সংস্কৃত,

ब्र॑ह्म॒चर्ये॑ण क॒न्या॒ युवा॑नं विन्दते॒ पति॑म्। अ॑न॒ड्वान्ब्र॑ह्म॒चर्ये॒णाश्वो॑ घा॒सं जि॑गीर्षति ॥

ব্র॑হ্ম॒চর্যে॑ণ ক॒ন্যা॒ যুবা॑নং বিন্দ’তে পতি॑ম্। অ॑ন॒ড়্বান্ব্র॑হ্ম॒চর্যে॒ণাশ্ব’োঃ গ্হা॒সং জি॑গীর্ষতি ॥

অনার্যসমাজী অনুবাদ

গ্রিফিথের অনুবাদ,

By self-restraint a maiden finds a youth to be her wedded lord. By self-restraint the ox and horse seek to win fodder for them-selves

বিজনবিহারী গোস্বামীর অনুবাদ,

কন্যা (আবিবাহিত ) ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে উত্তম যুবা পতি লাভ করে। (অধিক কি পশুজাতও ব্রহ্মচর্যের দ্বারা অভিলষিত ফল লাভ করে ) – শকট-বহনকারী বলীবর্দ ব্রহ্মচর্যের দ্বারা স্বকার্য সাধন করে উৎকৃষ্ট পতি (প্রভু) লাভ করে। সেরূপ অশ্ব ব্রহ্মচর্যের দ্বারা তৃণাদি ভক্ষণ করতে ইচ্ছা করে।[15]অথর্ববেদ সংহিতা, ১১শ কাণ্ড ৩ অনুবাক, সুক্ত ২, ভার্স ৭

এই মন্ত্রটির কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পেলাম না! আমার সামনেই কতো হিন্দু মেয়ে “উত্তম যুবা পতি” বিয়ে করলো তার ইয়ত্তা নেই! এর মানে হতে পারে যেই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না তার এই ব্রহ্মচর্য ব্রত করে কোনো পাত্র পাবে! যদিও এর প্রায়োগিক কোনো প্রমাণ দেখি নি এপর্যন্ত।

আর্যসমাজীদের অনুবাদ

হরিশহরণ সিদ্ধালংকার,

Padarth :- (बह्मचर्येण) ब्रह्मचर्य के द्वारा जितेन्द्रिय बनकर शक्तिरक्षण के द्वारा (कन्या) एक दीप्त जीवनवाली (कन् दीप्तौ) युवति (युवानं पतिं विन्दते) युवा पति को रोग आदि बुराइयों से रहित व शक्ति आदि उत्तम गुणों से युक्त पति को (यु मिश्रणामि श्रणयोः) प्राप्त करती है एवं ब्रह्मचर्य के दो लाभों का यहाँ संकेत हुआ है (क) जीवन दीप्त बनता है तथा (ख) रोगादि दोषों से रहित व स्फूर्ति आदि गुणों से युक्त होता है। २. (ब्रह्मचर्येण ) ब्रह्मचर्य से ही (अनड्वान्) (अन: वहति) गाड़ी को खँचनेवाला बैल, तथा (अश्व:) (मार्ग अश्नुते) मार्ग का व्यापन करनेवाला घोड़ा (घास जिगीर्षति) घास को निगलने की इच्छा करता है, अर्थात् ब्रह्मचर्य के अभाव में उदरयन्त्र भी शीघ्र विकृत हो जाता है और खान-पान की शक्ति भी जाती रहती है।

(১). ব্রহ্মচর্যের মাধ্যমে জিতেন্দ্রিয় হয়ে, শক্তির সুরক্ষার মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল জীবন প্রাপ্ত এক যুবতী রোগের মতো অশুভ থেকে মুক্ত এবং শক্তির মতো ভাল গুণের অধিকারী এক যুবক স্বামী পায়। এবং এখানে ব্রহ্মচর্যের দুটি উপকারের কথা বলা হয়েছে (ক) জীবন উজ্জ্বল হয় এবং (খ) রোগ ও ত্রুটিমুক্ত এবং প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ ইত্যাদি।  (২).  ব্রহ্মচর্যের মাধ্যমেই গাড়ি টানা ষাঁড় এবং পথ চলা ঘোড়া ঘাস হজম করে, অর্থাৎ ব্রহ্মচর্যের অনুপস্থিতিতে পেটের সিস্টেমও শীঘ্রই বিকৃত হয়ে যায় এবং খাওয়া-দাওয়ার ক্ষমতাও চলে যেতে থাকে।

