ইতিহাস

বৃটিশোত্তর নাটোরে প্রথম গোরু কুরবানি – ১৯৫৬!

হিন্দু রাজাদের অত্যাচার থেকে মুক্তির পর নাটোরে প্রথম গোরু কুরবানি

বৃটিশোত্তর নাটোরে প্রথম গরু কুরবানী (১৯৫৬)

বৃটিশরা চলে গিয়েছে সেই ১৯৪৭ সালে। নাটোর এখন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু জমিদারী যুগের সেই প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। মুসলিমরা সমাজের দুর্বল শ্রেণী। রাজারা (সাবেক জমিদার) মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে আসেন। তাদের পাইক পেয়াদারা এলকায় আগের মতই প্রভাবশালী।

রাণী ভবানীর দেশ বলে কথা। এখানে গরু কুরবানী ছিল অকল্পনীয়। জমিদারি যুগে এটা সাক্ষাৎ মৃত্যুপরোয়ানা জোটার মত অপরাধ। আর গরুর মাংস খেলে ভয়ানক সব ব্যাধি হবে এমন ধারণা স্হানীয় নিরক্ষর মুসলিমদের মধ্যে বধ্যমূল করে দেয়া হয়েছিল।

এমতাবস্থায় এলাকায় এলেন পাকিস্তান সরকারের আমলা তার কর্মোদ্দীপনার জন্য পাগল নামে পরিচিত এসডিও পি.এ নাজির। তিনি সর্বপ্রথম এক কলেজ উদ্বোধন উপলক্ষে নাটোরের বুকে গরু জবাই করে বিরিয়ানি করলেন। মুসলিম নেতারা নানা ছুতোয় গরুর মাংস এড়াতে চাইলো। নাজির সাহেব এক রকম হুমকির মুখে তাদেরকে জনসম্মুখে গোমাংস খাওয়ালেন।

নাটোরে এসে বাস করছিল নোয়াখালী থেকে আগত কিছু মুসলিম কৃষিকর্মী। এসডিওর কাজে তারা সাহস পেলো। তারা সিদ্ধান্ত নিল সামনের কুরবানী তারা গরু দিয়ে দেবে।

পুরো নাটোরে থমথমে পরিস্থিতি শুরু হলো। হিন্দু নেতারা পিএ নাজিরের কাছে গরু কুরবানী বন্ধের জন্য লিখিত আবেদন করলো। নাজির সাহেব জানালেন গরু কুরবানী মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার। তিনি এতে বাধা দিতে পারেন না। শুধু বলতে পারেন চলাচলের জায়গায় গরু জবাই না দিতে। তাছাড়া প্রাচীনকালে হিন্দু ঋষিরা গোমেধযজ্ঞ করতো বলে নাজির সাহেব হিন্দু নেতাদের জানালেন। কাজ না হওয়ায় তারা উপরে অভিযোগ দিলো। নাজির সাহেব ঊর্ধ্বতনদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেন…

এরপর এলো নতুন ছুতো। কাক চিলে এসে গরুর হাড় ফেলে হিন্দুদের বাড়ি অপবিত্র করতে পারে। নাজির সাহেব জানিয়ে দিলেন কাক চিলের উপর ১৪৪ ধারা জারির ক্ষমতা তার নাই। তাছাড়া ভাগাড় থেকে তো কাক চিল নিয়মিতই গরুর হাড় আনছে। তাতে যেহেতু সমস্যা হচ্ছে না, মুসলিমদের কুরবানীর গরুর হাড়েও সমস্যা হওয়ার কথা না…

অবশেষে পলাশীর প্রায় দুইশত বছর পর নাটোরের বুকে গরু কুরবানীর মাধ্যমে পালিত হলো পবিত্র ঈদ- উল – আযহা।

এই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে ‘স্মৃতির পাতা থেকে’ বইয়ের ৩৬-৩৯ পৃষ্ঠায়,

বৃটিশোত্তর নাটোরে প্রথম গোরু কুরবানি - ১৯৫৬! বৃটিশোত্তর নাটোরে প্রথম গোরু কুরবানি - ১৯৫৬! বৃটিশোত্তর নাটোরে প্রথম গোরু কুরবানি - ১৯৫৬! বৃটিশোত্তর নাটোরে প্রথম গোরু কুরবানি - ১৯৫৬!

সামনে ঈদ-উল-আজহা। মানুষের মুখে মুখে চাপা সুরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে-এ বছর গরু কোরবানী দেওয়া হবে। অন্যদিকে হিন্দু উকিল-মোক্তারদের একটু চিন্তাগ্রস্তই মনে হচ্ছিল। জটাধারী এক সাংবাদিক যিনি ঢাকার ইত্তেফাক ও কলকাতার আনন্দবাজারের রিপোর্টার, ঘনঘন কোর্ট-বিল্ডিং এর আশে-পাশে ঘুর ঘুর করছেন। সম্ভবত আন্দাজ করতে চেষ্টা করছেন কোরবানীর বিষয়টি। হঠাৎ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছ থেকে একটা গোপনীয় চিঠি পেলাম। এতে বলা হয়েছে যে, ঈদের নামাজের সময় যাতে শান্তি-শৃংখলা বজায় থাকে এবং বিশেষ করে কোরবানীর ব্যাপারে যাতে শান্তি-শৃংখলা ভঙ্গ না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে। ভাবলাম এখানে এর আগে কোরবানী নিয়ে কোন বিবাদ-বিসংবাদ হয়েছে বলে তো শুনিনি। তাহলে এই অগ্রিম দুঃশ্চিন্তা কেন? যাহোক, আমার নিজের অফিসারদের নিয়ে একটা মিটিং করলাম। নানাভাবে জানবার চেষ্টা করলাম যে, শান্তি ভঙ্গের কোন আশংকা আছে কিনা? কিন্তু কেউই সে রকম কোন কথা বললেন না। ব্যাপারটা নিজের মাথায় রেখে দিয়ে চুপচাপ থাকলাম। মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, শহরে গরু কোরবানী হয় কিনা এবং হলে কি রকম হয়, খুব ধুমধাম করে হয় নাকি?‘ জবাবে তিনি বললেন, ‘এটাতো রাণী ভবানীর শহর, এখানে গরু কোরবানী হয় না। যারা পারে ছাগল, ভেড়া কোরবানী করে। গ্রামের দিকেও তেমন একটা শোনা যায় না কোরবানীর কথা।’ সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার কি মতলব?’ তিনি একটু বেকায়দায় পড়ে গেলেন সত্য, কিন্তু তাড়াতাড়ি সামলে নিয়ে বললেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমি কোরবানী দেব। ঈদের দিন সন্ধ্যায় আমার বাড়ী আপনাকে আসতে হবে। ধন্যবাদ জানালাম তাঁকে দাওয়াতের জন্য।

ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকী। মিউনিসিপ্যাল চেয়ারম্যান, উকিল, মোক্তার, একজন ডাক্তার এবং সেই জটাধারী সাংবাদিক (চেয়ারম্যান ছাড়া সকলেই হিন্দু) আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। জিজ্ঞেস করলাম-‘কি ব্যাপার?’ তাঁরা বললেন ‘স্যার, আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপনার কাছে এসেছি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।’‘বলুন।’‘স্যার শহরের দক্ষিণ দিকে নোয়াখালী থেকে আসা কতগুলো মানুষ বসতি স্থাপন করেছে। এরা চাষ করে খায়। প্রকাশ্যে এরা গরু জবাই করে কোরবানী দেবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা ভয় করছি তারা রায়ট বাধাবার ষড়যন্ত্র করছে। স্যার, আমরা যুগ যুগ ধরে এখানে বাস করে আসছি- এরকম অনাসৃষ্টি কোনদিন হয়নি। তাছাড়া এটা রাজা-মহারাজাদের শহর, মিউনিসিপ্যাল এলাকার মধ্যে এই জাতীয় কাজ হলে আমরা সংখ্যালঘুরা বাস করব কিভাবে? আপনি মহকুমার অধিকর্তা, আপনার কাছে আমরা আকুল আবেদন করছি যাতে গরু কোরবানী বন্ধ করা হয়।’ একটা পিটিশনও তাঁরা এনেছিলেন। সেটি আমার হাতে তুলে দিলেন। পড়ে দেখলাম মুখে যা যা বলেছেন মোটামুটি তাই লেখা আছে। আর্জির কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রাদেশিক অর্থমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধরের বরাবরে পাঠান হয়েছে। হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা ডিএম এবং কমিশনার সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন নাকি?’ সকলেই চুপ। একটু পর উকিল বাবু বললেন, ‘হ্যাঁ স্যার, আমরা গত সপ্তাহে রাজশাহী গিয়েছিলাম। তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য।’ এতক্ষণে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেল। চেয়ারম্যান সাহেব একেবারে চুপ। আস্তে-ধীরে বললাম যে, ‘কোরবানী করা মুসলমান বিত্তবানদের ধর্মীয় অবশ্য কর্তব্য। ছাগল-ভেড়া মাত্র একজন লোক কোরবানী করতে পারে। গরু-মহিষ হলে অন্তত সাত জন ভাগাভাগি করে তাদের এই অবশ্য করণীয় কাজটি সমাধা করতে পারে। তাদের এই ধর্মীয় অবশ্য করণীয় কাজ করতে সরকার বাধা দেবে কেমন করে? তাছাড়া, তারাতো যে যার বাড়ীর সামনে বা কোন খোলা জায়গায় কোরবানী দেবে। আপনাদের তাতে আতঙ্কিত হবার তো কিছু দেখি না।’ হঠাৎ জটাধারী সাংবাদিক বলে উঠলেন, ‘স্যার, গরু হিন্দুদের পূজণীয়, তাদের দেবতাস্বরূপ। সুতরাং গরু হত্যা করলে আমাদের মনে প্রচন্ড আঘাত লাগবে। সেজন্য এটাকে এড়িয়ে গেলে তো সব ঝামেলা চুকে যায়।’ বললাম, ‘দেখুন হিন্দুরা তাদের আদিযুগে অর্থাৎ আর্যদের যুগে, মুণি-ঋষিদের যুগে ‘গোমেধ যজ্ঞ’ করতেন, সোমরস আর গো শাবকদের মাংস ভক্ষণ করতেন। আমি প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে সে কথাইতো বইপত্রে পড়ে এসেছি। আর নিকট অতীতের কথা ধরতে গেলে বলতে হয় গত সাত শত বছর ধরে মুসলমানরা গরু জবাই করে তার গোস্ত খেয়ে এসেছে আর হিন্দুরা সেই গোমাতার পূজা করে এসেছে। এই দ্বন্দ্ব বেচারা নাটোরের এসডিও কিভাবে সমাধান করবে? একদিকে সংযম অন্যদিকে সহনশীলতা সমস্যাটির একমাত্র সমাধান। আমার তো আর কিছু জানা নেই সমস্যাটির সমাধান সম্বন্ধে।’ তাঁরা বললেন, ‘স্যার, এতদিন মুসলিমরা গরু কোরবানী না দিয়ে পারল আর আজ গরু কোরবানীর জন্য জিদ করছে কেন!’