Bhavarth(হিন্দি): ब्रह्मचर्य के दीप्ति, निर्दोषता व शरीर के अवयवों का ठीक से कार्य करते रहना- ये लाभ हैं, अतः इसका महत्त्व स्पष्ट है।

Brahmachary ke deepti, nirdoshata va shareer ke avayavon ka theek se kaary karate rahana- ye laabh hain, atah isaka mahattv spasht hai

ব্রহ্মচর্যের তেজ, নির্দোষতা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যকারিতা উপকারী, তাই এর গুরুত্ব স্পষ্ট।

দয়ানন্দ স্বরস্বতী থেকে ইংরেজিতে আচার্য বৈদ্যনাথ শাস্ত্রী কর্তৃক অনূদীত,

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

Bhavarth: A maiden living in chastity by controlling her senses wins for her husband ship a young bachelor of similar qualifications. Even bulls, horses and beasts nourish themselves with fodder and keep their sexual appetite in control.

বাংলাঃ তার ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ করে সতীত্বে থাকা কোনো কন্যা(অবিবাহিত) তার একই ধরনের যোগ্যতার একজন তরুণ পুরুষ স্বামী হিসেবে জয়লাভ করে। এমনকি ষাঁড়, ঘোড়া এবং জন্তুরা ব্রহ্মচর্য দিয়ে নিজেদের পুষ্ট করে এবং তাদের যৌন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তুলসীরাম,

Only by Brahmacharya does the virgin maiden find a youth as husband. Even the bull and the horse can eat and digest grass by natural Brahmacharya.

শুধুমাত্র ব্রহ্মচর্য দ্বারা কুমারী কন্যা স্বামী হিসাবে যুবক খুঁজে পায়।  এমনকি ষাঁড় এবং ঘোড়াও প্রাকৃতিক ব্রহ্মচর্যের মাধ্যমে ঘাস খেতে এবং হজম করতে পারে।

উপরে লাল মার্ক করা অংশগুলো সংস্কৃতে নেই। যদি অ্যাপোলোজিস্টরা বিশ্বাস করতে চায় তাহলে এটাও মানতে হবে, শিশুকাল থেকে মেয়েরা তাদের সমগুণসম্পন্ন শিশু স্বামীর সেবা করবে।

জোক্সটা আবার শোনাইঃ

শুধুমাত্র ব্রহ্মচর্য দ্বারা কুমারী কন্যা স্বামী হিসাবে যুবক খুঁজে পায়।

পাঠক কি এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন?

অথর্ববেদ ১১/৫/১৮ নিয়ে আর্যসমাজের ঐতিহাসিক ভণ্ডামি

হিন্দু অ্যাপোলোজিস্টদের একটি ব্লগে তারা লিখেছে,

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

আমরা আগেই অনার্যসমাজ, আর্যসমাজ উভয় অনুবাদই দেখেছি।

  1. উপরে দয়ানন্দ স্বরস্বতীর অনুবাদও দেখেছি, অনুবাদটা মিলিয়ে দেখুন তো। একাধিক শব্দ যেমনঃ “শুধু”, “কেবল” যুক্ত করে পুরো বাক্যের অর্থ বদলে দেওয়া যায়!
  2. ঋগ্বেদ ১/১৭৯/১ এ দয়ানন্দ স্বরস্বতীর ভাষ্যে বাল্যবিবাহ অস্তিত্বশীল। তাহলে দয়ানন্দ স্বরস্বতীর আর ক্রেডিট রইলো কোথায়? ক্রেডিট তাদের, যারা এই ভণ্ডামির সাথে যুক্ত। দয়ানন্দ স্বরস্বতীকেও ক্রেডিট দেওয়া যায় হালকা পাতলা, কারণ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড খাটিয়ে সত্যার্থ প্রকাশ বইয়ে উল্টোদিকে দৌড় লাগিয়েছেন তিনি।
  3. আচ্ছা উক্ত ব্লগের অনুবাদ সঠিক ধরে নিলেও, এখানে ‘বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ’ মর্মে কিছু পেয়েছেন? আমি যা দেখছি তা হলো ব্রহ্মচারী পুরুষকে বিয়ে করার জন্য মেয়েকেও ব্রহ্মচর্য করতে হবে। তুলসীরামের অনুবাদে ‘শুধুমাত্র ব্রহ্মচর্যের দ্বারাই’ কোনো মেয়ে ব্রহ্মচারী পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে।

এর মাধ্যমে কি প্রমাণ হয় বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ?

আর ব্রহ্মচর্যের রেফারেন্স দিয়ে সামগ্রিকভাবে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ বলাটা একটা কুযুক্তি। কারণ ব্রহ্মচর্য সবার জন্য ‘বাধ্যতামূলক নয়’। প্রচলিত কথা হলো আর ব্রহ্মচর্যের সময় ‘কাম’ থেকে দূরে থাকতে হয়, তখন বিবাহের কথা আসবে কেন?

(ক্যাটেগরি এরর ফ্যালাসি), অবশ্য আর্যসমাজীরা বিভিন্ন জালিয়াতি, অনুবাদে জালিয়াতি, নতুন নতুন ব্যাখ্যা, ভাষ্য, কুযুক্তিতে উস্তাদ!

ব্রহ্মচর্য মানেই কি যৌনতা নিষিদ্ধ?

উপনিষদে দেখা যায় রাতের বেলায় বা মেয়েদের ঋতুকালে সেক্স করাকেই ব্রহ্মচর্য বলা হচ্ছেঃ[16]প্রশ্ন উপনিষদ ১/১৪, শঙ্করভাষ্যসহ, অনুবাদঃ দুর্গাচরণ সাংখ্য বেদান্ততীর্থ

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

একই কথা স্কন্দপুরাণেও আছে,

14. A person who approaches his wife only on the specific days after menstruation and who is attached only to his wife, should be known as a perpetual Brahmacārī (celibate) and a good householder.[17]The Skanda Purana, Book 4 – Kāśī-khaṇḍa, Section 1 – Pūrvārdha, Chapter 38, Verse 14 https://www.wisdomlib.org/hinduism/book/the-skanda-purana/d/doc423776.html

তাহলে আর্যসমাজীদের অনুবাদের জায়গায় জায়গায় ব্রহ্মচর্য শব্দ ঢুকিয়ে কোনো লাভ হয় নি!

অথর্ববেদই বাল্যবিবাহের দিকে নির্দেশ করছে!

দেখুন উপরে অথর্ববেদে লিখা ব্রহ্মচর্যের মাধ্যমে অবিবাহিত মেয়ে স্বামী খুঁজে পায়। ঠিক আছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে হিন্দুধর্মে অবিবাহিত মেয়ের ব্রহ্মচর্য ১০/১২ বছর পর্যন্তই লিমিট।

दशवार्षिकं ब्रह्मचर्यं कुमारीणां द्वादशवार्षिकं वा

দশবর্ষিকম ব্রহ্মচর্য কুমারীনাম্ দ্বাদশবর্ষিকম ভা

কুমারীদের ব্রহ্মচর্য ১০ বা ১২ বছর পর্যন্ত।[18]কথকগৃহ্যসূত্রম, (লৌগিক গৃহ্যসূত্র ১৯.২) https://sa.wikisource.org/wiki/काठकगृह्यसूत्रम्

অর্থাৎ, অথর্ববেদও বাল্যবিবাহ সমর্থিত। পাণ্ডেরাং বামন কানে তার ধর্মশাস্ত্র কা ইতিহাস কিতাবে এই সূত্রের এই অর্থই ধরেছেনঃ[19]ধর্মশাস্ত্র কা ইতিহাস, খণ্ড ১, পৃ ২৭৬ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.262932/page/n298/mode/1up?view=theater

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

এ কারণেই মনুসংহিতায় বলা,

৩০ বছরের পুরুষ ১২ বছরের মেয়ে বিয়ে করবে, ২৪ বছরের পুরুষ ৮ বছরের মেয়েকে বিয়ে করবে।[20]মনুসংহিতা ৯/৯৪

হিন্দুদের কোনো শাস্ত্রই মেয়েদেরকে ১২ বছরের বেশি অবিবাহিত রাখার অনুমতি দেয় না। আরও কিছু শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেখি চলুন…