-‘দেখুন জিদের ব্যাপর নয়। আপনারা আপনাদের ধর্মীয় অনুশাসন বাদ দেবেন কিনা চিন্তা করে দেখুন। এতদিন তারা ছিল মৃত্যুদন্ডের ভয়ে ভীত। তারপর গরু খেলে রোগ হয়- ভীতিও ছিল। এক কথায় তারা একটা অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এখন তারা বুঝতে পারছে যে, ধর্মীয় বিধান পালন করার জন্য সৃষ্টিকর্তা সহজ পন্থা বাতলিয়ে দিয়েছে। সুতরাং সে কাজে বাধাদান কিভাবে সম্ভব? অনেকক্ষণ কথাবার্তা হবার পর তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হল যে, রায়ট তারা করবে কেন? তারা তো গরু কোরবানী করে নিয়ম মত অন্যদের দেবে আর নিজেরা খাবে। কেউ যদি সে কাজে বাধা দেয় তখনই রায়টের প্রশ্ন আসে। সুতরাং রায়ট হলে মনে করব তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এবং সে বাধা নিশ্চয় কোন মুসলমান দেয়নি। তবে আপনাদের বাড়ীর সংলগ্ন জায়গায় বা সাধারণ মানুষ চলাচলের রাস্তার উপর যাতে কোরবানী না দেওয়া হয় সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’ যহোক, তাঁরা চলে গেলেন। সিআই পুলিশ ও আনসার এ্যাডজুটেন্টকে ডাকলাম। খোঁজ-খবর নিয়ে জানলাম শহরে এই প্রথমবারের মত গরু কোরবানী হবে।