বৈদিক ধর্মসূত্রে বাল্যবিবাহ

বেদে যদি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধই থাকতো তাহলে বৈদিক আর্যদের আইনশাস্ত্রে বাল্যবিবাহের বাধ্যবাধকতা থাকতো না।

এই মর্মে আমাদের পূর্বপোস্ট দেখুনঃ

গৌতম ধর্মসূত্রে বাল্যবিবাহ

গৌতম ধর্মসূত্র হিন্দুদের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ, যা [হিন্দুদের দাবি অনুসারে] সামবেদের অনুসারীদের দ্বারা খ্রিস্টপূর্ব ৬০০-২০০ এর মধ্যে রচিত। গৌতমসূত্রে মেয়েদের বিবাহের বয়স,

(পিতা প্রভৃতি আত্মীয় কর্তৃক প্রদত্ত না হইলে) কুমারী তিনটী ঋতু অতিক্রম করিযয়া পিতৃদত্ত অলঙ্কার গুলি পরিত্যাগ করিয়া স্বয়ং কোন অনিন্দিত পাত্রের সহিত যুক্ত হইবে। ঋতু দর্শনের পূর্ব্বেই কন্যাদান করিবে। ঋতুদর্শনের পূর্ব্বে কন্যাদান না করিলে কন্যার অভিভাবক পাপী হইবে। কেহ কেহ বলেন, কন্যা নগ্নিকা অবস্থায় অর্থাৎ ঋতুমতী হইবার পূর্ব্বেই উহাকে প্রদান করিবে।[21]ঊনবিংশতিসংহিতা, গৌতমসংহিতা ১৮:২০-২৩, অনুবাদঃ তর্কানন পঞ্চরত্ন

অর্থাৎ, কন্যাকে ঋতুবতী হওয়ার আগে বিয়ে না দিলে পিতা পাপী হবে। কারও মতে, কন্যার ল্যাংটাকালেই(ছোট বাচ্চাদের খেলাধুলার বয়স) বিয়ে দিতে হবে। পিতা এই কাজে অবহেলা করলে তিন ঋতু পার হলে মেয়ে নিজেই বিয়ে করে নেবে।

বৌধায়ন ধর্মসূত্রে বাল্যবিবাহ

বৌধায়ন ধর্মসূত্র হিন্দুদের অতিপ্রাচীন গ্রন্থ, [হিন্দুদের দাবি অনুসারে] প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ বছর আগে কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় শাখার অনুসারীদের দ্বারা রচিত। বৌধায়ন সূত্রে বলা হয়েছে,

11. Let him give his daughter, while she still goes naked, to a man who has not broken the vow of chastity and who possesses good qualities, or even to one destitute of good qualities; let him not keep (the maiden) in (his house) after she has reached the age of puberty.

12. He who does not give away a marriageable daughter during three years doubtlessly contracts a guilt equal to (that of) destroying an embryo.

13. Such will be the case if anybody asks her in marriage, and also if nobody demands her. Manu has declared that at each appearance of the menses (the father incurs the guilt of) a mortal sin.[22]বৌধায়ন ধর্মসূত্র ৪:১:১১-১৩

কন্যাকে ঋতুবতী হওয়ার পরেও ঘরে রাখা পিতার জন্য পাপ, ভ্রুণহত্যার সমতুল্য পাপ।

বসিষ্ঠ ধর্মসূত্রে বাল্যবিবাহ

‘Out of fear of the appearance of the menses let the father marry his daughter while she still runs about naked. For if she stays (in the house) after the age of puberty, sin falls on the father.”[23]বসিষ্ঠসংহিতা ১৭:৭০

সুশ্রুতসংহিতায় কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ?

হিন্দু অ্যাপোলোজিস্টদের সেই দলটি আবার সুশ্রুতসংহিতা থেকেও রেফারেন্স দিয়েছে (মূলত দয়ানন্দ স্বরস্বতীর ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ বইয়ের তাক্বিয়াবাজির কপিপেস্ট),

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

এখানে ভণ্ডামি খুবই স্পষ্ট।

i. এখানে গর্ভধারণের কথা বলা হয়েছে, বিবাহের নয়।

ii. সাধারণভাবে পঁচিশ বছরের কম পুরুষের ঔরসে ষোল বছরের কমের মেয়েদের গর্ভে মৃত ভ্রুণ হওয়া এসব – এটার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটা প্রচার করা মূলত আয়ুর্বেদকেই রোস্ট করা!

iii. তারা পুরো পাতা দেখায় নি। আমি দেখাচ্ছি,

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?
সুশ্রুতসংহিতা, শরীরস্থান ১০:৪০-৪৩

তাহলে হিন্দুদের কাল্পনিক ঋষি সুশ্রুতই বলছে ১২ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে![24]সুশ্রুতসংহিতা, শরীরস্থান ১০:৪০-৪৩, পৃ ৪০৫

ইংরেজি অনুবাদ: The Sushruta Samhita, Page 232 – 233
আগেই বলেছিলাম ১২ বছরের বেশি বয়ষ্ক মেয়েকে অবিবাহিত রাখার নিয়ম নেই।

মহাভারতে বাল্যবিবাহ

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?
মহাভারত অনুশাসন পর্ব(১৩),৪৪:১৩

অর্থাৎ, ৩০ বছরের পুরুষ ১০ বছরের মেয়েকে, আর ২১ বছরের পুরুষ ৭ বছরের মেয়েকে বিয়ে করবে।[25]মহাভারত অনুশাসন পর্ব(১৩),৪৪:১৩

অন্যান্য স্মৃতিশাস্ত্রে বাল্যবিবাহ

অন্যান্য শাস্ত্রেও বাল্যবিবাহ এসেছে,

সংবর্ত্তসংহিতায় বাল্যবিবাহ

বিস্তারিত দেখুনঃ

(অবিবাহিত কন্যার) গাত্রে লোম দেখা যায় এতাদৃশ বয়ঃক্রম হইলে, ঐ কন্যাকে চন্দ্র উপভোগ করেন, ঋতুকাল উপস্থিত হইলে গন্ধৰ্ব্বগণ উপভোগ করেন, স্তনদ্বয় উত্থিত হইলে বহ্নি উপভোগ করেন। অষ্টমবৎসরবয়স্ক অবিবাহিত কন্যা গৌরী, নবমবৰ্ষবয়স্ক রোহিণী, এবং দশমবর্ষবয়স্ক কম্ভক নামে খ্যাত; একাদশ বৎসর কষ্ঠার বয়ঃক্রম হইলে রজস্বলা বলিয়া খ্যাত হয় । কস্তা রজস্বলা হইলে অর্থাৎ কন্যার একাদশবর্ষে বিবাহ না হইলে, মাতা, পিতা, এবং জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এই তিন জন নরকে গমন ফরে। সেই হেতু যে পর্য্যস্ত কষ্ঠা ঋতুমত না হয়, তাহার মধ্যে কন্যার বিবাহ প্রশস্ত জানিবে।[26]সংবর্ত্তসংহিতা  ৬৫-৫৮, ঊনবিংশতি সংহিতা পৃ ৩০২ – WikiSource

পরাশরসংহিতায় বাল্যবিবাহ

বিস্তারিত দেখুনঃ

অষ্টমবর্ষীয়া কন্যাকে গৌরী, নবমবর্ষীয়াকে রোহিণী এবং দশম বর্ষীয়াকে কন্যা বলা যায়। দশম বর্ষের পর কন্ঠাকে রজস্বলা বলা যায়। কন্যার দ্বাদশ বৎসর বয়ঃক্রম হইলেও যদি কন্যা সম্প্রদত্তা না হয়, তবে তাহার পিতৃগণ মাসে মসে তাহার ঋতুশোণিত (ঋতুস্রাবের রক্ত) পান করিয়া থাকে। কন্যাকে (অবিবাহিতাবস্থায়) রজস্বলা হইতে দেখিলে তাহার মাতা পিতা ও জ্যেষ্ঠভ্রাতা তিনজনেই নরকগামী হয়।[27]পরাশরসংহিতা ৭:৭-৯, ঊনবিংশতি সংহিতা পৃ ৩৬৮–৩৬৯, অনুবাদঃ শ্রী পঞ্চানন তর্করত্ন