ঈদের দিনের আগের সন্ধ্যায় মুন্সেফ সাহেব ও আমার সেকেন্ড অফিসারকে বলে দিলাম, ‘শহরের প্রধান জামাতে আমি উপস্থিত থাকবো না। সাত-আট মাইল দূরে এক গ্রামের ঈদগাহে নামাজ আদায় করব।’ পরদিন ভোরে চলে গেলাম একটা পিয়নকে সঙ্গে করে ওই গ্রামের ঈদগাহে। এই ঈদগাহটি হল একটা খালের ওপাড়ে। যখন আমি খালের এপাড়ে হাজির হলাম। ওপাড়ের জামাত থেকে মানুষগুলো চিৎকার করছে, ‘এসডিও সাহেব কি জয়।’ খাল পেরিয়ে বকাবকি করলাম এদেরকে। ইমাম সাহেবকে বললাম, তিনি তো এদেরকে একটু নসিহত করলে পারতেন। ঈদের জামাতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারো কোন প্রশংসা একজন মুসলমান কিভাবে করে? তাছাড়া বিগত চল্লিশের দশকের সেই ‘জিন্দাবাদ’ আর ‘জয়’-এর দ্বন্দ্বের পর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ন’বছর পরেও ঈদের জামাতে ‘জয়’ শোনার জন্য মনটা সত্যিই তৈরী ছিল না। ঈদের জামাত, তাই নিজেকে সংযত করতেই হল। সবাইকে নিয়ে সরবে আউড়াতে লাগলাম ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহ আকবার, আল্লাহ আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ মুহূর্তে পরিবেশটি আবেগময় হয়ে উঠল।

যথারীতি ঈদের নামাজ পর্ব শেষে শহরে ফিরলাম। সব ঠিকঠাকই আছে। শহরে হ্যাঁ, রাণী ভবানীর শহরে সম্ভবত প্রথমবারের মত তিনটি গরু কোরবানী হল মৃত্যুদণ্ডের ভয় ছাড়াই। একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমার কাছে হিন্দু প্রতিনিধিরা একথাও বলেছিলেন যে, গরুর মাংস খেয়ে হাড়গুলি যেখানে-সেখানে ফেলে দিলে কাকরা মুখে করে হিন্দুদের বাড়ীতে ফেলতে পারে। এতে হিন্দুদের ধর্ম নষ্ট হয়ে যেতে পারে তারা মনে আঘাত পেতে পারে। তখন তাদের বলেছিলাম যে, ‘বেচারা এসডিও’র কোন ক্ষমতা কাক-চিলের ওপর নেই- তারা ১৪৪ ধারার তোয়াক্কা করে না।’ এ কথাও অবশ্য বলে দিলাম যে, ‘এত বছর তো মুসলমানরা গরু জবাই করেনি-কিন্তু ভাগাড় থেকে মরা গরুর হাড্ডি কুকুররা হিন্দু-মুসলমান নির্বিচারে সবার বাড়ীর আনাচে-কানাচে এনে খায় এবং ফেলে যায় এতে তো কারো মনে আঘাত পাবার কথা এ পর্যন্ত শুনিনি।’ সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান সাহেবের বাসায় দাওয়াত খেতে গেলাম। চেয়ারম্যান সাহেব বিজয়ের সুরে বললেন তেবাড়িয়ার হাট থেকে নিজে গিয়ে গরু কিনে এনেছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ‘জবাই দিলেন কোথায়?” বেচারা একটু সুর নিচু করে জবাব দিলেন, কি করবো স্যার বাড়ীর উঠানে জবাই দিয়েছি।’ বললাম, ‘সর্বনাশ, এখানে আপনার একটা গরু শোয়ানর মত জায়গা কোথায়?’ বললেন, ‘কি করবো স্যার? সবদিক দেখেই তো চলতে হয়।’ বললাম, ‘আপনি, খুব ভাল কাজ করেছেন। অন্যান্যের জন্য দৃষ্টান্ত হবে এটা। নিজের বাড়ীর লোকদের কষ্ট হলেও অন্যের মনে যাতে আঘাত না লাগে সে কাজই আপনি করেছেন। ‘ নানা আলাপ-আলোচনার মধ্যে হঠাৎ চেয়ারম্যান সাহেব আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন, ‘আমার স্ত্রী বলেছেন বাড়ীর ভেতর গরু জবাই দেয়া হল কোন অমঙ্গল হবে না তো?’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘প্রশ্নটা আপনার স্ত্রীর না আপনার?’‘না স্যার, আমি তো এসব পাত্তাই দেই না।’ বললাম, ‘আপনার স্ত্রীকে বলবেন, এসডিও সাহেব বলেছেন এ বাড়ীতে যে সব ভূত-প্রেত এতদিন ছিল, আজকের এই গরু কোরবানীর পর সব এই মহকুমা ছেড়ে পালিয়ে গেছে, আর কোন দিন তারা আসবে না।’  গরু কোরবানীর কারণে কোথাও আইন-শৃংখলার কোন রকম ব্যাঘাত ঘটেনি। আর একটি থানায়ও একটি গরু কোরবানী হয়েছিল বলে খবর পেয়েছিলাম।

    Show More
    5 1 vote
    Article Rating
    Subscribe
    Notify of
    guest
    0 Comments
    Inline Feedbacks
    View all comments
    Back to top button