যমসংহিতায় বাল্যবিবাহ

যেই ব্যক্তি দ্বাদশবর্ষ বয়ঃক্রম হইতেছে দেখিয়াও কন্যা অর্পণ না করে, ঐ পিতা, সেই কন্যার মাসে মাসে যে রজ হয়, সেই রক্তপান করিয়া থাকে অর্থাৎ তত্তুল্য পাপী হয়। মাতা পিতা জ্যেষ্ঠ-ভ্রাতা কন্যা বা ভগিনীকে বিবাহ হইবার পূর্ব্বে রজস্বলা (একাদশবধবয়স্কা) হইতে দেখিলে, তাহারা তিনজনেই নরকে গমন করে । যে ব্রাহ্মণ মদমোহিত হইয়া সেই রজস্বলা কন্যাকে বিবাহ করে, সেই বৃষলীপতি ব্রাহ্মণের সহিত সম্ভাষণ ও পংক্তিভোজন নিষিদ্ধ । বন্ধ্যাকে বৃষলী বলিয়া জানিবেন, মৃতবৎসাও বৃষলী। আর শূদ্রভার্য্যা বৃষলী এবং কুমারী অবস্থায় রজস্বলা নারীকে বৃষলী বলিয়া জানিবে।[28]ঊনবিংশতি সংহিতা, যমসংহিতা ২২-২৪

ব্যাসসংহিতায় বাল্যবিবাহ

বিস্তারিত দেখুনঃ

যদ্যপি কন্যা দাতার অনবধানতা বশতঃ অবিবাহিতাবস্থায় ঋতুমতী হয়, তাহা হইলে ভ্রূণহত্যার পাতক হয়। ঋতুকালের পূর্ব্বে যে ব্যক্তি কন্যাদান না করে, সে পতিত হয়।[29]ব্যাসসংহিতা ২:৬-৭, ঊনবিংশতি সংহিতা, অনুবাদ শ্রী পঞ্চানন তর্করত্ন, পৃ ৩৯৩

বিষ্ণুসংহিতায় বাল্যবিবাহ

বিস্তারিত দেখুনঃ

তিনবার ঋতুদর্শন-পর্য্যন্ত অপেক্ষা করিয়া কন্যা স্বয়ংবর করিবে। কেননা তিনবার ঋতু দর্শন, হইয়া গেলে কন্যা আপনার উপর প্রভুত্বসম্পন্ন হয়। যে কন্যা অবিবাহিতা-অবস্থায় পিতৃগৃহে রজোঃ-দর্শন করে, সেই কন্ঠা বৃষলী বলিয়া জ্ঞাতব্যা। তাহাকে হরণ করিলে দোষী হইতে হয় না।[30]বিষ্ণুসংহিতা ২৪:৪০-৪১

পুরাণে বাল্যবিবাহ

পুরাণে হিন্দু ভগবানদের বাল্যবিবাহ সুস্পষ্ট। বাল্যাবস্থার মেয়েকে দেখে হরণ করতে চাওয়া, ইত্যাদি ফুটে উঠেছে।

কৃষ্ণ-রুক্মিণীর বাল্যবিবাহ

রুক্মিণীর যখন ৮ বছর বয়স তখন তার বিয়ে হয়। বাসররাতে যৌনসহবাস করতে করতে চরম উত্তেজিত হয়ে রুক্মিণী অজ্ঞান হয়ে যায়। এই মর্মে আমাদের পূর্বের লেখা দেখুনঃ

রাম-সীতার বাল্যবিবাহ

সীতার যখন ছয় বছর বয়স তখন হিন্দু ভগবান রাম তাকে বিয়ে করে।[31]স্কন্দপুরাণ: ৩য় খণ্ড (ব্রহ্মখণ্ড): ধর্ম্মারণ্যখণ্ডম্: ত্রিংশোধ্যায়: ১-৮ পৃ ১৮৫৯-১৮৬০

বেদে কি বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ? নাকি বাধ্যতামূলক?

রাম-সীতার বিয়ের বয়স নিয়ে আমরা পড়ে আলোচনা করবো। হতাশার কিছু নেই। পুরাণে আরও অনেক জায়গাতেই বাল্যবিবাহের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেগুলোর আলাপ আরেকদিন।

শেষে এটাই বলা যায়, মেয়েকে ঋতুর আগে বিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক।

    Footnotes

    Footnotes
    1আর্য সমাজদের বেদের অনুবাদে জালিয়াতি পর্ব ১, পর্ব ২
    এই লেখাগুলোতে তাদের জালিয়াতি দেখা যাবে। তাছাড়াও আমাদের পূর্ব লেখায় তাদের জালিয়াতি স্পষ্টঃ

    2WisdomLib
    3ঋগ্বেদ সংহিতা ১/১৭৯/১, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত, ১৮৮৫ সালে অনুবাদকৃত, ১৯০৯ ২য় সংস্করণ, প্রকাশকঃ শ্রী লক্ষ্ণীকান্ত পাত্র, মুদ্রণঃ কলিকাতা, এলম্ প্রেসঃ ৬৩নং বিডন স্ট্রিট
    4Rigveda 10:CLXXIX:1 – Sacred-texts
    5Rig Veda 1.179.1,  H. H. Wilson, 1866
    6Rigved Bhashya Rishi DayanandPage 1848
    7হিন্দুধর্মে মিথ্যাচারের বৈধতা
    8Rig veda, part 3, page 248-249, Rig veda 1/179/1 https://archive.org/details/rig-ved-bhashya-bhumika-eng-allof-3parts-merged/RigVed%20Dharmdev%20ji%20Eng%203/page/248/mode/1up?view=theater
    9Rigveda Vol I, 1:179:1, Tr. by Tulsiram, Aryasamaj Elibrary
    10WisdomLib
    11Rig veda 3:VIII:4 – Sacred-texts
    12Rig veda 3.8.4 – H.H. Wilson – Wisdomlib
    13Rigveda, Vol 3, page 664
    14WisdomLib
    15অথর্ববেদ সংহিতা, ১১শ কাণ্ড ৩ অনুবাক, সুক্ত ২, ভার্স ৭
    16প্রশ্ন উপনিষদ ১/১৪, শঙ্করভাষ্যসহ, অনুবাদঃ দুর্গাচরণ সাংখ্য বেদান্ততীর্থ
    17The Skanda Purana, Book 4 – Kāśī-khaṇḍa, Section 1 – Pūrvārdha, Chapter 38, Verse 14 https://www.wisdomlib.org/hinduism/book/the-skanda-purana/d/doc423776.html
    18কথকগৃহ্যসূত্রম, (লৌগিক গৃহ্যসূত্র ১৯.২) https://sa.wikisource.org/wiki/काठकगृह्यसूत्रम्
    19ধর্মশাস্ত্র কা ইতিহাস, খণ্ড ১, পৃ ২৭৬ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.262932/page/n298/mode/1up?view=theater
    20মনুসংহিতা ৯/৯৪
    21ঊনবিংশতিসংহিতা, গৌতমসংহিতা ১৮:২০-২৩, অনুবাদঃ তর্কানন পঞ্চরত্ন
    22বৌধায়ন ধর্মসূত্র ৪:১:১১-১৩
    23বসিষ্ঠসংহিতা ১৭:৭০
    24সুশ্রুতসংহিতা, শরীরস্থান ১০:৪০-৪৩, পৃ ৪০৫

    ইংরেজি অনুবাদ: The Sushruta Samhita, Page 232 – 233

    25মহাভারত অনুশাসন পর্ব(১৩),৪৪:১৩
    26সংবর্ত্তসংহিতা  ৬৫-৫৮, ঊনবিংশতি সংহিতা পৃ ৩০২ – WikiSource
    27পরাশরসংহিতা ৭:৭-৯, ঊনবিংশতি সংহিতা পৃ ৩৬৮–৩৬৯, অনুবাদঃ শ্রী পঞ্চানন তর্করত্ন
    28ঊনবিংশতি সংহিতা, যমসংহিতা ২২-২৪
    29ব্যাসসংহিতা ২:৬-৭, ঊনবিংশতি সংহিতা, অনুবাদ শ্রী পঞ্চানন তর্করত্ন, পৃ ৩৯৩
    30বিষ্ণুসংহিতা ২৪:৪০-৪১
    31স্কন্দপুরাণ: ৩য় খণ্ড (ব্রহ্মখণ্ড): ধর্ম্মারণ্যখণ্ডম্: ত্রিংশোধ্যায়: ১-৮ পৃ ১৮৫৯-১৮৬০

    ইন্দো আর্য

    [ছদ্মনামে লিখি] Join: t.me/HinduDhormo
    5 4 votes
    Article Rating
    Subscribe
    Notify of
    guest
    0 Comments
    Inline Feedbacks
    View all comments
    Back to top button